১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

শিক্ষকদের সবচেয়ে বেশি বেতন ও মর্যাদা দেয়া হবে ॥ শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা আছে মন্তব্য করে সরকারের উপর আস্থা রাখতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, সরকার শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শিক্ষকদের সম্মান সবার ওপরে। শিক্ষকদের দাবির প্রতি আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।

শুক্রবার সকালে বেসরকারী আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ জাতীয় শিক্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনজুর আহমদ, আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এএমএম সফিউল্লাহ, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলম প্রমুখ। অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘেষণার পর পদমর্যাদা অবনমনের প্রতিবাদ এবং বেতন বৈষম্য নিরসনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। চলতি মাসের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কমিশন গঠন এবং পদমর্যাদার সমস্যা নিরসন না হলে ১ নবেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে বসেছি, দীর্ঘ আলোচনা করেছি। আমাদের উপর আস্থা রাখতে হবে। শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের শ্রদ্ধা আছে, সম্মান আছে। বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি শীঘ্রই কাজ শুরু করবে। ভবিষতে শিক্ষকদের সব থেকে বেশি বেতন ও মর্যাদা দেয়া হবে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা এক নম্বর ব্যক্তি হবেন সেটাই আমাদের চেষ্টা। শিক্ষকদের নিবেদিতপ্রাণ হয়ে শিক্ষা দেয়ার আহ্বানও জানান মন্ত্রী। শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে কীভাবে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ চান তিনি। শুক্রবার ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভর্তি পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান শিক্ষামন্ত্রী।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় শিক্ষকদের মর্যদা ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই সঙ্গে শিক্ষকের হাতে ছাত্রী লাঞ্ছনা, শিক্ষকদের বোমা তৈরির খবর এবং রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিতে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে এর বাইরেও অধিকাংশ শিক্ষক রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও মর্যাদার ব্যাপারে আপোস করা যাবে না। শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন রাশেদা কে চৌধুরী। অধ্যাপক মনজুর আহমদ মূল প্রবন্ধে শিক্ষকদের বর্তমান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার পরামর্শ দেন। এই কর্মপরিকল্পনায় জাতীয় শিক্ষা সেবা কোর গঠন, স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম চালুর সুপারিশ করেন অধ্যাপক মনজুর।