২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বলিউডে অশ্লীলতার নতুন মাত্রা ‘ক্যালেন্ডার গার্লস’

  • পান্থ আফজাল

রঙ্গিন ধোঁয়ায় ওড়ানো চকচকে গ্ল্যামার-ওয়ার্ল্ড হাতছানি দিয়ে ডাকে। মোহময় আবেশের রং মাখানো এই জগতের প্রতি সবার কমবেশি একটা উৎসাহ রয়েছে। কিন্তু কেমন এই ওয়ার্ল্ড? এর উত্তর মিলবে সম্প্রতি বড়পর্দায় মুক্তি পাওয়া গুণীপরিচালক মধুর ভান্ডারকরের ‘ক্যালেন্ডার গার্লস’ সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যে।

বলিউডে নতুন কিছুর চমক মানেই মধুর ভান্ডারকর। ‘ফ্যাশন’ ও ‘হিরোইন’ পর এবারও গ্ল্যামার দুনিয়ার অন্ধকার কাহিনী নিয়ে হাজির পরিচালক মধুর ভান্ডারকর। গুজব রটেছিল যে, এই ছবি দীপিকা, ক্যাটরিনা ও ইশা গুপ্তার ক্যারিয়ার থেকে অনুপ্রাণিত। যারা প্রত্যেকেই এক সময় কিং ফিশারের বার্ষিক ক্যালেন্ডারের মডেল ছিল। আর এখন এরাই বলিউডের প্রথম সারির নায়িকা। বরাবরই এই পরিচালক ‘পেজ থ্রি’, ‘ফ্যাশন’, ‘হিরোইন’ নামক বিভিন্ন সিনেমায় নানা রকমভাবে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডকে তুলে ধরেছেন। কারিনা কাপুর, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, কঙ্গনা রানাউত, কঙ্কনা সেনশর্মা বলিউডের টপ সারির নায়িকাদেরই দেখা গেছে মধুর ভান্ডারকরের সিনেমায়। তবে তার এই নতুন ছবিতে ছিল এক নতুন চমক। এবারের আবিষ্কার পাঁচ কন্যা। যাঁদের রূপের ঝলকানিতে, গ্ল্যামারের ছটায় ইতোমধ্যে হৈচৈ পড়ে গিয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে। সিনেমার নাম শুনলেই বোঝা যায় সিনেমার গল্প ক্যালেন্ডার মডেল কেন্দ্রিক। নিজের এই নতুন প্রোজেক্ট সম্পর্কে সম্প্রতি টুইট করে এই পরিচালক জানিয়েছিলেন, ‘আপনি আপনার ক্যারিয়ারে ক’টা ছবি বানিয়েছেন ,তাতে কোন প্রভাব পড়ে আসে না। প্রতিটা ফিল্মের শূটিংয়ের প্রথম দিন উৎসাহের সঙ্গে ভয়ও লাগে।’ উল্লেখ যে, ‘ক্যালেন্ডার গার্লস’ তৈরির জন্য ‘হিরোইন’ এর পর প্রায় দু’বছর সময় নিয়েছেন তিনবার রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই পরিচালক।

ছবির কাহিনী নিয়ে বলতে গিয়ে মধুর একদা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এ ছবির প্রায় ৭৫ শতাংশ ঘটনাই আসল। বাকি ২৫% অবশ্য কল্পনা। ক্যালেন্ডারে মডেলরা সাধারণের কল্পনা জগতে প্রশ্রয় পাখনা মেললেও তার নেপথ্যের কাহিনীটি কিন্তু এতটাই সুখকর নয়। এই মডেল হতে গিয়েই কাউকে ছাড়তে হয়েছে পরিবার। কাউকে পড়তে হয়েছে আপত্তিজনক প্রস্তাবের মুখে। কেউ কেউ আপোস না করে ফিরে গিয়েছেন, কাউকে আবার হতে হয়েছে পরিস্থিতির শিকার। সাজানো গোছানো সুন্দর ক্যালেন্ডারের পাতার পেছনে লুকিয়ে থাকা এই গল্পগুলোই তাঁর ছবিতে তুলে এনেছেন মধুর। সিনেমায় গল্পটি তৈরি হয়েছে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাঁচটি মেয়ের সংগ্রাম, যুদ্ধ ও ত্যাগ স্বীকার করে দেশের জনপ্রিয় এক বার্ষিক ক্যালেন্ডারে ছবি তোলার স্বপ্নকে ঘিরে। গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম গ্ল্যামারাস দিক হলো ক্যালেন্ডারের জন্য ফোটোশুট। গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির চূড়াায় পৌঁছতে তাদের চড়াই-উৎরাই, বিয়ে, মডেলিং ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিদায়- সবকিছুই দেখা যাবে সিনেমাটিতে।

