২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি-জামায়াত জঙ্গীবাদের দোসর ॥ তাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য নয়

  • আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপি-জামায়াতকে ‘জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষক ও দোসর’ আখ্যায়িত করে তাদের সঙ্গে কোন ধরনের জাতীয় ঐক্যের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য হতে পারে না, হবেও না। কারণ জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে জঙ্গীবাদ দমনে জাতীয় ঐক্য হয় না। যারা পেট্রোলবোমা নির্ভর রাজনীতি করে ও জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য হবে কীভাবে? জাতীয় ঐক্য গড়তে হলে তাদের জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়তে হবে।

শুক্রবার রাজধানীতে পৃথক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতারা এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে জঙ্গী ও উগ্রবাদ রুখতে জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর জবাব দিতেই আওয়ামী লীগ নেতারা জাতীয় ঐক্যের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতীয় ঐক্য গড়তে চাওয়ার আগে বিএনপিকে জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব জঙ্গীবাদ রোধে ‘জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। আমরাও জাতীয় ঐক্য চাই, তবে শর্ত হলো জঙ্গীবাদের পৃষ্টপোষকতা ছেড়ে দিয়ে আসুন।

শুক্রবার সকালে শিল্পকলা একাডেমিতে শহীদ শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত জাতির পিতাকে নিয়ে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার প্রেক্ষাপটে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর জারি করা সতর্কবার্তাকে বাংলাদেশের ‘অগ্রযাত্রার প্রতি অবিচার’ উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশীরা নিরাপদ আছেন। আমরা তাঁদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছি। আর এ হত্যাকা- রাজনৈতিক মদদপুষ্ট পেশাদার খুনীর কাজ। আমরা খুনীদের অবশ্যই খুঁজে বের করব।

যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, কানাডাসহ কয়েকটি দেশ যে সতর্কবার্তা দিয়েছে তা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশী নাগরিকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়ার পরও বড় বড় কিছু দেশ বাংলাদেশে রেড এলার্ট জারি করেছে। এটা আমাদের অগ্রযাত্রার জন্য অবিচার। আমাদের জন্য এটা সুবিচার নয়, অবিচার করা হয়েছে। কেন এই সতর্ক অবস্থা বজায় আছে আমি জানি না। উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে অনুরোধ জানাই আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছি, দয়া করে এই সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করে নিন। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আশ্রয় দেয়া দেশগুলোর উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আত্মস্বীকৃত খুনীদের আশ্রয় না দিয়ে বিচারের রায় কার্যকর করতে সহায়তা করুন। আপনারা তাদের আশ্রয় দিতে পারেন না। কারণ তারা বাংলাদেশের জাতির পিতার হত্যাকারী।

শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের মহাসচিব মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রকিবুর রহমান, চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমজিৎ রায় চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পৃথক আরেকটি অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আমরাও জাতীয় ঐক্য চাই। ঐক্য হওয়া উচিত। আমরাও এটা বিশ্বাস করি। আর সেই ঐক্যও কিন্তু হয়েছে। কিন্তু যারা জঙ্গীবাদের দোসর, অর্থের যোগানদাতা, জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং জঙ্গীবাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তাদের নিয়ে কোন অবস্থাতেই জাতীয় ঐক্য হতে পারে না। জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে নিয়ে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কোন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের ঢাকা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, আজ প্রত্যেক পেশার মানুষ জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। শুধু জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষক আর গণতন্ত্র ও শান্তিবিরোধী কিছু আলখেল্লাধারীরা ছাড়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার একটা চক্রান্ত চলছে। বিগত দিনে যারা আগুন সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়েছে তারা সাময়িক নিশ্চুপ থেকে এখন সুবোধ বালকের মতো শান্তির কথা বলছে। তবে এটা মনে করবেন না যে তারা ষড়যন্ত্রের পথ থেকে দূরে সরে গেছে। কারণ তাদের জš§ই হচ্ছে হত্যা ও সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে। তারা সাময়িক শান্তির আলখাল্লা গায়ে দিয়ে ভাল কথা বলছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ নগর আওয়ামী লীগের শাহে আলম মুরাদ, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, অধ্যক্ষ শাহাজান আলম সাজু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ কর্তৃক ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ এবং ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন’ পুরস্কার ২০১৫ লাভ করায় তাঁকে অভিনন্দন জানাতেই এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।