২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে কমিশনারের বিরুদ্ধে ডিশ ব্যবসা দখলের অভিযোগ

  • দুই গ্রুপের মধ্যে চলছে অস্ত্রের মহড়া ॥ উত্তেজনা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাড়া-মহল্লায় কেবল টিভির (ডিশ) ব্যবসা নিয়ে চলছে দখলবাজি। অনেকেই অন্যের দীর্ঘদিনের ব্যবসা দখল করে নিচ্ছে গায়ের জোরে। এ নিয়ে প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটছে। আবার খুনের মতোও ঘটনা ঘটছে। কেবল টিভির নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালকের দফতরে এমন অভিযোগের পাহাড় জমেছে। কিন্তু কোন ঘটনার সমাধান করতে পারেনি বিটিভি। বেশির ভাগ ঘটনা ঘটছে রাজধানীতে। সম্প্রতি রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় স্টার কেবল নেটওয়ার্ক নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নিয়েছে স্থানীয় কমিশনার। বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলাও হয়েছে। এ ঘটনার পর দুই গ্রুপের মধ্যে চলছে অস্ত্রের মহড়া, এলাকায় বিরাজ করছে উত্তেজনা।

জানা গেছে, স্টার কেবল নেটওয়ার্ক নামের প্রতিষ্ঠানটি দখল করে নিয়েছেন ঢাকার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হুমায়উন রশিদ জনি। প্রথমে ব্যবসার অংশীদার হতে চান কমিশনার জনি। এতে স্টার কেবল নেটওয়ার্কের মালিক রাজি না হওয়ায় কমিশনার জনি একুশে কেবল নেটওয়ার্ক নাম দিয়ে এলাকায় কেবল ব্যবসা চালু করেন। হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় কমিশনার সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে স্টার কেবল নেটওয়ার্ক নামের প্রতিষ্ঠানটি দখল করে নেন। বন্ধ রাখেন স্টার কেবল নেটওয়ার্কের ব্যবসা।

গ্রাহকদের বাধ্য করা হচ্ছে একুশে নেটওয়ার্ক নামের কেবল সংযোগ নিতে। এ ঘটনায় এলাকায় কয়েক দফা অস্ত্রের মহড়া হয়েছে, বিরাজ করছে উত্তেজনা।

স্টার কেবল নেটওয়ার্কের মালিক আকরামুল হক অভিযোগ করেন, কিছু দিন আগে জনি পঞ্চাশ থেকে ষাট জন লোক নিয়ে এসে তার প্রতিষ্ঠানটি দখল করে নেন। এ ঘটনার পর আকরামুল হকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জনির দাপটের কারণে থানা নিয়মিত মামলা নেয়নি। মামলা করতে যাওয়ায় কমিশনার তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। পুরো ঘটনা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করেছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি দেখার জন্য মিরপর এলাকার পুলিশের এডিসিকে দায়িত্ব দিলেও কোন লাভ হয়নি। এ কারণে জনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিষয়টি সমাধান চেয়ে বিটিভির মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেও কোন ফল পাননি। এ পর্যন্ত কেবল টিভির ব্যবসার দখলবাজি নিয়ে কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়লেও কোনটারই সমাধান দিতে পারেনি। বিটিভি বিবদমান গ্রুপগুলোকে নোটিস করেই দায়িত্ব শেষ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমানে কেবল টিভি অপারেটর এ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) কোন কমিটি নেই। সরকার প্রশাসক নিয়োগ করেছে।

এখানেও বিচার দিয়ে কোন ফল পাওয়া যায়নি। এক কোটি ৭৫ লাখ টাকার ব্যবসা এভাবে দখল করে আমাকে এখন পথে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কারও কাছ থেকে কোন সুবিচার পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে কমিশনার হুমায়উন রশিদ জনির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হলে তিনি অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আকরামুল হক তার আত্মীয়। সে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

এলাকায় তাকে সবাই সন্ত্রাসী হিসেবে চেনেন। আমি রাজনীতি করি। আমি কেন তার ব্যবসা দখল করতে যাব। এলাকায় একুশে নেটওয়ার্ক নামের আরেকটি কেবল টিভির ব্যবসা রয়েছে। একুশে কেবল নেটওয়ার্ক নামের প্রতিষ্ঠানটি অভিনেতা নাদের চৌধুরীর। এলাকার মানুষ যার সার্ভিস ভাল তার লাইন নেবে। এখানে আমার কী বলার আছে? আমি স্টার কেবল নেটওয়ার্ক নামের কোন প্রতিষ্ঠান দখল করিনি। এটা আমাকে হেয় করার জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। উল্টো আমি স্টার কেবল নেটওয়ার্ক ও একুশে কেবল নেটওয়ার্কের মধ্যে চলা দ্বন্দ্ব নিরসন করতে থানায় বসে দেন-দরবার করে দিয়েছি। এখন আমাকে দোষ দিলে তো কিছু করার নেই।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে রাজধানীর খিলগাঁও জোড়পুকুরপাড় এলাকায় আরিফ নামের এক যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি খিলগাঁও থানাধীন গোড়ানের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ডিশ ব্যবসার দ্বন্দ্বেই হত্যার শিকার হন আরিফ। পুলিশের তথ্যমতে, ডিশ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে। বিশেষ করে রাজধানীতে এমন ঘটনার পরিমাণ বেশি।