২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মাশরাফি

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ৬ বছর পেরিয়ে গেছে, এর মধ্যে কোন টেস্ট খেলেননি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এ পেসারকে বার বারই নতি স্বীকার করতে হয়েছে ইনজুরির করাল থাবার কাছে। অনেকবার হারতে চাননি, ইনজুরির সঙ্গে লড়েও মাঠে নেমেছেন বলেই হয়তো এবার অপেক্ষাটা দীর্ঘ হয়ে গেল। ডাক্তারদের মানা দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট খেলা যাবে না। ২০০৯ সালে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলা মাশরাফি তাই প্রথম শ্রেুণীর ক্রিকেটেও খেলেননি। গত বছর জানুয়ারিতে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল) খেলেছিলেন এবং তার আগে জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল) দিয়ে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচে ফিরেছিলেন। আবারও সমস্যায় পড়ে তারপর থেকে বাইরে। কিন্তু শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া চলমান এনসিএলের তৃতীয় রাউন্ডে ফেরার কথা ছিল আবার। কিন্তু ‘নড়াইল এক্সপ্রেসকে’ এবার ফেরার পথ রুদ্ধ করে দিল ডেঙ্গু জ্বর। বৃহস্পতিবার রাতে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলে আপাতত প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ফেরা হচ্ছে না মাশরাফির।

কম ওভার বোলিং করবেন, বেশি চাপ নেবেন না এমন চিন্তাধারায় গত বছর এনসিএলে দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর পর লঙ্গার ভার্সনে ফিরেছিলেন মাশরাফি। তার অভাব প্রতিমুহূর্তেই জাতীয় দল এবং ঘরোয়া ক্রিকেট হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। কারণ টেস্ট ম্যাচও খেলতে পারেননি। এমনকি আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকেও দূরে থাকতে হয়েছিল অনেক দিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গত বছর জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) খেলেছিলেন পূর্বাঞ্চলের হয়ে। তারও আগে ফিরেছিলেন এনসিএলে এবং খুলনার হয়ে খেলেন। কিন্তু আবারও ইনজুরিতে পড়ার কারণে ছিটকে যান। কিন্তু দীর্ঘ দেড় বছর পর এবার দুই রাউন্ড শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফেরার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। শনিবার তৃতীয় রাউন্ড শুরু হবে চলমান এনসিএলের। এদিন থেকেই খুলনা বিভাগের হয়ে চারদিনের ম্যাচে খেলার কথা ছিল মাশরাফির। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তীব্র জ্বর নিয়ে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। শুক্রবার নিশ্চিত হওয়া গেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক।

মাশরাফির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিষ বলেন, ‘মাশরাফি এখন হাসপাতালেই আছেন। তার রক্তে প্লেটলেট (অনুচক্রিকা) কমে গেছে। এটি কমে গেলে দুই ঘণ্টা পর পর পর্যবেক্ষণ করতে হয়। যতদিন পর্যন্ত অনুচক্রিকার পরিমাণ সঠিক জায়গায় না আসবে ততদিন হাসপাতালেই থাকতে হবে। তবে সাধারণত এটি ৫ থেকে ৭ দিনেই ঠিক হয়ে যায়। যদি এরচেয়ে বেশি সময় লাগে সেক্ষেত্রে আরও বেশিদিন থাকতে হবে হাসপাতালে।’ দেবাশিষের কথার পর নিশ্চিত হয়েছে আপাতত এই রাউন্ডে খেলা হচ্ছেই না মাশরাফির। আর যদি এক সপ্তাহ পরে ফেরেন সেক্ষেত্রে ফিরেই চতুর্থ রাউন্ডে মাঠে নামতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েও আছে শঙ্কা। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত হয় তো এনসিএলের একেবারে শেষদিকে ফিরতে পারবেন মাশরাফি। চলতি বছর জুলাইয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তারপর থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে অনুশীলন ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক কোন ক্রিকেটে খেলা হয়নি। এনসিএল খেলে এবার তার দৃষ্টি ছিল পরবর্তীতে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলার জন্য একটা পরীক্ষা দেয়ার। কিন্তু সেই পরীক্ষাতেও অবতীর্ণ হতে পারলেন না। পিছিয়ে গেল। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে কিংসটাউনে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন মাশরাফি। কিন্তু ৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ওই টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই ইনজুরিতে পড়ে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম কোন মিশনে যাওয়ার মাশরাফি ছিটকে যান। আর টেস্ট দলে ফেরা হয়নি। এবার অন্তত এনসিএলের দুই রাউন্ড খেলতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে বলেছিলেন, ‘আমি এনসিএলের পরবর্তী রাউন্ড থেকে খুলনার হয়ে খেলব। তবে অবশ্যই টানা দুই ম্যাচ খেলতে চাই না। একটি বিরতি দিয়ে আরেকটি খেলতে চাই। আমার ফিটনেস এখন বেশ ভাল। সুতরাং খেলার সাহসটা পাচ্ছি। এমনকি আমি টেস্ট ক্রিকেট নিয়েও ভাবছি। এর আগে দেখতে চাই এনসিএলে আমি কেমন করতে পারি।’ সেটা হলো না, আরও অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে মাশরাফিকে।