১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঝিনাইদহে অঙ্কুর কমেডি নাট্যোৎসব শুরু

ঝিনাইদহে অঙ্কুর কমেডি নাট্যোৎসব শুরু

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ ঝিনাইদহে প্রথমবারের মত অঙ্কুর কমেডি নাট্যোৎসব শুরু হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যায় চারদিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি। উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলার প্রশাসক মাহবুব আলম, পৌর মেয়র শাহিদুল করিম মিন্টু, অঙ্কুর নাট্যদলের প্রধান নাজিমুদ্দিন জুলিয়াস প্রমুখ। উৎসবের উদ্বোধনী দিনে গতকাল সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় লোকনাট্যদল ঢাকার নাটক ‘কঞ্জুস’। মলিয়রের দ্য মাইজার অবলম্বনে নাটকটি রচনা করেছেন তারিক আনাম খান। নির্দেশনা দিয়েছেন লিয়াকত আলী লাকি। উৎসবের আয়োজক অঙ্কুর নাট্যদলের প্রধান নাজিমুদ্দিন জুলিয়াস শুক্রবার জনকণ্ঠকে বলেন, চারদিন ব্যাপী উৎসবে মোট ৫টি মঞ্চায়ন হবে এর মধ্যে ঢাকার দুইটি, খুলনার দুটি এবং ঝিনাইদহের একটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। প্রথমবারের মত ঢাকার বাইরে এ ধরণের আয়োজন করতে পেরে তারা অনেক আনন্দিত। উৎসবের প্রথম দিনে ব্যাপক দর্শক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানান নাজিমুদ্দিন জুলিয়াস। এদিকে আজ শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে মঞ্চস্থ হবে ঢাকার নাট্যদল কিসসা কাহিনী প্রযোজিত নাটক ‘সুখ চান্দের মোড়’। আজ নাটকটির সপ্তম প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। এর আগে ঢাকায় নাটকটির ৬টি প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে দলটি। এরই মধ্যে নাটকের নির্মাণের আঙ্গিকগত বৈশিষ্ট্যের কারণে নাটকটি ঢাকার মঞ্চে আলোচনায় এসেছে। আসাদুজ্জামান দুলাল রচিত নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন মোঃ জাসিম উদ্দিন। নাটকের অভিনয় শিল্পীরা হলেন মো. নোমান, সুরেশ চন্দ্র দাস খোকন, মোঃ শামীম মিয়া, তানভীর আহমেদ, এনাম তারা সাকী, মোঃ জান্নাতুন আদনান অভি, শুভজিৎ কুমার পাল, কাকন চৌধুরী, অমিতাভ রাজীব, মোঃ মাহবুবুর রহমান, পংকজ দাস নিরব প্রমুখ। এছাড়া নাটকের পোশাক ও শরীর অঙ্কনে রয়েছেন এনামতারা সাকী, প্রপস ও সেট ফজলে রাব্বি সুকর্নো, আলোক পরিকল্পনা শওকত হোসেন সজীব, আলোকচিত্র সুজন মাহাবুব, মুদ্রণ অলঙ্করণ মোঃ জান্নাতুন আদনান অভি, টিকেট ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন শরীফ নাসরুল্লাহ। গত ২৬ জুন ‘সুখ চান্দের মোড়’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। এই নাটকের মধ্য দিয়েই চলতি বছর ঢাকার মঞ্চে ‘কিসসা কাহিনী’ নাট্যদলর অভিষেক হয়। শ্রমজীবী মানুষ শত শোষণ বঞ্চনার মাঝেও জীবনের হাস্যরস বিদ্যমান সেটাই তুলে ধরা হয়েছে নাটকে। পাশাপাশি দেশের সবচেয়ে আদর্শিক বিষয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও যুক্ত করা হয়েছে নাটকের গল্পে। তবে দেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য আঙ্গিক সঙযাত্রার শিল্পরূপ এ নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে অভিনয়শিল্পীদের শরীর অঙ্কনের মাধ্যমে এ নাট্য শিল্প প্রযোজনার গুণগতমান সমৃদ্ধ হয়েছে। ‘সুখ চান্দের মোড়’ নাটকের গল্পে দেখা যায় প্রত্যন্ত এক অঞ্চলের চার রাস্তার সংযোগস্থলের নাম সুখ চান্দের মোড়। এই মোড়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে বড় রাস্তার পিচ ঢালা পথ। সেই সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দেয় উৎসাহ উদ্দীপনা। এলাকার লোকজনও আশাবাদী হয়ে উঠে এই রাস্তা নিয়ে। তারা সুখের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সত্যিই এই পথ তাদেরকে সুখের দুয়ারে নিয়ে যেতে পারবে? এমনই এক অনিশ্চয়তার আবহ নিয়ে এগিয়ে যায় নাটক।