১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিনিয়রদের নৈপুণ্যে নাখোশ কোচ গামাগে

  • পাকিস্তান সফর শেষে বললেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের কোচ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পাকিস্তান সফর শেষে বুধবার দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল। সফরে পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট দলের বিপক্ষে দুটি টি২০ ও দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে সালমা খাতুনরা। একটি ম্যাচও জিততে পারেননি। কারণ, ব্যাটাররা যে ব্যর্থ হয়েছেন। এ জন্য সিনিয়র ক্রিকেটারদেরই দায়ী করেছেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের কোচ চাম্পিকা গামাগে।

গামাগে বলেছেন, ‘ব্যাটিংয়ে বাজে করার জন্য দলের এই পারফর্মেন্স। সিনিয়র ক্রিকেটাররা ব্যাটিং ভাল করতে পারেনি। প্রস্তুতি ভাল ছিল। এখানে (দেশের মাটিতে) অনুশীলন হয়েছে। অনুশীলন ম্যাচ খেলেছি আমরা। ব্যাটিং নিয়ে আলাদা করে কাজ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাটিংটা ইউনিট হিসেবে ভাল করতে পারেনি।’ বুধবার দেশে ফিরতেই জানতে পেরেছেন, প্রধান কোচের দায়িত্ব আরও ১ বছর বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কোচকে হতাশই থাকতে হয়েছে। পাকিস্তানে গিয়ে যে দলের ভরাডুবি হয়েছে। দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৯ রানে ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। টি২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। এরপর যখন দুই ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হয়, তখনও একই দশা হয়। প্রথম ওয়ানডেতে ২০ রানে ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। গামাগে হতাশার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘সিনিয়ার ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করতে পারেনি। দায়িত্ব জ্ঞানহীন ব্যাটিং করেছে। এ জন্যই ব্যাটিংয়ের অবস্থা এত বাজে ছিল। নতুন ২টা মেয়ে (নাহিদা আক্তার, নিগার সুলতানা) ভালই করেছে। কিন্তু সিনিয়র ব্যাটারদের নিয়ে আমি খুশি নই। ওরা দায়িত্বহীন ব্যাটিং করেছে।’টি২০ সিরিজে রুমানা আহমেদ (২ ম্যাচে ৪৯ রান), ফারজানা হক (২ ম্যাচে ২৯ রান), আয়েশা রহমান (২ ম্যাচে ২৮ রান), রিতু মনি (১ ম্যাচে ১৭ রান), লতা ম-ল (২ ম্যাচে ১৬ রান), সালমা খাতুন (২ ম্যাচে ১৫ রান) ব্যর্থ হয়েছেন। পাকিস্তানের বিসমাহ মারুফ যেখানে ২ ম্যাচে ১০৯ রান করেছেন, সেখানে বাংলাদেশের ৬ সিনিয়র ব্যাটসম্যান মিলে করেছেন ১৫৪ রান!

ওয়ানডেতেও একই দুর্দশায় কেটেছে। রুমানা (২ ম্যাচে ৭০ রান), আয়েশা (১ ম্যাচে ৩৯ রান), রিতু (২ ম্যাচে ৩৫ রান), শামিমা সুলতানা (২ ম্যাচে ২৭ রান), ফারজানা (২ ম্যাচে ২৬ রান), জাহানারা (২ ম্যাচে ২৩ রান), লতা (২ ম্যাচে ১৬ রান), সালমা (২ ম্যাচে ১০ রান) ব্যর্থতার ষোলো কলা পূর্ণ করেছেন। এখানেও বিসমাহ মাত করেছেন। একাই ২ ম্যাচে ৬৬.৫০ গড়ে ১৩৩ রান করেছেন।

গামাগে বলেন, ‘এটাই সামর্থ্য নয়, মেয়েরা আরও ভাল ব্যাটিং করতে পারে। অনুশীলনে, ম্যাচে তো ভাল ব্যাটিং করে। পাকিস্তানের বোলিংও এমন ভাল কিছু ছিল না। একটা বাঁহাতি স্পিনার ছিল শুধু ভাল, পেসাররা তো অনেক মন্থর বোলিং করে। উইকেটও অনেক ভাল ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য। আমাদের ভাল ব্যাটিং করতে না পারার কারণ নেই। আমি তো জানি মেয়েদের সামর্থ্য। অনেক ভাল করতে পারে ওরা। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করতে পারেনি ২-১ জন ছাড়া। সালমা টি২০ এক নম্বর অলরাউন্ডার। অনেক দিন ধরে খেলছে। ভাল ক্রিকেটার সে। কিন্তু তার মতো একজন ক্রিকেটারের আরও দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করা উচিত ছিল। টপঅর্ডার ব্যাটারদের কেউই উইকেটে থাকতে পারেনি। শেষ ওয়ানডেতে তো সবাই বাজে শটে আউট হয়েছে। ব্যাটিং নিয়ে আমি খুবই হতাশ।’

মেয়াদ বেড়েছে। তবে লক্ষ্য একটাই থাকছে গামাগের। র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করা। বলেছেন, ‘দায়িত্ব নিয়েই বলেছিলাম আমার টার্গেট আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে দলকে ওপরে আনা। এখন মেয়াদ বেড়েছে, আমার লক্ষ্য ওটাই। আর ভবিষ্যতের লক্ষ্য দলকে টি২০ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করানো।