১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সম্পাদক সমীপে

  • গণপরিবহনে চাই সমতা

আমাদের দেশে আইন করে ২০০৭ সাল থেকে নারী-শিশু-প্রতিবন্ধীদের ৫৬ সিটের বাসের ৯টি আসন ও মিনিবাসের জন্য ৬টি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছে। তবে মিনিবাসের জন্য তা অবশ্যই চালকের পেছনের আসনের ৬টি আসন। গাড়ির ইঞ্জিনের ওপর নয়। অথচ ঢাকাতে চলাচলকারী মিনিবাসগুলোকে নারী ও শিশুর জন্য যে ৬টি আসন বরাদ্দ রাখা হয় তা চালকের বামপাশে ইঞ্জিনের ওপর। ৫৬ আসনের বড় বাসগুলোতে অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর। আসন বরাদ্দ আছে। এরকম কথা লেখা থাকে অথচ নারীরা বাসে উঠে যখন ওই আসনে বসে থাকা কোন পুরুষ যাত্রীকে বলেন- সংরক্ষিত আসনগুলো থেকে উঠে যেতে তখন তারা প্রশ্ন করেন, তাহলে হেলপার আগে বলল না কেন, যে মহিলা এলে উঠে যেতে হবে? খুব অবাক করা ব্যাপার হলো যখন কোন নারী গাড়ি ফাঁকা পেয়ে ৯টি আসন বাদ দিয়ে অন্য কোন আসনে গিয়ে বসেন, এরপর যখন অন্য নারীরা বাসে উঠে সেই সংরক্ষিত আসন পুরুষদের ছেড়ে দিতে বলেন তখন পুরুষদের প্রশ্ন, তাহলে নারীরা আমাদের আসনে বসে আছে কেন সংরক্ষিত আসন বাদ দিয়ে। শিক্ষিত যাত্রীরা যারা বাসে থাকেন তারা কিছুতেই এটা বোঝাতে পারেন না তাদের যে, ৯টি আসন সংরক্ষিত (নারী-শিশু-বয়স্ক-প্রতিবন্ধীদের) জন্য। এছাড়া বাকি আসনগুলোতে নারী-পুরুষ যে কেউ বসতে পারেন। কখনও কখনও তো এমন ঘটনাও ঘটে। ৯টি আসন পরিপূর্ণ হয়ে গেলে পুরুষ যাত্রীরা ঘোষণা করে দেন চালককে- আর নারী যাত্রী নিও না। মহিলা আসন ভরে গেছে। তাদের কথা শুনলে একথা যেন নতুন করে প্রমাণিত হয়, আমরা এখনও পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বাস করছি সংরক্ষিত আসন নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো রয়েছে সমাজে প্রচলিত তা ভাঙ্গার ব্যবস্থা করতে হবে। যাত্রীদের এটা বোঝাতে হবে যে সংরক্ষিত আসন শুধুই নারী-শিশু-প্রতিবন্ধী- বয়স্কদের জন্য, বাকিগুলোতে নারী-পুরুষ যে কেউ বসতে পারেন।

সুজানা আলী সুইটি

তিলপাপাড়া, ঢাকা

ংুঁধহধধষর১৩৯@মসধরষ.পড়স

মিলন হলদার চলে গেল

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নাধীন রতন কান্তি গ্রামের মিলন হলদার বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতা এলে এ দেশে থাকা যাবে না ভাবনায় সপরিবারে জননী জন্মভূমি স্বর্গাদপি গরীয়সী বাংলাদেশে রেখে ভারতে চলে গেল। সে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত বিজয়ী হওয়ার পর সংখ্যালঘু নির্যাতন দেখেছে। সে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হওয়ার পর সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার দেখেছে। জাতির পিতা ন্যায়নীতি ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধীরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সব শেষ করে দিয়েছে। মিলন হলদারের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নাধীন রতন কান্দি গ্রামে।

দেবেশ চন্দ্র সান্যাল

শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ

সঞ্চয়পত্রের মূল টাকা

আমার স্বামী চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর ২০১৩ সালে আমরা ঢাকা ছেড়ে সপরিবারে সাতক্ষীরা চলে আসি। সঙ্গে সঙ্গে আমার ও আমার মেয়ের নামে জমানো সঞ্চয়পত্রগুলো সঞ্চয়ব্যুরো, কাঁটাবন, ঢাকা সোনালী ব্যাংক বাজমে কাদেরিয়া থেকে সাতক্ষীরা সঞ্চয় ব্যুরোতে (ব্যাংকার জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখা) স্থানান্তরিত করার আবেদন করলে তারা সাতক্ষীরা সঞ্চয় ব্যুরোতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন ও অনুলিপি ব্যুরোর সদর দফতর, মহাব্যবস্থাপক বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ও খুলনাকে ২০-০৫-২০১৩-এ পাঠাছ। উল্লেখ্য, সোনালী ও জনতা ব্যাংক উভয়েই সরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক।

মেয়াদোত্তীর্ণ/মেয়াদোত্তীর্ণ নয় সঞ্চয়পত্রের মূল টাকা ও প্রাপ্য মুনাফা নগদায়ন করতে গেলে সাতক্ষীরা জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত নগদায়নে তাদের অপরাগতা প্রকাশ করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, যে মেয়াদোত্তীর্ণ কয়েকটি সঞ্চয়পত্র ইতোপূর্বে নগদায়নের অনুমতি তারা দিয়েছেন, সে অর্থ তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ যাবত পুনঃভরণ পাননি। সঞ্চয়পত্রের মূল টাকা পুনরায় সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে শুধু মুনাফা নগদায়নের অভিপ্রায় জানালে ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একই জবাবের পুনরাবৃত্তি করেন। সাতক্ষীরা সঞ্চয় ব্যুরোর সহ-পরিচালককে বিষয়টি অবহিত করায় আইনত এটি আমাদের প্রাপ্য এবং এ ব্যাপারে তার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান অথচ সঞ্চয়পত্র স্থানান্তর এবং নগদায়ন আইনে বলা আছে ‘ব্যাংক ডাকঘর ও জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোর একই প্রতিষ্ঠানে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে সঞ্চয়পত্রের রেজিস্ট্রেশন স্থানান্তর করে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করা যায়। ব্যাংক ও সঞ্চয় ব্যুরোর ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত সঞ্চয়পত্রের বিক্রয়লব্ধ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের যে শাখার সরকারী খাতে জমা হয়েছে ওই শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে নগদায়নকৃত অর্থ পুনঃভরণ নিতে হয়।’

এমতাবস্থায় সঞ্চয় ব্যুরো কাঁটাবন, ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা সঞ্চয় ব্যুরোতে স্থানান্তরিত বাকি মেয়াদোত্তীর্ণ/মেয়াদোত্তীর্ণ নয় আমাদের সঞ্চয়পত্রগুলো (প্রাপ্য মুনাফাসহ) কেন নগদায়নে বিলম্ব করা হচ্ছে তা বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল ও খুলনা, সঞ্চয়ব্যুরোর প্রধান অফিস, কাঁটাবন অফিস, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় ও জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা অনুগ্রহ করে খতিয়ে দেখে আমাদের এ বিড়ম্বনার হাত থেকে রেহাই দেবেন কি?

