১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঝলক

‘গো চোনা’ যায় পাছে পাছে

কেউ বিদেশবিভুঁইয়ে গেলে আচার-আচরণ, খাবারদাবার, পোশাক-আশাক সঙ্গে নিয়ে যাওয়াটাই দস্তুর। গত মাসে ভারতীয় এক মহিলা নিউজিল্যান্ডে পাড়ি দেন। স্যুটকেস ভর্তি পোশাক-আশাক, খাবারদাবার তো তিনি নেনই; অতিরিক্ত নেন বোতলভর্তি গোমূত্র।

হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্মানে বলেন গোমাতা। তবে গরুর দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের কদর ধর্মবর্ণ, দেশ-বিদেশ নির্বিশেষে সর্বজনীন। জৈবসার হিসেবে জমিতে প্রয়োগ ও জ্বালানি হিসেবে ঘুঁটের ব্যবহার ছাড়াও অনেকের কাছে গরুর মল ও মূত্রও কাজের। পবিত্রও। এ বিবেচনায় ওই মহিলা নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়েছিলেন দুই বোতল গোমূত্র। কিন্তু বাদ সাধে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন বিমানবন্দরের কাস্টম কর্তৃপক্ষ। মহিলার লাগেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় কাস্টম কর্তৃপক্ষের নজরে আসে দুটি বোতল। মহিলা লাগেজের ওই বোতল দুটির কথা চেপে গিয়েছিলেন। তারা ভেবেছিল, বোতলে মাদকাদি বা নিষিদ্ধ কিছু হতে পারে। মহিলা দাবি করেন ওগুলো তার ওষুধ। পরে খুলে তো তাজ্জব বনে যান কর্মকতা। একি! ওষুধ তো নয়, এ যে পশুর মূত্র।

মহিলা জোর দাবি করেন, গোমূত্র তিনি ওষুধ হিসেবেই ব্যবহার করেন। কে শোনে কার কথা। অনুনয়, অনুরোধ কোন কাজে আসেনি। কী আর করা! লাগেজের মালপত্রের বিবরণীতে গোমূত্রের উল্লেখ না করায় কাস্টম কর্তৃপক্ষ কৃর্তক নির্ধারিত ৪০০ নিউজিল্যান্ড ডলার জরিমানা গুনে ছাড় পেতে হয় মহিলাকে।

টাকায় মেলে নোবেল!

নোবেল পদক চান? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো কালজয়ী সাহিত্যের বই লেখার দরকার নেই। কিংবা অমর্ত্য সেনের মতো অর্থনীতির দুরূহ ও জটিল তত্ত্বাবিষ্কারও নিষ্প্রয়োজন। ড. ইউনূসের মতো ‘ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা’ করাও অপরিহার্য নয়। অপরিহার্য নয় বিজ্ঞানের কোন দুর্জ্ঞেয় রহস্যোন্মোচনও। পদক চাইলে যে কেউই পাবেন। শুধু গুনতে হবে মোটা অঙ্কের অর্থ। অবশ্য নোবেল কমিটির পুরস্কার বা স্বীকৃতি আপনি পাবেন না। পাবেন শুধু নোবেল পদকটা। পরিসংখ্যান বলছে, নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের পর থেকে চলতি বছরের আগ পর্যন্ত ৮৮৯ জন এই সম্মান লাভ করেছেন। এর মধ্যে নিলামঘরে ঠাঁই হয়েছে প্রায় এক ডজন পদকের। যেমন, ফ্রান্সের আরিস্তিদ ব্রাঁয়া ২০০৮ সালের এক নিলামে তাঁর পদকটি ১৩,৬৫০ ডলারে নিলামে বিক্রি করেন। তিনি ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে একটি চুক্তি রূপায়ন করার অবদানস্বরূপ ১৯২৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। সম্প্রতি, প্রাপকদের পরিবার নোবেল পদক নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। গত কয়েক বছরে নোবেল পদকের দর অনেক গুণ বেড়ে যাওয়াই নাকি এর কারণ। ২০১৪ সালের গোড়া থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটটি পদক নিলামের সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে।

১৯৬২ সালে ফ্রান্সিস ক্রিক ও মরিস উইলকিন্সের সঙ্গে যৌথভাবে চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল বিজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন তাঁর জীবদ্দশায় ২০১৪ সালে প্রায় ৪৮ লাখ ডলারে পদকটি বিক্রি করেন। ১৯৪৯ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজেতা উইলিয়াম ফকনারের পরিবার ২০১৩ সালে পদক নিলামে চড়িয়ে প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় পরে অবশ্য নিলামের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এক্ষেত্রে পদকগুলো চলে যায় পয়সাওয়ালাদের সংগ্রহে।

কথায় আছে, টাকায় বাঘের দুধ মেলে। টাকা হলে নোবেল পদক কোন ছাড়। নোবেল কমিটির পুরস্কার ও স্বীকৃতি না মিলুক, পদক তো আপনার ঝুড়িতে পুরতে পারবেন।