১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রদীপ নন্দীর গানে মুগ্ধ আইজিসিসির শ্রোতা

গৌতম পাণ্ডে ॥ পরিবেশটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। শ্রোতার উপস্থিতি বেশি না হলেও নজরুলের গানের আবেদনের কমতি ছিল না। নিজের পছন্দের গানের পাশাপাশি শ্রোতাদের পছন্দকে ভাগাভাগি করে নিলেন সঙ্গীতশিল্পী ড. প্রদীপ কুমার নন্দী। গানের সুর ও বাণীর প্রতি যেমন ছিল যতœ, তেমনি গায়কীতেও ছিল মুন্সীয়ানার পরিচয়। প্রতিটি গান পরিবেশনের পর শ্রোতাকুলের বাহবা যেমন কুড়িয়েছেন, তেমনি গানের প্রতি নিজেকে নিমগ্ন রেখেছেন শেষ পর্যন্ত। শিল্পী নজরুল সঙ্গীতের পাশাপাশি পছন্দের শিল্পী প-িত অজয় চক্রবর্তী ও স্বপন চক্রবর্তীর গানও পরিবেশন করেন। বৃহস্পতিবার শিল্পী প্রদীপ কুমার নন্দীর একক এ সঙ্গীতসন্ধ্যার আয়োজন করে ঢাকার ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। কেন্দ্রের পরিচালক জয়শ্রী কু-ু যথাসময়ে-যথারীতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের সঙ্গে শিল্পী প্রদীপ কুমার নন্দীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেন। এরপর শিল্পী আসলেন, রাশভারি ভাবাবেগে বসলেন, বললেন, শুভ সন্ধ্যা। গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র শুদ্ধ সঙ্গীত পরিবেশনের এক বিশেষ জায়গা। কারণ, এখানের শ্রোতা খুব রুচিবোধসম্পন্ন হয় এবং খুব কাছ থেকে শ্রোতাদের অনুভূতিকে উপলব্ধি করা যায়। ‘আসিলে কে অতিথি সাঁঝে’ গানটির মধ্যদিয়ে শুরু হয় শিল্পীর পরিবেশনা। গানের সুর, গায়কী ও আবেদনের মধ্যে তিনি যেন সত্যি-সত্যিই তাঁর অতিথিদের বরণ করে নিলেন। এই আরাধ্য অতিথিই তাঁর গানের একাগ্র শ্রোতা। পরে নিজেকে এগিয়ে নিতে গাইলেন ‘নাইয়া ধীরে করো পার’। গানের মধ্যে ছিল না কোন চঞ্চলতা। নিজের মনতরীকে ধীরে ধীরে কূলে ভেড়াবার আকুল চেষ্টা ছিল শিল্পীর। শিল্পী একে একে গাইলেন নজরুলের গান ‘বউ কথা কও’, ‘আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরী’, ‘কেন আনো ফুলডোর আজি বিদায় বেলা’, ‘আমায় নহে গো ভালবাস শুধু মোর গান’, ‘পাষাণে ভাঙালে ঘুম’, ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী’, ‘কেন কাঁদে পরাণ’, ‘দিয়ে ফুলদল বিছায়ে’ ও ‘লাইলি তোমার এসেছে ফিরিয়া’।

শিল্পী প্রদীপের পছন্দের শিল্পী প-িত অজয় চক্রবর্তী ও স্বপন চক্রবর্তী। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুজনের গাওয়া দুটি গান পরিবেশনায় মুগ্ধ করেন সবাইকে। প্রথম গানটি ছিল অজয় চক্রবর্তীর গাওয়া ‘আধো নয়নে চেয়না’ এবং দ্বিতীয়টি ছিল স্বপন চক্রবর্তীর ‘মনো নিয়ে খেলা করো না শ্যাম কানাই’। অসাধারণ সুর বিহার ও গায়নে সবাই তন্ময় হয়ে শুনছিলেন তার গান। একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় ছিল শিল্পীর সঙ্গে যন্ত্রীদের সঙ্গত। বিপ্লব শর্মার তবলা বাদন এবং ফিরোজ খানের সেতার অনুষ্ঠানটিকে এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে দেয়। পাশাপাশি আইবে রাজনের কী বোর্ড ও মিলনের অক্টোপ্যাড বাদনও ছিল অসাধারণ। আসতে থাকে একের পর এক অনুরোধ। শিল্পী বললেন, আপনাদের পছন্দের গানের সঙ্গে সঙ্গে আমার পছন্দকেও ভাগাভাগি করে নিতে চাই। তাই আপনাদের অনুরোধের গানের ফাঁকে ফাঁকে আমার কিছু পছন্দের গানও পরিবেশন করব। শিল্পী আবার ফিলে এলেন নজরুল সঙ্গীতে। তাঁর পরিবেশনায় ছিল ‘নয়ন ভরা জলগো তোমার আঁচল ভরা ফুল’, ‘হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে’, ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়’, ‘কি হবে জানিয়া বলো’, ‘কে পরালো মু-মালা’, ‘কা-ারী কে কর পার’সহ আরও বেশ কিছু নজরুল সঙ্গীত। শিল্পীর সব শেষ পরিবেশনা ছিল নজরুলের কীর্তন অঙ্গের গান ‘নব কিশলয়ে রাঙা সজ্জা পাতিয়া’।