নাজমা বেগম

সাতক্ষীরা

বন্ধ করুন

যৌন হয়রানি

দেশে উদ্বেগজনক হারে যৌন হয়রানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত নারীরাই এসবের শিকার হচ্ছেন। পথেঘাটে, ঘরে-বাইরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, বাসে, অফিসে কিংবা বাড়িতে অহরহ ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। সম্প্রতি এক গবেষণায় নারীদের ওপর যৌন হয়রানি বিষয়ক এক জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। জরিপে বলা হয়, নারীরা গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহন, রাস্তায়-বাজারে ও বিপণিবিতানে সবচেয়ে বেশি যৌন হয়রানির মুখোমুখি হন। সুবিধাবঞ্চিত বা দরিদ্র পরিবারের নারী ও মেয়েদের বিপদ এক্ষেত্রে অনেক বেশি। প্রথমত তারা ঘটনার শিকার হন বেশি; দ্বিতীয়ত ঘটনার জন্য সমাজ তাদেরই দায়ী করে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী মর্যাদাহানিকর উক্তির শিকার হয়েছেন ৮৫ শতাংশ নারী, যৌনতাপূর্ণ অশ্লীল ভাষার মুখোমুখি হয়েছেন ৪৬ শতাংশ নারী, বাসের চালক বা ভাড়া আদায়কারীর মুখে অবমাননার ভাষা শোনার অভিজ্ঞতা হয়েছে ৪৮ শতাংশ নারীর।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে জরিপে। জরিপে দেখানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনে ৭৬ শতাংশ ছাত্রী কোন না কোনভাবে যৌন হয়রানির শিকার হন। তবে এক্ষেত্রে পাবলিক বা সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও খারাপ। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ হার সবচেয়ে বেশি, ৮৭ শতাংশ। দেশে নারীর ওপর যৌন হয়রানি রোধ করতে না পারলে সমাজজীবনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। সমাজে নানান ধরনের অসঙ্গতি, সমন্বয়হীনতার নেপথ্যে এসব কাজ করছে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, নারীর ওপর যৌন নির্যাতন কিংবা সহিংসতা বন্ধ করা না গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে অন্ধকারে। এখন সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেয়ার, আমরা কি সামনের দিকে এগিয়ে যাব না অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যাবে?

মেছের আলী

শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ

জাতির জনকের ছবির মর্যাদা

২৩ বছর বয়সী পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলে উভয় পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা শেখ মুজিবকে জাতীয় নেতা মেনে নিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ জেনারেলরা সদলবলে ঢাকা এসে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাত করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। যেসব শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধুকে জাতীয় নেতা বলে অভিনন্দন জানান, তাঁরা হলেনÑ পাকতুন নেতা খান আঃ গাফফার খান, জুলফিকার আলী ভুট্টো, ন্যাপ প্রধান খান আঃ ওয়ালী খান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ প্রধান নবাবজাদা নসর উল্লাহ খান, মুসলিম লীগপ্রধান খান আঃ কাইউম খান, মিয়া মমতাজ মোহাম্মদ খান দৌলতানা, বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার মার্শাল আসগর খান, আন্তর্জাতিক আইনজীবী একে ব্রোহি, বেগম রানা লিয়াকত আলী খান, সোহরাওয়ার্দীর কন্যা বেগম আকতার সোলায়মান, মিস ফাতেমা জিন্নাহ, মাহমুদ আলী কাসুুরী, নুরুল আমিন, খাজা খায়ের উদ্দিন, ফজলুল কাদের চৌধুরী, খান এ সবুর খান, গোলাম আযম, হামিদুল হক চৌধুরী, মনি সিংহ, আতাউর রহমান খান, মওলানা ভাসানী, মোজাফফর আহাম্মদ ও মনোরঞ্জন ধর। ওই সময় মওলানা ভাসানী শেখ মুজিবের আদেশ পালন করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান আগামী দিনের প্রাইম মিনিস্টার।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানালে আওয়ামী লীগ ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো অভিনয় করে; তখন থেকে বহুরূপী রাজনীতির বাংলাদেশের যখন যেমন তখন তেমন নীতিতে রাজনৈতিক মহল বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। জাতির জনক পদ স্থায়ী, তার ওপর কোন পদ-পদবি নেই। সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান অস্থায়ী। সংবিধান মোতাবেক দেশের সব সরকারী-বেসরকারী অফিসে জাতির জনকের ছবি টানানো বাধ্যতামূলক, তাতে কোন দ্বিমত থাকার কথা নয়। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী নেতা কিন্তু এক শ্রেণীর চাটুকার কর্তৃক জাতির জনকের ছবির পাশাপাশি সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি টানানো নিরপেক্ষ মহল মেনে নিতে পারছে না। কারণ পরবর্তীতে অন্য দলের সরকার ক্ষমতায় এলে আর যাই হোক জাতির জনকের ছবির মর্যাদা রক্ষা হবে কী?

