২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইডেনে ভারত-দ. আফ্রিকা শেষ টি২০ আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইডেন গার্ডেনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, আর সেটি নিয়ে ভারতীয়দের আগ্রহ নেই- অতীতে কখনো এমন হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। মূলত টানা দুই হারে এরই মধ্যে প্রোটিয়াদের কাছে টি২০ সিরিজ খুইয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। আজকের শেষ ম্যাচটি তাই হয়ে উঠেছে কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। ৩-০ আর ২-১ এক জিনিস নয়, তাই স্বাগতিকদের জন্য ইডেনের এ ম্যাচ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ধোনি-ভিরাট কোহলিদের সামনে ব্যবধান কমানোর সুযোগ। কটকে আগের ম্যাচে দর্শকদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের জন্য ইডেন ঘিড়ে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। তার ওপর জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর পর এই প্রথম নতুন বস্ সৌরভ গাঙ্গুলির (পশ্চিমবঙ্গ ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশনের প্রধান) অধীনে কলকাতায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ। গুরুত্ব যাই হোক, আয়োজন নির্বিঘœ করতে ‘দাদাবাবু’র ওপর চাপ থাকছে।

ধর্মশালার প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে হারের পর ধোনি বলেছিলেন, এ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না তারা। লক্ষ্য বিশ্বকাপের কম্বিনেশন তৈরি করা। কিন্তু কটকে ৬ উইকেটের বড় হারে সিরিজ খোয়ানোর পর বদলে গেছে সমীকরণ। ‘হোয়াইটওয়াশের’ লজ্জা এড়াতে মরিয়া স্বাগতিকরা। আয়োজন সামলানোর পাশাপাশি মাঠের দল কেমন হবে, সেটি নিয়েও মাথা ঘামাচ্ছেন সৌরভ। ‘অজিঙ্কা রাহানেকে অবশ্যই খেলানো উচিত’ বলে মন্তব্য তার। আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় অক্ষর প্যাটেলকে একটু তাড়াতাড়িই ডাকা হয়েছে, এবার অমিত মিশ্রকে খেলানো উচিত। তাছাড়া ক্রিকেটারদের ঢিলেমির সুযোগ নেই। সেরা সাফল্য পেতে চাইলে তাদের প্রতিনিয়ত নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাটাই করতে হবে।’ ইডেন গার্ডেনকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার মূল কারণ দ্বিতীয় টি২০’র সেই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। কটকে দর্শকদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে প্রায় ঘণ্টা খানেক বন্ধ ছিল ম্যাচ। দর্শকদের হার মেনে নিতে না পারার মানসিকতা গোটা ভারতকেই ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ আগামী বছর এখানেই অনুষ্ঠিত হবে টি২০ বিশ্বকাপ। গ্রেট সুনীল গাভাস্কার তো বারবাতি স্টেডিয়াম থেকে কয়েক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ নির্বাসনে পাঠানোর পক্ষে। যদিও ‘স্রেফ মজা’ বলে শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক ধোনি! দু’টি ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং প্রতিটি বিভাগেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে ভারত।

১৯৯ রানের বিশাল স্কোর গড়েও প্রথমটিতে জিততে পারেনি ধোনির দল! বিফলে গেছে রোহিত শর্মার দারুণ এক সেঞ্চুরি (১০৬)। ক্যাপ্টেন্সিতেও ‘ক্যাপ্টেন কুল’ কে অতি সাধারণ মানের মনে হয়েছে। বিপরীতে চিত্তাকর্ষক ক্রিকেট খেলে ফ্যাফ ডুপ্লেসিসের দক্ষিণ আফ্রিকা। এবি ডি ভিলিয়ার্স (৩২ বলে ৫১), ডুমনিদের (৩৪ বলে ৬৮*) কাছে হার মানে ক্রিকেটের মোড়লরা। কটকে উত্তাপের ম্যাচে তো হারার আগেই হেরে বসে স্বাগতিকরা। ১৭.২ ওভারে ৯২ রানে অলআউট হয় ভারত। এই অবস্থা মানতে পারছেন না শত্রুদেশ পাকিস্তানী তারকা শোয়েব আকতারও, ‘টি২০তে ম্যাচ জেতানোর মতো পেসার বা ব্যাটসম্যানই ভারতের নেই। অথচ তারা আইপিএল আয়োজন করে! বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিষয়টি নিয়ে এখনই সিরিয়াস হওয়া উচিত।’ ভারতের অবস্থা যাই হোক দক্ষিণ আফ্রিকানদের সেটি নিয়ে ভাবার সময় নেই। অধিনায়ক ডুপ্লেসিস যেমন বলেন, ‘যে কোনো পরিস্থিতি মেনে নেয়ার মানসিকতা দর্শকদের থাকা উচিত। আমরা সামনে তাকাতে চাই। লক্ষ্য একটাই সাফল্য অব্যাহত রেখে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করা।’

কেবল গ্যালারি-দর্শক নয়, ড্রেসিং রুমের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রোটিয়ারা। ইডেনে নির্দিষ্ট ডায়েট তালিকা, প্র্যাকটিস সিডিউল- দু’দিন আগেই এসব চাহিদা সৌরভের প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে দ.আফ্রিকা। টিম মিটিংয়ে থাকতে হবে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা, হেলথ ড্রিঙ্কস-সফট ড্রিঙ্কসের ব্যবস্থা, আরও কত কী। দু’টি ম্যাচ জিতে মাঠের মতো বাইরেও যেন আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে প্রোটিয়াদের!