২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বর্ণসূত্রে মোড়কীকরণ

আইন আছে নিয়ম-নীতি, বিধি-বিধান মেনে চলার। জরিমানা আছে এই আইন ভাঙ্গার। তবে জরিমানা নেয়ার কায়দা-কানুনের মেলে না দেখা। আর মিলবেইবা কেমন করে, যেখানে প্রয়োগই হয় না আইন। আর আইন ভাঙ্গার জরিমানা আদায়েরও নেই লোকবল। আইন থাকলেই যে তা কাজে লাগাতে হবে তেমনটা হয়ত মনেই করেন না কর্তৃপক্ষ। অথবা আইন প্রয়োগ হতে পারে আলস্য দোষের আকরের উদাহরণ। দায়িত্ব যাদের আইন বহালের তাদেরই যদি না থাকে রপ্ত আইনের বিধি-বিধান তাহলে বৃথাই আইন প্রণয়ন। তবু ‘কাজীর গরু কেতাবে’ থাকার মতো একটা আইন যে রয়েছে সেটাইবা কম কিসে। পাঁচ বছর আগে সংসদে পাস হয়েছে আইন। অথচ বাস্তবায়ন করার নেয়া হয়নি তেমন কোন পদক্ষেপ। আর এ কারণে মাসুল দিতে হচ্ছে দেশবাসীকেও। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের মাত্রা রোধ করা যাচ্ছে না। এসবের প্রতি কোন নজর দেয়ার সময় বোধ হয় কর্তৃপক্ষের নেই। আর তা নেই বলেই অবাধে নিষিদ্ধ পণ্য উৎপাদিত হয়ে পরিবেশের ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনছে। এত কথার অবতারণার কারণ পাটের ব্যবহার বাড়াতে রয়েছে আইন; কিন্তু তা হচ্ছে না প্রয়োগ। তবে অনেককাল পরে এসে টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের। তারা এখন চায় আইনটি প্রয়োগ হোক।

পণ্য মোড়কীকরণের ক্ষেত্রে সোনালি আঁশখ্যাত পাটের ব্যবহার বাড়াতে ২০১০ সালে মোড়কীকরণ আইন তথা জুট প্যাকেজিং এ্যাক্ট করা হয়েছিল। কিন্তু আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় মোড়কীকরণের ক্ষেত্রে পাটের ব্যবহার যেমন বাড়েনি, তেমনি সাধারণের মধ্যে প্রচলনও হচ্ছে না পাটের জিনিসের ব্যবহারের। অথচ পাট হচ্ছে সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্য। তার ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহারের কারণে নদী-নালা, খাল-বিল, এমনকি ঢাকার ড্রেনগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বৃষ্টিতে উপচেপড়া পানিতে ডুবে যায় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িও। দুর্দশার এন্তার ছড়াছড়ি কেবল। মানুষের বাড়ছে দুর্ভোগ, দূষণ হচ্ছে পরিবেশ। তদুপরি পাট ও পাটপণ্যের ব্যবহার না থাকায় সরকারী ও বেসরকারী পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সার ছয়টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটের ব্যবহার না করলে উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা রয়েছে আইনে। গত বছর আইনটি কার্যকরের উদ্যোগ নিয়ে কিছুটা পথ এগোনোর পর তা হোঁচট খেয়ে পড়েছিল। মূলত গ্রাহকের অনীহা ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে সংশ্লিষ্টরা পাটের ব্যবহারে অনাগ্রহী। তাছাড়া ভালমানের পাটের বস্তা সরবরাহ করতে পারছে না পাট অধিদফতর। পাটের বস্তা সহজলভ্য না হওয়ায় পাটের বস্তায় উল্লেখিত পণ্য মোড়কীকরণ করা হচ্ছে না। চাল মোড়কীকরণে পাটের বস্তায় যেখানে ব্যয় হয় ৯০ টাকা, সেখানে প্লাস্টিকের বস্তায় ব্যয় হয় মাত্র ২৫ টাকা। তাছাড়া পাটের বস্তায় ছিদ্র থাকে এবং খুব সহজেই বাতাস ঢুকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ব্যবহারে অনীহা। এক্ষেত্রে পাট মন্ত্রণালয় পাটকলগুলোতে যথাযথমানের বস্তা উৎপাদনে এগিয়ে না এলে সবই বৃথা। পাটের বস্তার ব্যবহার করা না হলে প্রথমবার আইন অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা বা এক বছরের কারাদ- এবং দ্বিতীয়বার করা হলে উভয় দ-ে দ-িত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বিধান কার্যকরের উদাহরণ মেলে না। সর্বশেষ উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারীকে শাস্তি হিসেবে ব্যাংকঋণ না দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ব্যবহারসহ পাটের বহুমুখিনতা বৃদ্ধি পাবে- এটা দেশবাসীর মতো পাটচাষীদেরও চাওয়া-পাওয়া। সুতরাং, এক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়াই সঙ্গত।