২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোর মেডিক্যাল কলেজ রাস্তার অভাবে পরবাসী

সাজেদ রহমান, যশোর অফিস ॥ যশোর মেডিক্যাল করেজের নিজস্ব ভবন আছে। ক্যাম্পাস আছে। আছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। তারপরও যেন পরবাসী। এখনও যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট ভবনে অস্থায়ীভাবে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষাকার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ পাঁচ বছর পার হলেও নিজস্ব ভবনে শিক্ষার্থীরা এখনও ক্লাস করতে পারেনি। শুধু রাস্তার অভাবে নিজস্ব ভবনে ক্লাস করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। তবে সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।

যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ এএইচএম মাহাবুল উল মওলা চৌধুরী জানান, যশোর মেডিক্যাল কলেজ সরকারীভাবে অনুমোদন লাভ করে ২০০৮ সালে। স্থান নির্ধারণের পর শহরের প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে বিল হরিণায় ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১০ সালে সেখানে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় নতুন ভবনে যাওয়া যাচ্ছে না।

যশোর মেডিক্যাল কলেজে ৪টি ব্যাচে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩শ’। আবার ৫ম ব্যাচে শিক্ষার্থী ভর্তি চলছে। কিন্তু নিজস্ব একাডেমিক ভবন রাস্তার অভাবে চালু না হওয়ায় বর্তমানে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে যশোর আড়াই শ‘ শয্যা হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট ভবনে। হাসপাতালটিও অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে। কলেজের জন্য কোটি কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক যন্ত্রপাতি দেয়া হয়েছে। অথচ নিজস্ব ভবন চালু না হওয়ায় জায়গার অভাবে তা ব্যবহারের উপযোগী করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ এবং ইন্টার্নি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র নাজমুল হাসান তুহিন জানান, তাদের চরম দুরবস্থার মধ্যে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় তারা এক সঙ্গে ক্লাস করতে পারেন না। এক ব্যাচের ক্লাস হলে অপর ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। তিনি কলেজের প্রবেশ পথ উন্নয়নসহ দ্রুত নতুন ভবনে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকেীশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, কলেজে প্রবেশের এক মাত্র সড়কটির উন্নয়ন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। মাত্র ২২শ’ ফুট রাস্তাটি সরকারের কোন্ বিভাগ বাস্তবায়ন করবে তা নিয়ে চলছে রশি টানাটানি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এ রাস্তা করার দায়িত্ব যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের, আবার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলছে, আমরা নই ওই রাস্তার কাজ করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলছে, ওই রাস্তা উঁচু করা বা মাটি ফেলার কাজ তাদের নয়। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকেীশলী বলেন, রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য ৪ বছর ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি চলাচালি চলছে। সর্বশেষ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি তুলে ধরেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। সর্বশেষ, স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বিষয়টি আমলে নিয়েছেন। জরুরীভাবে সড়ক নির্মাণের জন্য আশ্বাস দিয়েছেন।