মুর্শেদ উদ্দিন বাদশা মিয়া

চকবাজার, ঢাকা

তদারকি

বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে বৈজ্ঞানিক নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে আগের দিনের অনেক কাজের গুরুত্ব এখন অনেকাংশে কমে গেছে। এক সময় দেশে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠিপত্র। দেশের ডাকঘরগুলোতে কাজের খুব চাপ থাকত। কিন্তু বর্তমানে মোবাইলের যুগে ব্যক্তিগত চিঠি আদান-প্রদানের কার্যক্রম খুব একটা বেশি দেখা যায় না। অফিসিয়াল কিছু কিছু চিঠি আদান-প্রদান হতে দেখা যায়। ডাক অফিসের কর্মচারীরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর মতো অবস্থা। ডাকঘরে কিছু কাজ নিয়ে গেলে দেখা যায় তাদের বাহাদুরী। আমি পরীক্ষার খাতা ডাকে দিতে গিয়ে দেখলাম অবস্থা। আমার খাতার ডাক খরচ হয়েছে ৩৪১ টাকা আমি অফিসে ৩৫০ টাকা দিয়েছি। আমাকে ৯ টাকা ফেরত দেবে। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর দেখি আমাকে টাকা ফেরত দিচ্ছে না। আমি বললাম আমার বাকি টাকা ফেরত দেন। অফিসের লোক বলে আপনি ৯ টাকা ফেরত চান আপনার খাতার বান্ডেলে টিকেট লাগাতে আরও ৫০ টাকা দিতে হয় সেটা তো আপনার কাছে চাইনি। আমি বললাম আমি তো সেটা জানি না। আমার মন্তব্য হলো চিঠির খামে বিভিন্ন খাতা ও মালের বান্ডেলে টিকেট লাগানোর দায়িত্ব কি চিঠিদাতার না অফিসের? আমার মনে হয় দায়িত্ব অফিসের। দায়িত্ব যদি অফিসের হয়ে থাকে তাহলে টিকেট লাগানোর জন্য কেন পঞ্চাশ টাকা আমার কাছে চাইল এবং আমার ৯ টাকা কেন ফেরত দিল না। ভোক্তাদের বৃহত্তর স্বার্থে মাঠ পর্যায়ের অফিসের প্রতি আরও বেশি করে নজরদারি করা দরকার।

হুমায়ুন কবীর খান

ভালুকা, ময়মনসিংহ

ধ রি ত্রী ক ন্যা

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচী (ইউনেপ) নীতি নির্ধারণে (পলিসি লিডারশিপ) পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ ২০১৫’ এ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত করেছে। এই পুরস্কার জাতিসংঘ প্রদত্ত পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রীর এ অর্জন বাংলাদেশ ও বাঙালীর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর এ সম্মানে দেশ আজ গর্বিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ ২০১৫’ পুরস্কারটি পেয়ে তা মানুষের জন্য উৎসর্গ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, এই পুরস্কার নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই সম্মাননা নিঃসন্দেহে আমার এবং দেশবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। কিন্তু আমি মনে করি, এই পুরস্কারপ্রাপ্তি আরও সমন্বিতভাবে টেকসই উন্নয়নচর্চায় আমাদের দায়িত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের এমন কিছু করা চলবে না যা আমাদের ধরিত্রীমাতার ক্ষতিসাধন করবে। আমাদের নদী-নালা, খাল-বিল, জলাভূমি এবং বস্তুতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে হবে। আমাদের বনভূমি, জীববৈচিত্র্য এবং বন্য প্রাণিসম্পদকে ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না। প্রকৃতির ক্ষতি করে না এমন উপাদান ব্যবহার করে আমাদের জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান, আসুন বাড়ির আঙ্গিনায় গাছ এবং শাকসবজি রোপণের মাধ্যমে আমাদের প্রতিটি বাড়িকে সবুজ বাগানে পরিণত করি। প্রতিবছর কমপক্ষে তিনটি করে একটি ফলদ, একটি ঔষধি এবং একটি কাঠ উৎপাদনকারী চারা লাগাই।

‘সবুজ’ ভাবুন, পরিচর্যায় ‘সবুজ’ করুন এবং ‘সবুজে’ বাঁচুন।

শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের কল্যাণে বর্তমানে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদনের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তাঁর যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার জন্য উন্নয়নশীল দেশসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এ্যান্ড এ্যাকশন প্ল্যান-২০০৯ প্রণয়নপূর্বক তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর একক উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশে নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠিত হয়েছে।

ধরিত্রীকন্যা শেখ হাসিনা আজ পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য রোল মডেল।

আহাদ রেজা হৃদ্য

শুক্রাবাদ, ঢাকা

নির্বাচিত সংবাদ