২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছে আইএস

  • দুঃসহ যন্ত্রণা আর মৃত্যুর মুখোমুখি এক পরিবার

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সঙ্কেত আসে। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কামান পূর্ব দিকে তাক করা হয়েছে। এর অর্থ হলো সিরিয়ায় উত্তরাঞ্চলীয় শহর মারেয়ায় হামলা আসন্ন। রেডিওতে ঘোষণা করা হয়, একটি শেল নিক্ষেপ হয়েছে, সতর্ক হোন। ঘরের ভেতরে পরিবারের সঙ্গে থাকা এক বিদ্রোহী যোদ্ধা আবু আনাস ইশারা এই রুটিন জানেন। একটি শেল পড়ে বিস্ফোরিত হতে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু মারেয়ায় এত বেশি হামলা হয়েছে যে এতে আবু আনাস ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই তিনি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেননি। তখন তার স্ত্রী নাদা তাদের ছোট মেয়ে সিদ্রাকে খাওয়াচ্ছিলেন। শেলটি তার বাড়ির ছাদের ওপরেই আঘাত হানে।

ধুলো ও দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়ায় ঢাকা পরা ওই দম্পতির তিন বছরের মেয়ে শাহাদ ‘বাবা’ বলে কেঁদে ওঠে। শেলটি বাড়ির ছাদের অল্প অংশ ভেঙ্গে ভেতরে পড়ে। কিন্তু বিস্ফোরিত হয় না। আবু আনাস ও নাদা প্রায় অক্ষত অবস্থায় তাদের শিশুদের বাইরে বের করে আনে। এটি ছিল ২১ আগস্টের সকালের ঘটনা। রাসায়নিক গ্যাস ভর্তি শেল বিস্ফোরণের পর ওই পরিবারের দুঃসহ যন্ত্রণা ১৯৯০ এর দশকের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধে পর ওই স্মৃতিকে পুনরজ্জীবিত করেছে আইএস। হামলায় আবু আনাস ও নাদার শরীরে ফোস্কা পড়ে, বড় মেয়ের শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর তুরস্কের হাসপাতালে দুই সপ্তাহ পরে তাদের ছোট মেয়ে সিদ্রা ৪ সেপ্টেম্বর মারা যায়। মারেয়ায় ২১ আগস্টের হামলায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ রাসায়নিক গ্যাস সালফার মাস্টার্ড ব্যবহার করা হয়েছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বসন্তের পর থেকে ইরাক ও সিরিয়ায় দুই ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র অনেকবার ব্যবহার করেছে আইএস। তাদের হাতে কতগুলো রাসায়নিক অস্ত্র আছে তা এখনও অজানা। সিরীয় বিদ্রোহী ও কুর্দি মিলিশিয়া অবস্থানের ওপর অনেক রাসায়নিক হামলা হয়েছে। তবে মারেয়ার হামলা অনেক জটিল। সিরিয়ার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আবু আনাস এর আগে শুনেছিলেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকার নার্ভ গ্যাস ও ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার করেছেন। তবে তিনি সন্দেহও করতে পারেননি যে জঙ্গীরাও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছে। তার বাড়িতে আঘাত হানা শেলটি ভিন্ন ধরনের। এটি বিস্ফোরিত হয়নি। শেলটি আঘাত হানার পর তার বাড়ি গন্ধে ভরে ওঠে, অনেকটা পচা ডিম, রসুন বা পচা জিনিসের মতো। এমনকি তার পোশাক থেকেও গন্ধ আসছিল। সালফার মাস্টার্ড গ্যাসে জ্বালাপোড়া হয় এবং এটি ত্বক, চোখ ও শ্বাসনালীর ক্ষতি করে। তবে এর প্রভাব সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায় না। কয়েক ঘণ্টা পরে এর উপসর্গ দেখা যায়। হামলার পরে বিকেলের দিকে আবু আনাসসহ পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিকেলে মারেয়ার হাসপাতালের মাঠ কর্মীরা তাদের পরীক্ষা করে দেখে হাসপাতালে নিয়ে যায়। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস