২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যাত্রা-পুতুল নাচের শিল্পীরা কি হারিয়ে যাচ্ছেন

ভাল নেই পুতুল নাচিয়েরা। আর্থিক সঙ্কটসহ নানা কারণে তারা পেশা বদল করছে। পুতুল নাচিয়ে শিল্পী খেলু মিয়া। তিনি এখনো ‘বীণা বীণা পুতুলনাচ’ দলটি চালাচ্ছেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলের সংসার। তাদের নিয়ে কোনরকমে টিকে আছেন। আগে পুতুল নাচের টাকায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে ভালই চলেছেন। এখন আয় রোজগার কমে গেছে। তাই মুদি মনোহারি ব্যবসায় ঝ্্্ুঁকে পড়েছেন। ‘চন্দ্রিমা পুতুলনাচ’-এর পরিচালক শরীফুল ইসলাম মালদার বলেন, জীবনযাত্রা পরিবর্তনের কারণেই পুতুলনাচ হুমকিতে পড়েছে। তিনিও অন্য ব্যবসায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন আগে প্রতিটি অনুষ্ঠানে যে টাকা আয় হয়েছে, তা দিয়ে সংসার ভালই চলেছে। এখন সে অবস্থা নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচে চমক সৃষ্টিকারী মেড্ডার প্রয়াত ধন মিয়ার ছেলেরা এখনও কোনরকমে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে তাদের জমজমাট অবস্থা নেই। কায়ক্লেশে চলছে তাদের সংসার। আলোচিত এ শিল্পী ১৯৮০ সালে পুতুলনাচ দেখাতে সোভিয়েত ইউনিয়ন গিয়েছিলেন। ভারতের ব্যাঙ্গালোর, রাশিয়ার মস্কো, তাসখন্দ, সমরখন্দ শহরে পুতুলনাচ দেখিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। প্রথম পুরস্কারও পেয়েছিলেন। তিনি তৈরি করেন আধুনিক মডেলের পুতুল। প্রখ্যাত পুতুলনাচ শিল্পী তারা মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া বাবার ‘ঝুমুর পুতুলনাচ’ খুবই জনপ্রিয় ছিল। রাজু মিয়ার মৃত্যুর পর এ দলটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার ছেলেরা বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। বৈরী পরিবেশে যাত্রা এখন আর লাভজনক নয়। পার্টি করতে যে টাকা খরচ হয় তা ওঠে না। এখন বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যম এসে গেছে। যাত্রায় নগ্নতা, উচ্ছৃঙ্খলতা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে, যাত্রা যে একটি শিল্প তা আজ আর বলা যায় না। বিভিন্ন সামাজিক কারণে যাত্রা অর্থনৈতিক হুমকির মুখে পড়ে। যাত্রা গানের সংগঠনক ও নেতৃত্বের অভাব, যাত্রাশিল্পীরা সামাজিক অপবাদের কারণে অনেকেই তাদের পেশার পরিবর্তন করেছে।

Ñরিয়াজউদ্দিন জামি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে

নির্বাচিত সংবাদ