১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সম্পাদক সমীপে

  • জাতীয়করণ করা হোক

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় এলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে শিক্ষা ব্যবস্থায়। বিনা বাক্য ব্যয়ে বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে। সদাশয় এ সরকার শিক্ষকদের সম্মানিত ও শিক্ষকতা পেশাকে লাভজনক কর্মক্ষেত্রে পরিণত করার উদ্দেশ্যে অঙ্গীকার করে আলাদা বেতন কাঠামো প্রবর্তনের। পাশাপাশি বিএনপি আমলে বন্ধকৃত টাইম স্কেল পুনরায় চালু করার মধ্য দিয়ে শিক্ষকবান্ধব সরকারের মর্যাদা অর্জন করে। কিন্তু বিধিবাম- অর্থ মন্ত্রণালয়, ডিজি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতার দড়ি টানাটানির খেসারত দিতে গিয়ে বেসরকারী শিক্ষকদের টাইম স্কেল বিনা নোটিসে বন্ধ করে দেয় সরকার।

১৯৯১-এ বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত না করায় দেশব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচী শিক্ষকরা গ্রহণ করেছিল। প্রতিবাদের মুখে ১৯৯২ সালে দাবি মেনে নিয়ে জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার বাধ্য হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের স্বার্থ ক্ষুণœ হওয়ার মতো ১৯৯৫-এ প্রণীত জনবল কাঠামো তীব্র বিরোধিতার পরও আজ পর্যন্ত সংশোধন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে ১৯৯৭-এ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ ও সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা আজও আছে লাল ফিতার ফাইলে বন্দী। শুধু নেতিবাচক দিক নয়; শিক্ষাব্যবস্থায় দৃশ্যমান অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে, যা দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশ তার নিজস্বতা, স্বগৌরব ও মেধায় এগিয়ে যেতে পারে সম্মুখপানে দ্রুতগতিতে। তারপরও হাতে কলম তুলে সুপ্রভাতের আলো জ্বালিয়ে বেসরকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের একান্ত আপনজন হয়ে তাদের কল্যাণে কিছু কথা বলতে হয়। যেমন ইউনেস্কো, আইএলও সনদের সংজ্ঞা অনুযায়ী বিশ্বের সকল দেশে বেসরকারী শিক্ষকরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, অথচ বাংলাদেশের শিক্ষকরা চাকরি থেকে অব্যাহতি না নিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে না, এ কি আদৌ যৌক্তিক? বিষয়টি সহৃদয়তার সঙ্গে সরকারের ভেবে দেখা উচিত। সম্প্রতি সরকার ঘোষণা করেছে- প্রতিটি উপজেলায় একটি কলেজ ও একটি স্কুল জাতীয়করণ করবে। সরকারী কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বেসরকারী শিক্ষকদের স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিলেও বিষয়টি রয়েছে নাকের ডগায় মুলা ঝোলানোর পর্যায়ে। এ দেশের অভাগা শিক্ষকরা চায় প্রাইমারী শিক্ষার মতো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা হোক।

গোলসান আরা বেগম

কিশোরগঞ্জ

নির্বাচিত সংবাদ