২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তামাক সেবনে বছরে ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শুধুমাত্র তামাক সেবনের কারণে দেশে প্রতিবছর ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায় বলে দাবি করেছে তামাকবিরোধী জোট নামের একটি সংগঠন। তাদের মতে একই কারণে ৩ লাখ ৮৩ হাজার মানুষকে পঙ্গুত্ববরণ করতে হচ্ছে। কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ২ কোটি মানুষ।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ, অসংক্রমক রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন চাই শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তারা এ তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে মানুষের মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে ৬০ ভাগ রোগীকে সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব।

বক্তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ন বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত মাদক সেবন ও ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, পরিবেশ দূষণসহ আরও নানা কারণেও অসংক্রামক রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রাধান্য পাচ্ছে না। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তামাক ব্যবহার বন্ধ ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে আইন ও নীতি প্রণয়ন, অবকাঠামো তৈরি বা পরিবর্তন, জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণের কথাও বলেন বক্তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে যারা নিয়মিত তামাক সেবন করছে তাদের প্রতি দু’জনের একজন তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যুবরণ করছে। তামাক সেবন মানুষকে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে। এ কারণে বিভিন্নরকম ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, এজমাসহ নানা মৃত্যুঘাতী রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। যে পরিবার এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সে পরিবার নানা সঙ্কটের মধ্যে পড়ছে। এসব রোগে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতেও সরকারের স্বাস্থ্য খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

তাদের মতে, দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণের অগ্রগতি যেমন রয়েছে, তেমনি হতাশাও রয়েছে। সাধারণ মানুষকে তামাকের নেশা থেকে দূরে রাখতে যে রকম কঠোর অবস্থান দরকার, সে ধরনের কোন পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে লক্ষ্য কর যায়নি। ফলে মৃত্যুঘাতী তামাক ব্যবসা প্রসারের মাধ্যমে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে। তামাক কোম্পানির প্রভাবের কারণে সরকারকে প্রায়শই নতিস্বীকার করতে দেখা যায়। তবে আশার কথা সরকার ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে ২০০৫ সালে নিয়ন্ত্রণ আইন পাস করেছেন। সারাদেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠন করা হয়েছে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর করহার তুলনামূলক কম হলেও ক্ষতিকর এসব পণ্যের ওপর আলাদাভাবে স্বাস্থ্যকর আরোপ করার পদক্ষেপ বৈশ্বিক পরিম-লের প্রশসিংত হয়েছে। বাংলাদেশের তামাক নিয়ন্ত্রণসহ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ইতিবাচক উদ্যোগকে অনুকরণীয় হিসেবে দেখছে তারা। স্বাস্থ্যকর হিসাবে গৃহীত অর্থের সঠিক ব্যবহারের পদক্ষেপ বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে উল্লেখ করেন।

তামাকবিরোধী জোটের আলোচনা সভায় সংগঠনের সমন্বয়ক সাইফুদ্দিন আহমেদ, কারিগরি পরামর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম, জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ মোজাহেরুল হক, প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।