২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে হবে ॥ নাসিম

  • বিদেশী নাগরিক হত্যা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের ‘যোগসূত্র’ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে তাকে (খালেদা জিয়া) যখনই কিছু দিনের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুঁজে পাওয়া যায়নি, তখনই দেশে কোন ঘটনা ঘটেছে। খালেদা জিয়া লন্ডনে থাকা অবস্থায় কিভাবে দেশে এমন একটি চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে, বিদেশীদের হত্যা করা হচ্ছে, এ দুটির সঙ্গে যোগসূত্র আছে কিনা, তা ভেবে দেখতে হবে। খতিয়ে দেখতে হবে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণআজাদী লীগের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট। তারা স্বাধীনতার সময়ে দেশের বিরোধিতা করেছে, এখনও একই অবস্থানে আছে। কিন্তু বিএনপির অবস্থান কখনই স্পষ্ট নয়। তারা একদিকে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করে। মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতের প্রশ্নে ডবল স্ট্যান্ডার্ড নীতির কারণেই খালেদা জিয়ার ও তার দল বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই তারা এখন গণতন্ত্রের রাজনীতির পরিবর্তে নৈরাজ্যের পথে নেমেছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস কে সিকদারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাসদ আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডাঃ ওয়াজেদুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মুহাম্মদ আলী ফারুকী, গণআজাদী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এ বারী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহসম্পাদক ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ।

গণচীন আমাদের সঙ্গে আছে ॥ বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাম্যবাদী দল আয়োজিত গণচীনের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধু এবং একাত্তরের ঘাতকদের বিচারে কোন আপোস করেননি। কিন্তু যারা বাংলাদেশে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, সেই বিএনপি-জামায়াতকে বলতে চাই, গণচীন আমাদের সঙ্গে আছে। আপনার সতর্ক হয়ে যান। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, খুনীর সঙ্গে আপোস করবেন, ঘর করবেন, প্রেম করবেন- তা হবে না।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশ চীন এক ও অভিন্ন হয়ে হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে যখন মৌলবাদ ও জঙ্গী আক্রমণ করছে চীন তখন বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। আর কেউ কেউ আইএসের দোষ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু দয়া করে আপনার আইএসের দোষ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করব।

জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বিদেশী প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি চালিত হবে না। রাজনীতি থেকে সামরিক ও জঙ্গীতন্ত্রের চিরতরে বিদায় করতে সমাজতন্ত্র দরকার। যে সমাজতন্ত্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দারিদ্র্য সরিয়ে ফেলতে পারি। আসুন সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলি। জঙ্গীতন্ত্রকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে সমাজতন্ত্র আসবে। আর সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে জঙ্গীবাদ নির্মূল করতে হবে। একহাতে সমাজতন্ত্রের ঝা-া, অন্যহাতে ঐক্যের ঝা-া নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত মা মিং চিয়াং, বাসদ আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ।