১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেরানীগঞ্জে স্ত্রী ও পুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করল ১২ বছরের জেল খাটা স্বামী

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেরানীগঞ্জ ॥ ঢাকার কেরানীগঞ্জের মডেল থানার জিনজিরার বন্দ নজরগঞ্জ এলাকায় সাচ্চু মিয়ার ভাড়াটিয়ে এসাহাক বুধবার ভোর রাতে স্ত্রী, পুত্রকে শ্বাসরোধ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ ঘাতক স্বামী মোঃ এসাহাক ওরফে সুমনকে (৩০) আটক করেছে। নিহতরা হলো স্ত্রী সায়েরা বেগম (২৮) ও পুত্র মোঃ ফয়সাল (১১)। আহত হয়েছে শিশু কন্যা জান্নাত (৫) ।

ঘাতক এসাহাক ৩/৪ দিন আগে বন্দ নজরগঞ্জ এলাকায় সাচ্চু মিয়ার বাড়িতে বাসা ভাড়া নেয়। ভোর রাতে সে তার রুমে স্ত্রী সাহেরা বেগমকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে, পুত্র ফয়সালকে শ^াসরোধ ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় মেয়ে জান্নাতকেও কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যাবার সময় মনু বেপারীর ঢালে নাইট গার্ড ও চায়ের দোকানদার ঘাতকের খালাতো বোন জাহানার বেগম তাকে আটক করে থানা পুলিশকে সোপর্দ করে। এ সময় পুলিশ ঘাতক এসাহাককে সঙ্গে নিয়ে তার ভাড়া বাসার রুম থেকে স্ত্রী ও পুত্রের লাশ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়ে জান্নাতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মজিবর রহমান বলেন, ঘাতক এসাহাক ওরফে সুমনের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার নোয়ার্দা গ্রামে। তার বাবার নাম মোঃ আমজাদ হাওলাদার। তার মেঝো ভাই আব্দুর রাজ্জাকের শ্যালিকা সায়েরা বেগমের সঙ্গে তার প্রেম ছিল। কিন্তু এসাহাক ওরফে সুমনের একটি অস্ত্র মামলায় ১২ বছরের সাজা হলে সে জেল খানায় চলে যায়। এই ফাঁকে সায়েরা বেগমের অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ হয় এবং ওই স্বামীর ঘরে ছেলে ফয়সাল ও মেয়ে জান্নাতের জন্ম হয়। পরে সায়েরা ওমানে চলে যায়। কয়েক বছর বিদেশে থাকার পর সে আবার দেশে ফিরে আসে। ঘাতক এসাহাক কিছু দিন পূর্বে ১২ বছর জেল খাটার পর জেল থেকে বের হয়ে সায়েরা বেগমকে বিয়ে করে তার দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বন্দ নজরগঞ্জে ওই বাসা ভাড়া নেয়। ঘাতক এসাহাক পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে তার স্ত্রী সায়েরা বেগমের হৃদয় নামে অন্য যুবকের সঙ্গে পরকীয়া ছিল। এ ঘটনা জানতে পেরে সে ক্ষিপ্ত হয়ে এ হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটিয়েছে।