তবে পুরনো ছাঁচে কাহিনী ফেললেও ছবির নায়িকারা কিন্তু সবাই নতুন। তাই ‘ক্যালেন্ডার গার্লস’-এর ফার্স্ট লুকেও চমকে দিয়েছেন সবাইকে। তবে পোস্টারে নতুন নায়িকাদের সাহসী পোজ ছাপিয়ে মাথাচাড়া দিয়েছে ফিল্মের কিছু ন্যুডশট। অন্যদিকে ছবির প্রোমোতে নাকি একটি ন্যুডশট ছিল এবং যা শেষমেশ বাদ দিতে হয় পরিচালককে। পরিচালক অবশ্য এ বিতর্কে মুখে কুলুপ এঁটেছেন? পরে পরিচালকের ঘনিষ্ঠমহলের কেউ কেউ বলেছেন, ঠিক ন্যুডশট নয়, তবে একটি দৃশ্য ছিল যেখানে দেখানো হয়েছে একজন ক্যালেন্ডার গার্ল সমুদ্র থেকে উঠে আসছে, এবং সে তার পোশাক খুলছে। যদিও সেটি ছিল একটি পাসিং শট মাত্র।

এদিকে ছবির নামের মতোই এই ছবির টিজারও যথেষ্ট উত্তেজনাপ্রবণ এবং আকর্ষণীয় ছিল। এই ছবিতে ৫ জন সুপার মডেলের গল্প বলা হয়েছে, যাদের জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে ‘ক্যালেন্ডার গার্লস’ হওয়ার পর। এই ছবির টিজারে একটি ট্যাগ লাইন ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছে’ ছবি সবসময়ই নিখুঁত এবং যথাযথ হয়, কারণ তা স্থির, কিন্তু জীবন স্থির হয়ে যায় না।’

মধুর ভান্ডারকরের এ ছবিতে পাঁচ মডেল ও তাঁদের ক্যালেন্ডার গার্ল হয়ে ওঠার কথা জানা যাবে। ক্যালেন্ডার গার্লদের নিয়ে দর্শকরে আগ্রহের পারদ যখন চড়ছে, তখন পরিচালক জানালেন, এ ছবির ইনস্পিরেশন বিজয় মালিয়া এবং তাঁর ক্যালেন্ডারের প্রাক্তন মডেলরা। বিজয় মালিয়ার কিংফিসার কোম্পানির ক্যালেন্ডার বিনোদুনিয়ায় সমাদৃত। উঠতি মডেল থেকে বলিপাড়ার নামী অভিনেতা-মডেলরাও মুখিয়ে থাকেন এ ক্যালেন্ডার শুটের জন্য। মালিয়ার এই প্রয়াস থেকেই নিজের ছবির ইনস্পিরেশন পেয়েছেন বলে জানালেন মধুর।

এ সিনেমায় পাঁচ ক্যালেন্ডার গার্লস চরিত্রে অভিনয় করেছেন- কায়রা দত্ত, অবনী মোদি, আকাক্সক্ষা পুরি, রুহি সিং ও নন্দিনা মেনন। এ সিনেমার অন্যতম অভিনেত্রী অবনী মোদি। শোনা গিয়েছিল, অভিনেত্রী অবনী মোদি এই ছবির প্রচারের জন্য যখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছিলেন তখন উৎসুক জনতারা তাকে প্রশ্ন করেছিলেন,‘আপনি কি নরেন্দ্র মোদির কেউ হন?’ কথাটি শুনতে শুনতে অবনী বিরক্ত হয়ে তখন মজা করে বলেছিলেন যে, হ্যাঁ আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মেয়ে। শুধু গুজরাটের মেয়েদের কাছে নন, নরেন্দ্র মোদি হলেন গোটা ভারতের কাছে ‘ফাদার ফিগার’। ব্যাপারটা মজার না?

মধুর বছর পাঁচেক আগে মডেলিং ও ফ্যাশন দুনিয়ার বিষয়ে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘ফ্যাশন’ নামক একটি ছবি, যা ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। তবে ‘ক্যালেন্ডার গার্লস’ ফিল্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করেছেন রাখি সাওয়ান্ত। গুজব উঠেছিল যে, এ ছবিটি অতিরিক্ত নগ্নতার জন্য আটকে দিয়েছে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড। ছবির একটি গানে রাখি নাকি অনেকটাই নগ্ন হয়ে উপস্থাপিত হয়েছিলেন। তার সঙ্গে থাকা একাধিক নারী মডেলও সেই দৃশ্যে নগ্ন হয়ে ক্যামেরাবন্দী হয়েছিলেন বলেও লোকমুখে শোনা যায়। ওদিকে কলকাতা থেকে মুম্বাইয়ে সদ্য পাড়ি জমানো শতরূপা বাঙালী সুন্দরী পরমা ঘোষের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। মধুরের ছবি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মধুরের ছবিতে সবসময় উইমেন পাওয়ার একটা মূল বিষয় হয়ে ওঠে। এই রকম পাওয়ারফুল একটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আমি সত্যিই নিজেকে খুব লাকি মনে করছি’। ছবিতে আরও অভিনয় করেছে অনুষ্কা পুরী। সম্প্রতি এক ম্যাগাজিনের জন্য হট ফটোশুট করেছেন এই নায়িকা। যার পাতায় পাতায় রয়েছে অনুষ্কার রূপের সম্মোহন। এই ফিল্মে ফটোগ্রাফার বন্ধু হিসেবে অভিনয় করেছেন রোহিত রয় এবং সুহেল শেঠ। ছবিটি প্রযোজনায় ছিল সঙ্গীতা আহিরের সংস্থা মঙ্গলমূর্তি ফিল্মস।