২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সজল এবং রানআউট...

আব্দুন নূর সজল। দীর্ঘদিন ধরেই ছোট পর্দায় ভীষণ জনপ্রিয়। আস্তে আস্তে বড় পর্দায়ও ঝুঁকছেন তিনি। ‘নিঝুম অরণ্যে’ তাঁর অভিনীত প্রথম ছবি। ২য় ছবি তন্ময় তানসেন পরিচালিত ‘রানআউট’। সারাদেশে একযোগে মুক্তি পাচ্ছে ১৬ অক্টোবর। কতটি সিনেমা হলে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিনেমা রানআউট এবং সজলের বিভিন্ন খবরাখবর নিয়ে আরিফ আহমেদের ছবিতে বিস্তারিত লিখেছেন

সজীব আহমেদ

বড় পর্দায় একদমই নতুন সজল। অভিনেতাদের ক্ষেত্রে অবশ্য বড়পর্দা ছোটপর্দা কিংবা মঞ্চ- কোনটাই ব্যাপার না। সবই এক। সজলের ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু বাংলাদেশের দর্শকের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু ভিন্ন। তারা অনেকেই ছোটপর্দায় যাদেরকে দেখতে অভ্যস্ত নিয়মিত, তাদেরকে বড়পর্দায় মেনে নিতে কষ্ট হয়।

সজলের ব্যাপারটা কেমন হবে!

এটা নিয়ে তার কোন চিন্তা নেই। তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী নিজেকে নিয়ে, নিজের অভিনয় নিয়ে। কাটছাঁট ছাড়াই ছাড়পত্র পেয়েছে তন্ময় তানসেন পরিচালিত ছবিটি। গত রোজার ঈদের আগেই এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়ার কথা ছিল। তন্ময় তানসেন বললেন, ‘গত ৩১ মার্চ সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র হাতে পেয়েছি। রোজার ঈদের আগে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেভাবেই আমরা এগোচ্ছি।’ তবে, বিভিন্ন কারণে তা হয়ে ওঠেনি।

এবার হবে। মুক্তি পাবে ‘রানআউট’, আগামী ১৬ অক্টোবর। ছবিটিতে সজল ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন মৌসুমী নাগ, রোমানা স্বর্ণা, তারিক আনাম খান, তানভীর হোসেন প্রবাল, সাবিহা আজিজ, মিশা সওদাগর প্রমুখ। একটি আইটেম গানে নেচেছেন বিতর্কিত নায়লা নাঈম। সাদাত মাহমুদ তানভীর প্রযোজিত ছবিটির গল্প লিখেছেন রফিকুল ইসলাম পল্টু। ছবিটিতে গান রয়েছে মোট ছয়টি। সব গান ও আবহসংগীত তৈরি করেছে ভাইকিংস ব্যান্ড। স্টুডিও ডকইয়ার্ডে করা একটি আইটেম গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রুপম ও কর্নিয়া। এ ছাড়াও ভাইকিংসের সঙ্গে অতিথি কণ্ঠশিল্পী হিসেবে গেয়েছেন কনা ও রিনতি।

‘রানআউট’ ১৬ অক্টোবর আসছে, নিশ্চিত করেছেন ছবিটির পরিবেশক অভি কথাচিত্রের কর্ণধার জাহিদ হাসান অভি। তিনি বললেন, ‘আমাদের ছবিটির প্রচারণা নিয়ে অনেক বড় পরিকল্পনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬ অক্টোবরই সারাদেশে ছবিটি রিলিজ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত। ছবির কলাকুশলীদের নিয়ে বিভিন্ন জেলায় হেলিকপ্টারে ঘোরার ইচ্ছা রয়েছে। সজল বললেন, ‘ভাল লাগছে শুনে। যেদিন রিলিজ পাবে সেদিন বুঝবো রিলিজ পেল।’

এ ছবিটির মাধ্যমেই একসঙ্গে বড়পর্দায় আসছেন সজল এবং মৌসুমী নাগ। সজলের গেটআপের পরিবর্তন চোখে পড়বে ছবিতে। অন্যদিকে দারুণ গ্ল্যামারাসরূপে ছবিতে উপস্থাপনা করা হয়েছে মৌসুমী নাগকে। এ বিষয়ে মৌসুমী নাগ বললেন, ‘গত কয়েক মাস ‘রানআউট-এর শূটিংয়ে অংশ নিয়েছি। অনেক উপভোগ করেছি কাজ করতে গিয়ে। আর ছবিটির কাহিনী ও আমার চরিত্রটি ভিন্নধর্মী ছিল। গতানুগতিক ধারার ছবির ভিড়ে ‘রানআউট’ দর্শক হৃদয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারবে বলেই আমার বিশ্বাস।’ সজল বললেন, ‘এ ছবিটির ওপর নির্ভর করবে আমি সামনে চলচ্চিত্রে কাজ করবো কিনা। তাই আমি ছবিটি নিয়ে বেশ সিরিয়াস। নিজের শতভাগ দিয়েই কাজ করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা দর্শক বিচার করবেন।’

দর্শক তো বিচার করবেনই, কিন্তু দশর্কের কানে তো পৌঁছাতে হবে ছবিটির খবর! এখন পর্যন্ত জমিয়ে প্রচারণা চালাতেই পারেননি ছবিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ। ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে একটি, মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের, তাও অনলাইনে। এ নিয়ে হতাশা কাজ করছে কিছু দর্শকের মধ্যেও। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন জায়গায় এ নিয়ে কথা বলেছেন।

নাটক নিয়ে ব্যস্ততা তো সজলের নিত্যদিনের সঙ্গী। সম্প্রতি শেষ করলেন খ- নাটক ‘স্বপ্নের জানালা’র শূটিং। ইরানী বিশ্বাসের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন কাজী সাইফ আহমেদ। নাটকটি সম্পর্কে সজল বললেন, ‘অনেকদিন পর একেবারে ভিন্ন ধারার একটি নাটকে অভিনয় করলাম।’ নাটকটির অভিনেত্রী বাঁধন বললেন, নাটকটি সম্পূর্ণ গতানুগতিক ধারার বাইরে এবং গল্পটি অসাধারণ।’

সজলের ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা আছে, বিরাট সংগ্রহশালা। সেখানে সুগন্ধি, ঘড়ি, জুতো, বই, স্যুট কোটসহ অনেক কিছুই আছে। বললেন, ‘এখন তো গানের ক্যাসেট পাওয়া যায় না। একসময় আমি গানের ক্যাসেট সংগ্রহ করতাম। গানের ক্যাসেটগুলো এখনও আমার সংগ্রহে রয়েছে।’

কোথা থেকে সংগ্রহ করলেন এতকিছু? সজল বললেন, ‘দেশ এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছি। কখনও বেড়াতে গিয়ে কিনতাম, কখনও শো করতে গিয়েও কিনেছি। বেশি সংগ্রহ করেছি প্যারিস, নিউইয়র্ক ও দুবাই থেকে। আবার উপহারও পেয়েছি।’

তার মানে সবকিছুই খুব নামীদামী ব্র্যান্ডের! ‘না, সব ব্র্যান্ডের নয়। এ ছাড়াও কিছু আছে। হাসপাপিস ব্র্যান্ডের দুই ফিতার স্যান্ডেল আমার পছন্দ। এমনিতে অন্য ব্র্যান্ডের স্যান্ডেলও কিনি।’ বলছিলেন সজল।

সেলিব্রেটি হতে হলে আগে নাকি ভাল আর্টিস্ট হতে হয়। এটা সজলেরই কথা। তিনি তো সেলিব্রেটি। তার মানে ভাল আর্টিস্ট হয়ে গেছেন ইতিমধ্যেই! তা অবশ্য মনে করেন না তিনি। জানালেন, ‘আর্টিস্ট হওয়ার জন্য তো চেষ্টা করে যাচ্ছি, এখনও অব্দি...’। থামলেন এক পর্যায়ে হাসলেন শব্দ করে। সেই শব্দ যেন রাতের নিস্তব্ধতাকেও ম্লান করে দেয়।

ছোটবেলা থেকেই খুব স্বপ্ন নিয়ে কোন কাজ কখনই করেননি সজল। এমনকি, ‘আমার কিন্তু অভিনেতা হওয়ারও খুব স্বপ্ন কখনও ছিল না। খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতাম। তবে নানারা চাইতেন যে, আমি যেন ব্যারিস্টার হই। এক সময় ইচ্ছেও ছিল মাস্টার্সটা শেষ করে ‘আইন’ নিয়ে পড়ব। পরে আর ওটা পড়া হয়নি।’

বলছিলেন মিষ্টিভাষী। তাঁর চেহারার মধ্যেই একটা প্রেমিকসুলভ ভাব আছে। লাজুক প্রেমিক। নাটকে তো প্রেমে পড়েছেন অসংখ্যবার। ব্যক্তিগত জীবনে? উত্তরটা চেপে গেলেন তিনি। পরবর্তী প্রশ্নে চলে যেতে বললেন। তারপর একটু ইঙ্গিত অবশ্য দিলেন তিনি, ‘প্রেম তো একটা স্বাভাবিক বিষয়। এটা সবার জীবনে আসেই।’

সজলের জীবনেও প্রেম আসুক বারবার। সবচেয়ে বেশি আসুক ভক্তদের প্রেম। আপাতত সজল ‘রানআউট’ মুক্তি এবং পরবর্তী দর্শকদের দিকেই চেয়ে আছেন।