২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ প্রথম ধান ‘গোল্ডেন রাইস’ বোরো মৌসুমেই আসছে মাঠে

  • পুষ্টির অভাব ও শিশু অন্ধত্বের বিরুদ্ধে নতুন বিপ্লব আনবে এ ধান

বিশেষ প্রতিনিধি॥ ভাতের মাধ্যমেই পুষ্টি। ভাতই দূর করবে শিশুদের অন্ধত্ব। সেই ধানই এখন আসছে চাষীদের দোরগোড়ায়। সকল প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আবিষ্কৃত ভিটামিন এ সমৃদ্ধ বিশ্বের প্রথম ধান- গোল্ডেন রাইস আসন্ন বোরো মৌসুমেই ‘ফিল্ড ট্রায়ালে’র জন্য মাঠে আসছে।

প্রতি বছর দেশে অসংখ্য শিশু ভিটামিন এ এর অভাবে অন্ধ হয়ে যায়। আবার বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। এ দুয়ের মাঝে সমন্বয় করতেই বিজ্ঞানীরা ধানের মধ্যে ভিটামিন এ সংযোজন করতে প্রয়াসী হন। এক্ষেত্রে তারা বেছে নেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি ধানের জাত বিরি ধান ২৯। গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ধানের এই জাতটির মধ্যে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বিটা কেরোটিন পুষ্টি অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। যা ভিটামিট এ হিসেবে পরিচিত। বিটা কেরোটিনসমৃদ্ধ ধানের এই নতুন জাতটির নাম দেয়া হয়েছে জিআর-২ ই বিরি ধান ২৯। সম্প্রতি ন্যাশনাল টেকটিক্যাল কমিটি অন ক্রপ বায়োটেকনোলজি এই জাতটির অনুমোদন দিয়েছে। ফলে আসন্ন বোরো মৌসুমে গোল্ডেন রাইস কৃষকের দোরগোড়ায় যাচ্ছে ফিল্ড ট্রায়ালের জন্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনে একজন ভিটামিট এ এর অভাবে ভুগছে। আর দেশের প্রসূতি মায়েদের প্রায় ২৪ শতাংশের মধ্যেই ভিটামিট এ এর অভাব রয়েছে। আর বিশ্বে প্রতিবছর ৬৭ লাখ শিশু মারা যায় ভিটামিট এ এর অভাবে অন্ধ হয়ে। এছাড়া প্রতিবছর আরও প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশু ভিটামিন এ এর অভাবে রাতাকানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ১৫০ গ্রাম গোল্ডেন রাইসের ভাত খেলেই তার ভিটামিন এ এর ঘাটতি দূর হবে।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, গোল্ডেন রাইস এশিয়ার দেশগুলোতে ভিটামিন এ এর বিরুদ্ধে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করবে। কারণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রধান খাদ্য ভাত। শুধু তাই নয়, এটি-ই হবে শিশুদের ভিটামিন এ এর একটি বড় উৎস।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম কৃষি ফার্ম সিনজেনটা এই গোল্ডেন রাইস প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছে। সংস্থাটি বিনা রয়্যালিটিতে বাংলাদেশকে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। ফলে কৃষক নতুন এ ধানের জাতটি অন্যান্য ধানের জাতের মূল্যেই ক্রয় করতে পারবে। শুধু তাই নয়, কৃষক এ জাতটি নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারবেন এবং উৎপাদিত ধান থেকেই বীজ সংরক্ষণ করতে পারবেন।