১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ ভ্রমণে কোন দেশেরই রেড এ্যালার্ট নেই

  • ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার তালিকায়ও নেই;###;আছে সতর্কবার্তা;###;অস্ট্রেলিয়া ১৯৩ দেশে জারি রেখেছে এমন বার্তা

তৌহিদুর রহমান ॥ বাংলাদেশ ভ্রমণে বিশ্বের কোন দেশেরই রেড এ্যালার্ট নেই। কয়েকটি দেশ এখানে ভ্রমণ সতর্ক বার্তা জারি করলেও তাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নেই বাংলাদেশ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ১৩টি দেশে তাদের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ওই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। আর অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের জন্য যে ধরনের ভ্রমণ সতর্ক বার্তা দিয়েছে, একই ধরনের সতর্ক বার্তা রয়েছে আরও ৫৭টি দেশের ওপর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরের ভ্রমণ তালিকাতেও বাংলাদেশের প্রতি রেড এ্যালার্ট নেই। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সতর্ক বার্তা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অপরদিকে লিবিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশী নাগরিকদের সতর্ক করেছে সরকার।

ইতালি ও জাপানের দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ইতালি বাংলাদেশে নিজ নিজ নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্ক বার্তা জারি করে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরে তাদের ভ্রমণ সতর্ক বার্তা শিথিল করেছে। আর ইতালি তাদের ভ্রমণ সতর্ক বার্তা উঠিয়ে নিয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সতর্ক বার্তা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে কোন দেশেরই ভ্রমণে রেড এ্যালার্ট নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বৃহস্পতিবার জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ ভ্রমণে বিশ্বের কোন দেশেরই রেড এ্যালার্ট নেই। অস্ট্রেলিয়া যে ধরনের ভ্রমণ সতর্ক বার্তা জারি করেছে, সেটা মধ্যম ধরনের একটি সতর্ক বার্তা। তারা তাদের নাগরিকদের জন্য অনেক দেশেই এ ধরনের ভ্রমণ সতর্ক বার্তা জারি করেছে। বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সতর্ক বার্তায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে কিনাÑ জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার পর বিভিন্ন দেশ যে ভ্রমণ সতর্ক বার্তা জারি করেছে, এর সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সঙ্কটও জড়িত নয়। এটা একটি সাময়িক সমস্যা। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার প্রেক্ষিতে কয়েকটি দেশের সতর্ক বার্তা জারিকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তবে এ ধরনের সতর্ক বার্তা সাধারণ ঘটনা। বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের সতর্ক বার্তা জারি করা হয়। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে ভ্রমণ সতর্ক বার্তা জারি করা হয়েছিল। সম্প্রতি দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রতি কোন দেশই তার নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। ভ্রমণ নিয়ে এখন কোন ধরনের রেড এ্যালার্টও নেই।

দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। আর ঢাকার ইতালি দূতাবাস থেকে দেশটির নাগরিকদের ভ্রমণে রেড এ্যালার্ট জারি করা হলেও তা ইতোমধ্যেই উঠিয়ে নিয়েছে দেশটি। এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে আগের মতোই নিরাপদ বোধ করছেন। এছাড়া বাংলাদেশে কোন মার্কিন নাগরিকদের আসতে নিষেধ করা হয়নি, এখান থেকে চলে যেতেও বলা হয়নি।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র বিভাগ থেকে প্রতিদিনই তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ উপদেশ তথ্য হালনাগাদ করা হয়। বিশ্বের ১৯৩ দেশে ভ্রমণের বিষয়ে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে থাকে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র বিভাগের দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের বিষয়ে চার ধরনের সতর্ক বার্তা জারি করেছে দেশটি। চার ধরনের মধ্যে রয়েছে ভ্রমণে নিষেধ, ভ্রমণের আগে পুনর্বিবেচনা করা, ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও ভ্রমণে সাধারণ সতর্কতা। বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্কতা’ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এটা একটি মধ্যম ধরনের সতর্ক বার্তা।

বিশ্বের ১৩টি দেশে অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছেÑ আফগানিস্তান, বুরুন্ডি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, চাদ, ইরাক, লিবিয়া, মালি, নাইজার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন।

অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের ভ্রমণের আগে পুনর্বিবেচনা করার জন্য বিবেচনা করতে বলেছে এমন দেশের মধ্যে রয়েছেÑ আলজেরিয়া, বাহরাইন, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কোরিয়া, কঙ্গো, মিসর, ইথিওপিয়া ইত্যাদি দেশ। তবে বাংলাদেশ এ তালিকা থেকেও এগিয়ে রয়েছে।

বিশ্বের ৫৭টি দেশ ভ্রমণে তাদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশও রয়েছে সেই তালিকায়। তবে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কেনিয়া, মেক্সিকো, মরোক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, ফিলিপিন্স, রাশিয়া, সেনেগাল, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, জিম্বাবুয়ে, ভেনিজুয়েলা ইত্যাদি দেশেও একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বনের নিদের্শনা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক ও কমনওয়েলথ অফিস থেকে তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্ক বার্তা জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ ভ্রমণে তাদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভ্রমণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও ব্রিটিশ নাগরিকদের ভ্রমণ উপদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট রাজপথ অবরোধ করে। তবে এপ্রিল মাসের দিকে তাদের সেই কর্মসূচী শিথিল হয়। তবে বাংলাদেশের বিরোধী পক্ষের প্রতিরোধ আন্দোলন সময়ে সময়ে সহিংসতার দিকেও মোড় নিতে পারে। তাই বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে ইতালি ও জাপানী নাগরিক হত্যার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে দেশটি। তবে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৭৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক কোন ধরনের হয়রানি ছাড়াই ভ্রমণ করে থাকে বলেও জানিয়েছে বৈদেশিক ও কমনওয়েলথ অফিস।

যুক্তরাজ্য তার নাগরিকদের ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণেও সতর্ক বার্তা রয়েছে। বিশেষ করে নেপাল সীমান্ত এলাকা, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, মনিপুরের ইম্ফল ভ্রমণে সতর্ক থাকতে বলেছে। এছাড়া রাজনৈতিক সভা সমাবেশ এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ভ্রমণ সতর্ক বার্তায় সেদেশের নাগরিকদের ৩৮টি দেশে ভ্রমণে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এতে দুই ধরনের সতর্ক বার্তা দেয়া রয়েছে। একটি হচ্ছে সাবধানতা আর আরেকটি হলো সতর্কতা অবলম্বন। ৬টি দেশ ভ্রমণে সতর্কতা আর ৩২টি দেশ ভ্রমণে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিদের। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশের নাম নেই।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রংপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন জাপানের নাগরিক হোশি কোনিও। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে সিজার তাভেলাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি আইসিসিও কো-অপারেশন নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রুফ (প্রফিটেবল অপরচ্যুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি) কর্মসূচীর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ছিলেন। আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জঙ্গী হুমকি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’ জানিয়েছে। তবে আইএসের এই দাবির সত্যতা যাচাই হয়নি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশীদের লিবিয়া ভ্রমণে সতর্কতার নির্দেশ ॥ লিবিয়ার চলমান পরিস্থিতির কারণে দেশটি ভ্রমণ না করতে আবারও বাংলাদেশীদের সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক করে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা বলবত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশী সাধারণ নাগরিকদের ভ্রমণের পাশাপাশি লিবিয়ায় কোন শ্রমিককে না যাওয়ার জন্যও কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিবিয়া পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের যুদ্ধ এলাকা, লোকজনের ভিড়, বিক্ষোভ বা মিছিল এড়িয়ে চলে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।