২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘নিরাপত্তা শঙ্কা’ দূর করতে পারে বিপিএল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পুরুষ ক্রিকেট দলকে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ সফরে পাঠায়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। এরপর একই পথে হেঁটেছে দক্ষিণ আফ্রিকাও। মহিলা ক্রিকেট দলকে তারা বাংলাদেশ সফরে পাঠাচ্ছে না। এ দুই দল সফরে না আসাতে বিদেশী ক্রিকেটারদের বাংলাদেশে এসে ক্রিকেট খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়ে গেছে। সেই শঙ্কা পুরোপুরি দূর করবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল-টি২০)। কারণ? সব দেশের ক্রিকেটাররাই যে বিপিএলে খেলবেন। সবার অংশগ্রহণে বিপিএল যদি শেষ করা যায়, তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে আর কোন কথাই কোন দেশের থাকবে না। এমনটিই বিশ্বাস করছেন বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গবর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক। মল্লিকের সঙ্গে একমত হয়েছেন আরেক বিসিবি পরিচালক, সাবেক অধিনায়ক ও বিপিএলে ক্রিকেটারদের সবকিছু নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা খালেদ মাহমুদ সুজন।

মল্লিক বলেছেন, ‘আশা করছি বিপিএল সুষ্ঠুভাবে হবে। এবং এ লীগ শেষ হলেই নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে তা দূর হয়ে যাবে। বিদেশী ক্রিকেটাররা বিপিএল খেলে গেলে নিরাপত্তা নিয়ে আর কোন শঙ্কাই থাকবে না। বিদেশী ক্রিকেটারদের যে তালিকা করা হচ্ছে, তাতে ভালই সাড়া মিলছে। কেউই এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না।’ সুজন জানালেন, ‘১৭০ এরও বেশি বিদেশী ক্রিকেটারের নাম পেয়েছি আমরা। যাদের ‘প্লেয়ারস বাই চয়েজে’ রাখা হবে। সব দেশের ক্রিকেটাররাই থাকবেন। হয়ত কোন দেশের সিরিজ চলায় কিংবা ঘরোয়া লীগ চলায় কয়েকটি দলের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলতে পারবেন না। তবে সব দেশের ক্রিকেটারদেরই অংশগ্রহণ থাকবে বিপিএলে। সবাই খেলে গেলে জমজমাট একটা আসর হয়ে গেলে নিরাপত্তা নিয়ে কারও কোন কথাই থাকবে না।’

বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের নিয়ে বেশি ভাবনা হচ্ছে। বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। মহিলা ক্রিকেটারদের পাঠায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংল্যান্ডও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। নিউজিল্যান্ডও অস্ট্রেলিয়ার অবস্থাই করবে। তাই এ তিন দলের ক্রিকেটারদের নিয়েই ভাবতে হচ্ছে। এরসঙ্গে আন্তর্জাতিক সূচীও ঝামেলা পাকাচ্ছে। ভারতের কোন ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে না, তা আগে থেকেই জানা। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড কোন দেশের টি২০ লীগে ভারত ক্রিকেটারদের খেলতে ছাড়পত্র দেয় না। দক্ষিই আফ্রিকার ক্রিকেটাররা বিপিএলের সময় ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে ব্যস্ত থাকবেন। সিরিজ চলবে ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাই টেস্ট দলে যে ক্রিকেটাররা থাকবেন, তাদের পাওয়া যাবে না। তবে বাকিদের মধ্যে কয়েকজনকে মিলতে পারে। পয তালিকা হচ্ছে, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটাররাও আছেন বলে জানা গেছে।

