২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক পরিবারের চারসহ নিহত পাঁচ

  • পটিয়ায় বাস অটোরিক্সা সংঘর্ষ

বিকাশ চৌধুরী, পটিয়া, ৯ অক্টোবর ॥ চট্টগ্রামের পটিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত বেবিট্যাক্সি মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার মনসা চৌমুহনী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর এই ঘটনায় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের সেনপাড়ার প্রবাসী কাঞ্চন সেনের পুত্র কাকন সেন (৪), প্রবাসী অঞ্জন সেনের পুত্র অনিক সেন (আড়াই বছর), অঞ্জনের স্ত্রী রূপনা সেন (২৮), কাঞ্চন সেনের চাচাত ভাই প্রবাসী মিল্টন সেন (২৪) ও সিএনজি চালক সাইফুল ইসলাম (২৬)। আহত হয়েছেন আরও চারজন। তারা হলেন কাঞ্চন সেন, তার স্ত্রী অনামিকা সেন, অঞ্জন সেন ও অঞ্জন সেনের পুত্র আপন সেন (৮)। আহতদের মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ বাস ও সিএনজিটি আটক করেছে। একই পরিবারের চারজনসহ

পাঁচজন মারা যাওয়ার খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

পুলিশ ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের সেনপাড়ার গ্রামের সুনীল সেনের পুত্র কাঞ্চন সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। তিনি সপরিবারে শ্বশুরবাড়ি বাঁশখালী উপজেলায় যাচ্ছিলেন। তাদের সিএনজি ট্যাক্সিটি পটিয়া উপজেলার মনসা চৌমহনী এলাকায় পৌঁছলে কক্সবাজারমুখী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রবাসী মিল্টন ও প্রবাসী কাঞ্চন সেনের পুত্র কাকন মারা যান। আহতদের মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানে অনিক, রূপনা ও সিএনজি চালক সাইফুল মারা যান। পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাসুদ জানান, দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজির মুখোমুখি সংর্ঘষ হলে সিএনজিটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

মামারবাড়ি খাওয়া

হলো না কাকনের

প্রেতপক্ষ উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি বাড়ি চলে এক ধরনের খাওয়ার উৎসব। ১৫ দিন ধরে এই খাওয়ার উৎসব শুধু আত্মীয়স্বজনের মধ্যে হয়ে থাকে। বিশেষ করে মামার বাড়ির ভাত খাওয়াটাই। প্রতিবছর প্রেতপক্ষ পালন করতে স্বজনরা বিভিন্ন খাওয়ার আয়োজন করে থাকে। সোমবার পর্যন্ত এই প্রেতপক্ষ চলবে। প্রিয় আদরের শিশুকে তার মামার বাড়িতে ভাত খাওয়াতে বিদেশ থেকে গত বুধবার দেশে ফিরেন কাঞ্চন সেন। গত সাড়ে পাঁচ বছর পূর্বে কাঞ্চন বিয়ে করেন বাঁশখালী। তাদের সন্তান কাকন সেন (৪) নামের একপুত্র সন্তান। চলতি প্রেতপক্ষে (অপরপক্ষ) মামার বাড়ির ভাত খাওয়া ছাড়াও অতীত উত্তরসূরিদের কল্যাণে তিলতর্পণ ও শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়ক হয়ে বাঁশখালী যাওয়ার সময় যাত্রীবাহী বাসের দুর্ঘটনায় মামার বাড়ির ভাত খাওয়া হলো না কাকনের।