২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ম্যারাডোনা ও আমার মতো কেউ নেই ॥ পেলে

ম্যারাডোনা ও আমার মতো কেউ নেই ॥ পেলে
  • আর কোন পেলে বা ম্যারাডোনার জন্ম হবে না-দাবি এ কিংবদন্তির

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? সাবেক আর্জেন্টাইন সুপারস্টার দিয়েগো ম্যারাডোনা নাকি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো পেলে? এই তর্কটা বিশ্ব ফুটবলে চিরাচরিত। বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরাই এ দুই সাবেক ফুটবলারকে নিয়ে তর্কে মাতেন। এমনকি ম্যারাডোনা ও পেলের মধ্যেও শ্রেষ্ঠত্বের দাবি নিয়ে আছে কাদা ছোড়াছুড়ি। কারও পক্ষ নিয়ে কেউ কথা বলে দূরে থাক, সুযোগ পেলেই পরস্পরের পেছনে লেগে কুৎসা রটানো এবং ভর্ৎসনা করতে ছাড়েননি। কিন্তু এই প্রথম পেলে যা বললেন তাতে করে কিছুটা হলেও ম্যারাডোনার প্রশংসার আঁচ পাওয়া গেল। সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে পেলে দাবি করেছেন ম্যারাডোনা এবং তার মতো আর কোন ফুটবলার নেই বিশ্বে। এ সময় তিনি বলেন, ‘একজনই পেলে জন্ম নিয়েছে এবং একজনই থাকবে। ম্যারাডোনাও একজনই। আমাদের মতো আর কোন ফুটবলার নেই।’

যুব ফুটবলকে এগিয়ে নেয়ার অভিযানে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরছেন পেলে। এবার ভারতেও যাবেন তিনি। ৭৪ বছর বয়সী এ কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান তারকা সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃত। আগামী সপ্তাহে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লীতে আসবেন। যুব ফুটবলের আসর সুব্রত কাপের ৫৬তম সংস্করণের ফাইনালে বিশেষ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর আগে এক সাক্ষাতকারে পেলে বলেন, ‘একটিই মাত্র পেলে আছে এবং থাকবে। কিন্তু এটাই বাস্তব যে সব খেলোয়াড়ই স্বীয় এবং অন্যের চেয়ে ব্যতিক্রম। যেমন শুধুমাত্র একজনই ম্যারাডোনা আছেন এবং একইভাবে শুধু একজনই জিদান কিংবা বেকেনবাওয়ার জন্ম নিয়েছেন।’ ‘কালো মানিক’ খ্যাতি পাওয়া পেলে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন একবার এবং তিনটি বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন ব্রাজিলকে। পেশাদার ক্যারিয়ারে সবমিলিয়ে ১২৮৩ গোল করেছেন তিনি। ১৯৫৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই নিজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ব্রাজিলকে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। ১৯৬২ এবং ১৯৭০ সালেও তার উদ্ভাসিত নৈপুণ্য ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতায়। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুটা বর্ণনা করতে গিয়ে পেলে বলেন, ‘আমি আমার শৈশব বিভিন্ন আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট খেলে কাটিয়েছি। সে সময় ভালদেমার ডি ব্রিটো সান্তোস এফসির রক্ষক ছিলেন। তিনি আমার সামর্থ্য ও যোগ্যতা দেখেছিলেন। সান্তোসে খেলার যে সুযোগ তিনি আমাকে দিয়েছিলেন সেটা আমার জীবনকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে এবং আমি ক্লাবটির হয়ে ২০ বছর খেলেছি।’ এখন তিনি বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রচারাভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এবার ভারতে আসবেন তিনি সুব্রত কাপ দেখার জন্য। ২০১৭ সালে অনুর্ধ ১৭ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ভারত। পেলে মনে করেন তরুণদের উৎসাহী করে তোলা এবং উন্নতির জন্য সুব্রত কাপের মতো টুর্নামেন্ট আরও হওয়া প্রয়োজন বিশ্বে। এ বিষয়ে পেলে বলেন, ‘ক্রীড়াই সর্বোৎকৃষ্ট উপায় কিশোর-তরুণদের উজ্জীবিত, সাহসী এবং অনুপ্রাণিত করার জন্য। তাদের সপ্রতিভ ও স্বাস্থ্যবান হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও অনেক বড় ভূমিকা রাখে খেলাধুলা। এমনকি বিভিন্ন সমস্যা থেকেও দূরে রাখে। সবচেয়ে জরুরী বিষয় হচ্ছে এটা মানুষকে বিভিন্ন কাজের নৈতিক শিক্ষাটা দিয়ে থাকে। যুব টুর্নামেন্টগুলো খেলা কোচ, সতীর্থদের কাছ থেকে খেলা শেখার এবং দক্ষতা বাড়ানোসহ নতুন বন্ধু গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দারুণ সহায়ক।’ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন পেলে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফুটবল থেকে। শতাব্দী সেরা এ্যাথলেটের স্বীকৃতিও পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি থেকে ১৯৯৯ সালে। পেলে পরিকল্পনা নিয়েছেন কিশোর-তরুণদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান দেয়া এবং খেলার কৌশল সম্পর্কে কিছু ধারণা দেয়ার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য কিছু অনুপ্রেরণামূলক গল্প বলা এবং তরুণ ফুটবলারদের পরামর্শ দেয়া। আমি তাদের মধ্যে সারাজীবন ধরে প্রভাব থাকবে এমন কিছু বলতে চাই। তাদের বুঝাতে চাই দলগতভাবে কাজ করার সুফল, ভাল ক্রীড়াবিদ হিসেবে কেমন মানসিকতা হওয়া উচিত। আর সে কারণে আমি তাদের সাক্ষাত পেতে মুখিয়ে আছি।’