২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আদালতের বাইরে ৯০ শতাংশ বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে

  • এ্যাকসেস টু জাস্টিস বিষয়ক সম্মেলনে আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশেই আদালতে যাওয়ার আগে মধ্যস্থতা, সালিশ বা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। বিশ্বের অনেক দেশেই আদালতের বাইরে শতকরা ৯০ ভাগ মামলা নিষ্পত্তি হয়, বিচার বিভাগ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কার্যক্রমে উৎসাহিত করে। মামলা জট নিরসনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ৯০ শতাংশ বিরোধ আদালতের বাইরে বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘একসেস টু জাস্টিস : দ্য রোল অব কমিউনিটি মেডিয়েশন’ শীর্ষক এক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ও যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউকেএইড) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন কমিটি লিগ্যাল সার্ভিসেস (সিএলএস) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সেরকম একটা পরিস্থিতি তৈরির জন্য সরকার সচেষ্ট। মামলা জট কমানোর জন্য এ ব্যবস্থা বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। ৯০ শতাংশ মামলা কোর্টে যাবে নাÑ এমন মনোভাব উন্নয়নে কাজ করছি। আদালতের বাইরে এ ব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্য আস্থা সৃষ্টি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। এসময় সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিচার প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার ও বেসরকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ২৯ লাখ মামলা বোধ হয় খুব একটা বেশি নয়Ñ আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোস্তফিজুর রহমানের এমন মন্তব্যের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি বলব না স্বীকার করছি, এও বলব না অস্বীকার করছি। একটি হচ্ছে জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড। আরেকটি জাস্টিস হারিড, জাস্টিস বারিড। এ দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আমরা কাজ করে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

ঢাকার পারিবারিক আদালত কক্ষটি ছোট হওয়ায় সেখানে স্থান সঙ্কুলান না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এ রুম থেকে আদালত বড় রুমে নিয়ে যাওয়া যায় কিনা সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

সম্মেলনে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সহকারী পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন সরকারী আইনগত কার্যক্রমের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৯৫৪ জনকে আইনগত সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ২৭৫ জন নারী, ৫২ হাজার ৩৫৪ জন পুরুষ ও ৩৮ হাজার শিশুকে সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় সরকারী আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ১৪ হাজার ৩৭১টি দেওয়ানি ও ২৬ হাজার ৬১৫টি ফৌজদারিসহ মোট ৩৮ হাজার ৮৭৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আরও জানানো হয়, চলতি বছর সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১৭ জন লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা মাত্র তিন মাসে ২২৭টি এডিআরএর উদ্যোগ নেয়, ৮৬টি বিরোধ নিষ্পত্তি হয় ও ২২ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

সম্মেলনে বক্তারা বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রতিকার প্রার্থীদের আস্থা অর্জন, তাদের সচেতনতা সৃষ্টি, সালিশ প্রক্রিয়ায় নারী প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও সহায়তা প্রদানকারীদের প্রশিক্ষণ ও প্রতিকার প্রার্থীদের আস্থা অর্জনের ওপরও জোর দেন।

সিএলএসের টিম লিডার জেরোম সায়্যারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেনÑ জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক মালিক আব্দুল্লাহ আল-আমিন, সহকারী পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের সম্মানিত পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ইউএনডিপির অর্থায়নে এক্টিভেটিং কোর্টস ইন বাংলাদেশ (এভিসিবি) প্রকল্পের সমন্বয়ক সরদার এম আসাদুজ্জামান প্রমুখ।