২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কক্সবাজারে সওজের জমি ॥ দখলের মহোৎসব

  • ভুয়া খতিয়ান

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ চকরিয়ায় থানা সড়কের ফায়ার স্টেশন ও খোদারকুম এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোটি টাকার জায়গা জবরদখলের প্রতিযোগিতা চলছে। গত এক মাস ধরে স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের জমির লাগোয়া সড়ক বিভাগের ওসব জায়গা তাদের মালিকানাধীন বলে কৌশলে জবর দখল করে নিচ্ছে। সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কোন ধরনের তৎপরতা না থাকায় তারা দিবা-রাত্রি কাজ করে ১৫-২০টি দোকান নির্মাণ করেছে। উপজেলা ও থানা পুলিশের চলাচলের প্রধান সড়কের পাশে সরকারী জায়গা জবরদখল উৎসব অব্যাহত থাকলেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখেও দেখে না।

সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিজেদের ক্রয়কৃত জমির মাথাখিলা স্থানে দোকান নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছে জানা গেছে, চকরিয়া থানা সড়ক হয়ে প্রবহমান চিরিঙ্গা-বদরখালী-মহেশখালী সড়কটি একসময় কক্সবাজার জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরবর্তীতে সড়কটি কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। এরপর চকরিয়া থানা রাস্তার মাথা থেকে বদরখালী হয়ে মহেশখালী পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ৪০ ফুট করে ৮০ ফুট জায়গা অধিগ্রহণ করে সড়ক বিভাগ।

ওই সময় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সড়কটি যাওয়ার কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সড়ক বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকদেরকে ক্ষতিপূরণর টাকাও দেয়। এলাকাবাসী জানায়, বর্তমান সময়ে চকরিয়া পৌর শহরে জায়গার দাম বেড়ে গেলে থানা সড়কের ফায়ার স্টেশন ও খোদারকুম এলাকায় সড়ক লাগোয়া অধিগ্রহণকৃত জমির পূর্বের খতিয়ান মালিকের প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরকে বানোয়াট তথ্য দিয়ে ওই জায়গা আগে অধিগ্রহণ হওয়ার বিষয়টি গোপন রেখে ইতোমধ্যে নামে-বেনামে একাধিক নতুন ভুয়া খতিয়ান সৃজন করেছে। ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহায়তায় তৈরি করা ওসব ভিত্তিহীন খতিয়ানের অনুবলে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বর্তমানে সড়কের ফায়ার স্টেশন ও খোদারকুম এলাকায় সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে মেতে উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, দখলবাজরা সড়কের পাশে সরকারী খরচে রোপণ করা বিপুল পরিমাণ মূল্যমান গাছও কেটে লুট করেছে। আবার অনেকে সড়কের এসব গাছ কেটে দোকান নির্মাণ কাজে ব্যবহার করছে।

দখলবাজদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের চকরিয়া শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক বিভাগের জায়গা দখলের খবর পেয়ে বাধা দিই। কিন্তু অভিযুক্তরা তা অমান্য করায় তাদের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখতে ইতোমধ্যে নোটিসও দেয়া হয়েছে। এর পরও নির্মাণ কাজ বন্ধ না হলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।