২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় খুলনায়

  • সুফল পায়নি নগরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয়বহুল একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ‘নগর অঞ্চল উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় গত দুই বছরে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এর সুফল এখন পর্যন্ত নগরবাসী পায়নি। প্রকল্পের আওতায় গত অর্থবছর পর্যন্ত দু’টি নদী খনন, ১১টি খাল পুনর্খনন ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, রেকর্ড অনুযায়ী খালের জায়গা পুরোপুরি দখলমুক্ত না করে সেখানে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, খুলনা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৫০টি রেকর্ডীয় খাল-নদী রয়েছে। এক সময় এসব খাল ও নদী দিয়ে নৌকা চলাচল করত। নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক এ উৎসগুলোর মধ্যে এগারোটির অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তি এমনকি কোন কোন প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো তৈরি করেছে এসব খাল দখল করে। বাকিগুলোরও অধিকাংশই অবৈধ দখলে থাকায় খুলনা মহানগরীর পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়। নগরীর অন্যতম প্রধান এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে খুলনাবাসী দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। ২০০৮ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে কেসিসি’র পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ৫০টি খাল-নদীর মধ্যে নগরীর ২২টি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদের লক্ষ্যে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অবৈধ দখলকারী হিসেবে ৮১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। ১৭টি খালে সীমানা পিলার স্থাপন করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে ‘নগর অঞ্চল উন্নয়ন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হলে ওই প্রকল্পের আওতায় কাজ শুরু হয়।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের মে মাস থেকে ‘নগর অঞ্চল উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত এ প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারিত রয়েছে ৩৩৫ কোটি টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সহযোগিতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় খুলনার মৃতপ্রায় ময়ূর নদী ও হাতিয়া নদী খননসহ বিভিন্ন রেকর্ডীয় খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে পুনর্খনন ও অভ্যন্তরীণ ড্রেনগুলো পুনর্নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু গত দুই বছরে কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। বৃষ্টি হলে নগরীর খানজাহান আলী রোড, শামসুর রহমান রোড, স্যার ইকবাল রোড, ইসলামপুর রোড, বাইতিপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, বাবু খান রোড, কেডিএ এভিনিউসহ বিভিন্ন রাস্তায় হাঁটু পানি জমে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় নগরীর নি¤œাঞ্চল চাঁনমারী, লবণচরা, মহিরবাড়ি খালপাড় প্রভৃতি এলাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘নগর অঞ্চল উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় গত দুই বছরে হাতিয়া ও ময়ূর নদী খনন এবং বিভিন্ন এলাকার ১১টি খাল পুনঃখনন করে ঢালাই দিয়ে ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ৭ কিলোমিটার ড্রেন পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। গত জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭১ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এদিকে কাজের মান নিয়ে নাগরিকদের প্রশ্ন রয়েছে। নদী ও খালের পাশ থেকে সকল দখলদার উচ্ছেদ হয়নি। হাতিয়া নদীর খনন কাজ কিছুটা দৃশ্যমান হলেও ময়ূর নদী খনন নিয়ে অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাছাড়া নদী ভরাট করে জমি তৈরির প্রবণতাও বন্ধ হয়নি।

নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ছয়ফুদ্দীন বলেন, যেসব খালের কিছু অংশজুড়ে বহু আগে রাস্তা হয়েছে কিংবা বাড়িঘর বানানো হয়েছে বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সেখানে খাল খনন ও ড্রেনের কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়নি। প্রকল্পের কাজ ঠিকমতোই চলছে। এটা একটা চেইন ওয়ার্ক। গত দুই বছরে প্রথম ফেজে যতটুকু কাজ হয়েছে তাতে কিছুটা হলেও নগরবাসী উপকৃত হয়েছে। বৃষ্টির দিনে আগের মতো প্রকট সমস্যা হচ্ছে না। এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে নগরবাসী এর সুফল পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয়বহুল প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত যে কাজ হয়েছে তাতে তেমন কোন সুফল আসেনি। পানি নিষ্কাশনের খালগুলো থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ হয়নি। খাল পুরোপুরি দখলমুক্ত না হওয়ায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, কেডিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম সফল হয়নি।