বিপিএলের উদ্বোধন হবে ১৯ নবেম্বর। লীগ শুরু হতে পারে ২১ নবেম্বর। এ লীগ যখন চলবে তখন পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ হবে। ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের তাই মেলা কঠিন। তবে পাকিস্তান ক্রিকেটারদের মধ্যে শহীদ আফ্রিদিসহ যারাই খেলার সুযোগ পাবেন, তারাই খেলবেন। নবেম্বরের পর সব পাকিস্তানী ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে। সঙ্গে ইংলিশ ক্রিকেটারদেরও মিলতে পারে। যাদের মধ্যে রবি বোপারা অন্যতম।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড, এই দুই দলের ক্রিকেটারদের পাওয়া কঠিন। ধরেই নিতে হচ্ছে, এ দুই দলের ক্রিকেটারদের মিলবে না। বিপিএল চলার সময়ই যে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলবে। এরপরও জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটারদের বিপিএলে খেলানোর ভাবনা চলছে।

বিপিএলের শুরুতে অবশ্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটারদের মিলবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শেষে বিপিএলের শুরুতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটারদের খেলানো যাবে। আর বিপিএল শুরু হলে মাঝের সময়টায় যারা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা টেস্ট দলে থাকবেন না, তাদের পাওয়া যাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের অবস্থাও একই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ শেষেই বিপিএলের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা অংশ নিতে পারবেন। এরপর মাঝামাঝি সময়ে যারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলে অংশ নেবেন না, তারা খেলতে পারবেন। আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটাররা থাকবেনই। আর জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেটাররা তো নবেম্বরে যে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আসবেন, বিপিএল শেষ না হওয়ার আগে আর বাংলাদেশই ছাড়বেন না। যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে বিদেশী দলগুলো থেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাওয়া কঠিন। তবে বিপিএলে যে ৬ দল অংশ নিচ্ছে, দলগুলোর ফ্র্যাঞ্চাইজিরা (ঢাকার বেক্সিমকো গ্রুপ, বরিশাল বার্নার্সের এক্সিওম গ্রুপ, চট্টগ্রামের ডিবিএল গ্রুপ, সিলেটের আলিফ গ্রুপ, রংপুরের আই স্পোর্টস ও কুমিল্লার মালিক রয়েল স্পোর্টস) নিজেদের প্রচেষ্টায় ঠিকই ক্রিস গেইল, শহীদ আফ্রিদি, কুমার সাঙ্গাকারাদের মতো ক্রিকেটারদের দলে ভেড়াচ্ছে। কারণ, ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ বিদেশী বড় মাপের ক্রিকেটারদের রাখা হচ্ছে না। দলগুলোর উপরই ছেড়ে দেয়া হয়েছে তা। যে দল যাকে ভেড়াতে পারে দলে। দুই বছর বিরতির পর আবার বিপিএল টি২০ শুরু হচ্ছে। ৩১ অক্টোবর বিদেশী ক্রিকেটারদের ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ পদ্ধতিতে ক্রিকেটার দলে ভেড়ানোর কাজ সম্পন্ন করা হবে। বিদেশী ক্রিকেটারদের সর্বনিম্ন বেস প্রাইজ ধরা হয়েছে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। আর সর্বোচ্চ মূল্য ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিরাপত্তার বিষয়টি কালো মেঘের মতো ছেয়ে গেছে। এ মেঘ দূর করতে হলে এখন সামনে একটিই উপায় আছে।

বিপিএলে সব দেশের বিদেশী ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ। সেটি জাতীয় দলের হোক কিংবা জাতীয় দলের বাইরে হোক। বিদেশী ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে বিপিএল সুষ্ঠুভাবে শেষ হলেই ‘নিরাপত্তা শঙ্কা’ পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে। আর তা করতে বদ্ধপরিকর বিসিবিও। সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বললেন, ‘আমরা নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভালভাবেই ভাবছি। বিদেশী ক্রিকেটারদের একই হোটেলে রাখা হবে। যেন সবাইকে নিরাপত্তা ভালভাবে দেয়া যায়।’ তা করা গেলে নিরাপত্তা শঙ্কাও দূর হয়ে যাবে। তখন বিদেশী দলগুলোর বাংলাদেশে খেলতে আসতেও কোন বাধা থাকবে না। সেই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ভাল আছে, সেই ভীতও গড়া হয়ে যাবে। এ চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব বিপিএলের মাধ্যমেই।