২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার হারের লজ্জায় শুরু

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শুরুতেই অশনি সংকেত! ঐতিহাসিক হারের লজ্জায় ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইপর্ব শুরু করেছে ফেবারিট ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের উদ্বোধনী দিনেই বিখ্যাত হলুদ ও আকাশী-সাদাদের পতন দেখেছে ফুটবলবিশ্ব। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই দলকেই আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়েছে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

স্বাগতিক চিলির কাছে ২-০ গোলে হেরেছে অতিথি ব্রাজিল। তবে আর্জেন্টিনার লজ্জা অনেকটাই বেশি। দিয়াগো ম্যারাডোনার দেশ নিজেদের মাঠে একই ব্যবধানে হেরেছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল ইকুয়েডরের কাছে। বাছাইপর্বের অন্যান্য ম্যাচে উরুগুয়ে ২-০ গোলে বলিভিয়াকে, কলম্বিয়া একই ব্যবধানে পেরুকে ও প্যারাগুয়ে ১-০ গোলে পরাজিত করে ভেনিজুয়েলাকে।

অঘটন শুরু বাছাইপর্বে অনেক ‘রেকর্ড’ আর ‘প্রথম’ ঘটনা ঘটেছে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে চিলি জয় পেয়েছে ১৫ বছর পর। আর প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার মাটিতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ জিতেছে ইকুয়েডর। শুধু তাই নয়, ইতিহাসে আগে কখনোই যা ঘটেনি সেটাও দেখা গেছে। এই প্রথম বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে একই দিনে ম্যাচ হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এই দু’দলের বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটেছে। এই যেমন এই প্রথম লাপাজের আকাশছোঁয়া মাঠে জয় পেয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মাঠগুলোর একটি লাপাজে এর আগের ম্যাচটিতেই বলিভিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল উরুগুয়ে। অথচ এবার সেই অজেয় দুর্গ জয় করে এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিধর দেশটি।

চিলির রাজধানী সান্টিয়াগোতে অধিনায়ক নেইমারকে ছাড়াই স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে খেলতে নামে ব্রাজিল। চোটের শঙ্কা কাটিয়ে অ্যালেক্সিস সানচেজ ও আর্টুরো ভিদাল খেলতে নামার শুরুতেই আক্রমণে এগিয়ে থাকে কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চিলি। প্রথমার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা হলেও এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরাই। ৪২ মিনিটে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া সানচেজের জোরালো শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে হতাশ হতে হয় চিলিকে। যে কারণে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলহীনভাবে।

বিরতির পর ৫৫ মিনিটে আরেকবার হতাশ হতে হয় চিলিকে। মাউরিসিও ইসলার শট জেফারসনকে ফাঁকি দিলেও বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। একের পর এক সহজ সুযোগ হাতছাড়া করা চিলি এগিয়ে যায় ৭২ মিনিটে। ফার্নান্ডেজের ফ্রিকিকে পা ছুঁইয়ে লক্ষ্যভেদ করে সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান এডুয়ার্ডো ভারগাস। পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ হারায় ৭৭ মিনিটে। উইলিয়ানের ক্রস প্রতিপক্ষের পোস্টের মুখে পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন অনুজ্জ্বল হাল্কের বদলি হিসেবে নামা রিকার্ডো অলিভিয়েরা। উল্টো ৮৮ মিনিটে আরেক গোল করে চিলির জয় নিশ্চিত করেন সানচেজ। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ছাড়াই খেলতে নামে স্বাগতিক আর্জেন্টিনা। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা মিলছিল না। কিন্তু ৮১ মিনিটে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন সেন্টার ব্যাক ফ্রিকসন এরাসো। এক মিনিটের মধ্যেই পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন ফেলিপে কাইসেডো। অর্থাৎ মাত্র ৮৬ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই গোল পেয়েছে ইকুয়েডর। পর পর দুই মিনিটে দুই গোল করে অ্যাগুয়েরো, ডি মারিয়া, মাশ্চেরানোদের হতভম্ব করে দেন গুস্তাভো কুইনটেরোসের দল। বাছাইপর্বে এটি আর্জেন্টিনার জালে দ্রুততম সময়ে পর পর দুটো গোল ঢোকানোর রেকর্ড। ম্যাচে অধিনায়ক মেসির দশ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে নামলেও কিছুই করতে পারেননি অ্যাগুয়েরো। উল্টো ২০ মিনিটে মেসির মতোই ইনজুরি ভাগ্যবরণ করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে।