২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্যালারি কায়ায় শাহনূর মামুনের জলরঙের চিত্র প্রদর্শনী

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জলরঙের আশ্রয়ে ছবি এঁকেছেন তরুণ চিত্রশিল্পী শাহনূর মামুন। শিল্পীর রং-তুলির ছোঁয়ায় উপস্থাপিত হয়েছে ফেলে আসা জীবনের স্মৃতির ভুবন। সেই স্মৃতির রেশ ধরে শিল্পীর শৈশবে দেখা বহ্মপুত্র নদের সৌন্দর্য উদ্ভাসিত হয়েছে চিত্রপটে। একই সঙ্গে শাহনূরের ক্যানভাসে সৃজিত হয়েছে চলমান জীবনের ঘটনাপ্রবাহ। সেসব চিত্রকর্মে প্রকৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটেছে যাপিত জীবনের। আর এমন কিছু ছবি নিয়ে রাজধানীর উত্তরার গ্যালারি কায়ায় আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে শিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। শিরোনাম নস্টালজিয়া এ্যান্ড দ্য ফলোয়িং লাইফ। গ্যালারি কায়া আয়োজিত প্রদর্শনীটির সমন্বয় করেছেন রাজেন গাইন।

আজ সন্ধ্যা ছয়টায় এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী অধ্যাপক জামাল আহমেদ। প্রদর্শনী প্রসঙ্গে শিল্পী শাহনূর মামুন জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের দেশের ঋতুবৈচিত্র্যের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে জলরঙের। নিসর্গের বিভিন্ন মুহূর্তকে আলাদাভাবে মেলে ধরা যায় এই রঙের মাধ্যমে। এ কারণে প্রদর্শনীর সব ছবিতে ব্যবহার করেছি জলরং। পুরান ঢাকার বৃষ্টি নিয়ে ছবি এঁকেছি। সেই ছবিতে আলোর সঙ্গে বৃষ্টির রিফ্লেকশনকে উপস্থাপন করেছি। এ ছাড়া বান্দরবান, সুন্দরবন, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে সেখানকার নিসর্গের নান্দনিকতা এবং মানুষের কর্মপ্রবাহকে দেখানোর চেষ্টা করেছি ক্যানভাসে।

জলরঙে আঁকা শিল্পীর নির্বাচিত ৪৬টি চিত্রকর্ম ঠাঁই পাবে প্রদর্শনীতে। ১২ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শেষ হবে ২০ অক্টোবর। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দুলালের জন্য আলালদের আনন্দ ॥ বিশ্ব নাট্য সংস্থা আইটিআইয়ের বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক দেবপ্রসাদ দেবনাথ। দেশের নাট্যাঙ্গনের অনেকেই যাকে চেনেন দুলাল নামে। তবে তিনি দুলাল হলে আলালরা কারা? জেগে ওঠে সেই প্রশ্নটা। আর কেনই বা অনুষ্ঠানের শিরোনাম হয় ‘দুলালের জন্য আলালদের আনন্দ।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানস্থল শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে পৌঁছলে পরিষ্কার হয় ব্যাপারটা। এখানে দুলালরা হলেন সকল নাট্যকর্মী-নাট্যজন ও সংস্কৃতিকর্মীরা। নাট্যচক্রের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট নাট্যজন দেবপ্রসাদ দেবনাথ দুলালের ৬০তম জন্মবার্ষিকী উদ্্যাপন উপলক্ষে বিশেষ এই আয়োজন।

দেবপ্রসাদ দেবনাথের জন্মদিন উদ্্যাপনকে কেন্দ্র করে এই আনন্দ আয়োজনে শামিল হয়েছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, ড. ইনামুল হক, শিমুল ইউসুফ, নাসির উদ্দান ইউসুফ, কেরামত মাওলা, মফিদুল হক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, লাকী ইনাম, ম. হামিদ, ফাল্গুনী হামিদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফসহ বিশিষ্টজনরা। নাচ-গান, আবৃত্তি, কৌতুকসহ বহুমুখী আনুষ্ঠানিকতায় আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় আয়োজনটি ঘিরে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিমুল ইউসুফ তার গানের দল নিয়ে আজম খানের বিখ্যাত সেই গান ‘আলাল ও দুলাল/ তাদের বাবা হাজি চাঁন’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সবার প্রিয় দুলালকে মঞ্চে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে শংসাবচন প্রদান করেন আসাদুজ্জামান নূর। সেটি পাঠ করেও শোনান তিনি। এরপর চলে কথন পর্ব। এ পর্যায়ে একেকজন মঞ্চে এসে নানা রকম কৌতুকের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল হাসি ঠাট্টায় ভরিয়ে তোলেন। নোয়খালীর আঞ্চলিক ভাষায় ম্যাকবেথ নাটকের অংশবিশেষ পাঠ করে শোনান আতাউর রহমান। এর আগে দেবপ্রসাদ দেবনাথ দুলালের হাতে তার একটি পেইন্টিং তুলে দেয়া হয়। কথন পর্ব শেষে আবার শুরু হয় নাচ-গান। শিমুল ইউসুফ আবারও গেয়ে শোনান ‘এতদিন ওঠে সূর্য।’ এ ছাড়াও গান পরিবেশন করে জলের গানের রাহুল আনন্দ। এভাবেই নাচে-গানে ভরে ওঠে জন্মদিনের এই আয়োজনটি।

যুক্তরাজ্য ও জার্মানি বইমেলায় যাচ্ছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী ॥ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠেয় ‘তৃতীয় বঙ্গবন্ধু বইমেলা’ এবং জার্মানিতে অনষ্ঠিতব্য ‘ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা’তে যোগদানের জন্য সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর দেশ দুটি সফরে যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবেন।

যুক্তরাজ্যের ইউরোপিয়ান কলেজ অব ল’ ২০১৩ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর প্রকাশিত গ্রন্থাবলী ও অন্যান্য প্রকাশনার একক বইমেলার আয়োজন করে আসছে। সে ধারাবাহিকতায় এ বছরের অক্টোবর মাসের ১১ ও ১৩ তারিখ অক্সফোর্ড হাউস, বেথনালগ্রিন, লন্ডনে ‘তৃতীয় বঙ্গবন্ধু বইমেলা’ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের বইমেলায় ব্রিটেনের শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রবাসী বাঙালী বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম সম্পৃক্ত থাকবেন। ইতোমধ্যে এ বইমেলা যুক্তরাজ্যে আলোচিত ও আকর্ষণীয় বইমেলা হিসেবে সমাদৃত হয়েছে। এবারের বইমেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকায় মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অন্যদিকে ১৪-১৮ অক্টোবর পর্যন্ত জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বইমেলা ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা। এবারই প্রথম এ মেলায় বাংলাদেশ নামে একটি স্টল থাকবে। স্টলটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি। এ বইমেলায় বাংলাদেশ স্টলের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া