১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শান্তিতে নোবেল পেল তিউনিসিয়ার চার সংগঠন

শান্তিতে নোবেল পেল  তিউনিসিয়ার চার সংগঠন
  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদান

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের জন্য এবার শান্তিতে নোবেল পেল তিউনিসিয়ার সুশীল সমাজের চার সংগঠন। সংগঠনগুলো হলো তিউনিসিয়ান জেনারেল লেবার ইউনিয়ন, তিউনিসিয়ান কনফেডারেশন অব ইন্ডাস্ট্রি ট্রেড এ্যান্ড হ্যান্ডিক্রাফট, তিউনিসিয়ান হিউম্যান রাইটস লীগ এবং তিউনিসিয়ান অর্ডার অব লইয়ার্স। এই সংগঠনগুলোর চার প্রধান হলেন হুসেন আব্বাসি, উইদেদ বুশামাওই, আব্দে সাত্তার বেন মুসা ও ফাজেল মাহফুজ।

নরওয়ের নোবেল শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান কাচি কুলমান ফাইভ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ২০১৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে এই চার সংগঠনের নাম ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, আলাদা সংগঠন হিসেবে নয়, যৌথ প্রচেষ্টার জন্যই এই চার সংগঠনকে এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। কাচি কুলমান আরও বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য আলফ্রেড নোবেল তার উইলে যা উল্লেখ করে যান এই চার সংগঠন গণতন্ত্রীকরণে অনুরুপ ভূমিকা পালন করেছে।

২০১১ সালে তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের পর একেবারে গৃহযুদ্ধের দারপ্রান্তে থাকা দেশটিকে কিভাবে গণতন্ত্রে ফেরানো যায় এ বিষয়ে যৌথ মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা রাখে এই চার সংগঠন। খবর বিবিসি, এএফপি, আলজাজিরা ও টেলিগ্রাফ অনলাইনের।

এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ে আলোচনায় ছিল ২০৫ ব্যক্তি এবং ৬৮ সংগঠন। তালিকায় জার্মানির চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মেরকেল, পোপ ফ্রান্সিস, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও কঙ্গোর চিকিৎসক ডেনিস মাকোয়েজসহ আরও অনেকের নাম ছিল। তবে, শেষ পর্যন্ত চমকে দিয়ে তিউনিসিয়ার ‘অখ্যাত’ চার সংগঠনের ঘরেই নোবেল তুলে দেয়ার ঘোষণা আসে।

আরব বসন্তের পর ২০১৩ সালে তিউনিসিয়া যখন রাজনৈতিক এবং অর্থনীতি সঙ্কটে নিমজ্জিত, একের পর এক গুপ্ত হত্যা এবং সামাজিক অসন্তোষ দানা বাধছিল ঠিত তখনই জোটবন্ধ হয়ে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এই চার সংগঠন। দেশটির ইসলামপন্থী এবং ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর মধ্যে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে। তাদের ভূমিকার জন্য দেশটিতে প্রথমবারের মতো অবাধ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

পুরস্কার পাওয়ার খবরে এই চার সংগঠনের একটি জেনারেল লেবার ইউনিয়নের প্রধান হুসেন আব্বাসি বলেন, গণতান্ত্রিক তিউনিসিয়ার শহীদদের প্রতি আমি এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি।

এদিকে তিউনিসিয়ার সুশীল সমাজের এই সংগঠনগুলো শান্তিতে নোবেল পাওয়ায় বিশ্বনেতারা অভিনন্দন জানিয়েছেন। টুইটারে শুভেচ্ছা জানিয়েছে জাতিসংঘ। পাশাপাশি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওঁলাদ, তিউনিশীয় প্রেসিডেন্ট বাজি সাইদ আসসুবসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধানসহ অন্যরা। ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর পুলিশের দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারে প্রতিবাদে মোহাম্মদ বোয়াজিজি নামের এক তরুণের আত্মাহূতির মাধ্যমে তিউনিসিয়ায় আন্দোলনের শুরু হয়।

সেই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের রূপ পায় এবং ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি দেশটির প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবিদিন বেন আলির ২২ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। মূলত এখান থেকেই আরব বসন্তের শুরু।

এই চার সংগঠন তিউনিসিয়ার সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব করে; আইনের শাসন ও মানবাধিকারের মৌলিক ধারণা নিয়ে তারা মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করে। এর ভিত্তিতেই তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এগিয়ে আসে এবং তিউনিসিয়াকে শান্তি ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নেয়ার নৈতিক দায়িত্বটি পালন করে।

শিশু ও তরুণদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর শান্তিতে নোবেল পান তালেবান হামলায় বেঁচে যাওয়া পাকিস্তানী কিশোরী মালালা ইউসুফজাই ও ভারতের শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থী। পুরস্কার বাবদ একটি সোনার মেডেল ও ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার) পাবেন চলতি বছরের বিজয়ীরা। আগামী ১০ ডিসেম্বর অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে এ পুরস্কার।

নির্বাচিত সংবাদ