১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গী মোকাবেলায় প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গী মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

দেশে এখন অপরাজনীতি চলছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, সারা বিশ্বে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে উঠলেও আমাদের দেশে সরকারের সঙ্কীর্ণতার কারণে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠছে না। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিবিদরা কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ না করলে উগ্রপন্থীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্কীর্ণতা ও দেশে গণতন্ত্রহীনতার কারণে সন্ত্রাসী জঙ্গীগোষ্ঠী সুযোগ গ্রহণ করতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। তাই দেশ রক্ষার স্বার্থে সবাইকে ঐক্য গড়ে তুলতে এগিয়ে আসতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করতে হবে।

ফখরুল বলেন, সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া কিছু বিষয় নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনায় আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ থেকে দেশ রক্ষায় প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। সে ঐক্যে দেশের রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, পেশাজীবী ও আলেম-ওলামারা থাকবেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এর আগেও আমাদের দেশে জঙ্গীবাদের সূচনা হয়েছিল। সে সময় আমাদের আলেম-ওলামারা মসজিদে মসজিদে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের সহযোগিতায় আমরা দেশ থেকে সফলভাবে জঙ্গীবাদ নির্মূলও করেছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আজ সরকারের একটি অংশের সঙ্গে আরেকটি অংশের কথার কোন মিল নেই। একটি অংশ বলছে, দেশে আইএসের মতো জঙ্গীগোষ্ঠীর অস্তিত্ব আছে। আরেকটি অংশ বলছে নেই। গণতন্ত্রহীনতার কারণে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এ ছাড়া সরকার রাজনৈতিক কারণে, সকল সন্ত্রাসী কর্মকা-ের দায় চাপাচ্ছে প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদদের ওপর।

মির্জা ফখরুল বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ-বিদেশে কেউ গ্রহণ করেনি। তাই আমরা বার বার বলছি, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আলোচনা প্রয়োজন। কারণ, আলোচনার মাধ্যমেই গণতন্ত্র বিকশিত হয়। কিন্তু সরকার আলোচনার পথ সুগম করছে না। এমনকি বিরোধী দলকে রাজপথে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচীও পালন করতে দিচ্ছে না।

বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান ও আসাদুল করিম শাহীন এবং কৃষকদলের নেতা তকদির হোসেন জসিম।