২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষির পাশে কৃষক এখন খামারি

নিকট অতীতে...নাহ! খুবই কাছের অতীতে গ্রামে গৃহস্থ ও কিষান বাড়ির অন্যতম পরিচিতি ছিল বহির্আঙ্গিনায় (কোন অঞ্চলের ভাষায় খুলি) গোয়াল ঘর। যেখানে রাতভর গরু ঘুমিয়ে থেকেছে। ষাঁড় বা বলদ গরুতে হাল চাষ করা হতো। গাই গরু পালন করা হতো খাঁটি দুধের জন্য। সকাল-বিকাল গরুর খাবার দেয়া হতো। যেমন শুকনো খড় কেটে বাঁশের ডালার মতো বানিয়ে ভেতরে রেখে, ভুষি পানিতে গুলিয়ে সামান্য খৈল দিয়ে চাড়ির মধ্যে রেখে দেয়া হতো। দিনভর মাঠে গরু চরে ক্লান্ত হয়ে ফিওে এসে ওই খাবার খেয়েছে। রাতে জাবর কেটেছে। গরু জমি চাষে লাঙল জোয়াল বইতো, সমান করতে মই টেনেছে। এই গরু দিয়ে ধানের আঁটি চারধারে গোল করে রেখে গরু দিয়ে মাড়াই করা হয়েছে। গরুর কোন কিছু ফেলে দেযার ছিল না। গোবর জড়ো করা হতো জৈব সার কিংবা জ্বালানির জন্য। গোয়াল ঘরের সেই চিরচেনা চিত্র আজ আর নেই।

কৃষি কাজের এখন সবই যন্ত্রে। ট্রিলারে চাষ। বীজ বপন, চারা রোপণ যন্ত্রে। পরিচর্যা বা টপ ড্রেসিং যন্ত্রে। জমি থেকে ধান কেটে মাড়াই করে ও বস্তায় ভরে সরাসরি কৃষকের আঙ্গিনায় পৌঁছে দিচ্ছে জায়েন্ট হারভেস্টার। ম্যানুয়ালি ধান মাড়াই যন্ত্র বের হয়েছে। সবই এখন যন্ত্রে। গোয়াল ঘরের সামনে খড় কাটার জন্য ধান কাটার কাঁচি (অর্ধচন্দ্রের মতো দেখতে) ছোট্ট দুই বাঁশের খুঁটির মধ্যে এঁটে রাখা হতো। পুঁতে রাখা সেই বাঁশ আজও সাক্ষ্য দেয় একদা সেখানে গোয়াল ঘর ছিল।

অতীতের মতো গরু পালন প্রায় উঠেই গেছে। গরুর দুধের জন্য গোয়াল ঘর এ যুগের আধুনিকায়নে মোড় নিয়েছে। পরিণত হয়েছে মিনি ডেইরি ফার্মে। গ্রামের ধনী কৃষকের অনেকে এখন দুধের জন্য গরু লালন-পালন করে। নদী তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলে অনেকে গরু পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে। বগুড়ায় যমুনার চর এলাকায় গরু পালনে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। আরডিএতে ক্যাটেল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপিত হয়েছে। যেখানে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফ্রিজিয়ানা জাতের ষাঁড় এনে উন্নত সিমেনে প্রজনন প্রক্রিয়ার পর লালন-পালন করে গাই হচ্ছে। হৃষ্টপুষ্ট গাই যে দুধ দেয় তার পরিমাণ দেশী জাতের গাই থেকে অনেক বেশি। এই দুধ দোয়ানো হয় মেশিনে। গ্রামাঞ্চলে এমনইভাবে গাই পালন করে মিনি ডেইরি ফার্ম গড়ে উঠেছে। বর্তমানে শহরাঞ্চলের পাড়া মহল্লায় মিনি ডেইরি ফার্ম গড়ে উঠেছে। এইসব দুধ গ্রামের ও শহরের হাট বাজরে তো যাচ্ছেই, মাঝারি ডেইরি ফার্মগুলো পলিপ্যাকেটজাত করে তা শহরের ছোটবড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরেও বিপণনের জন্য সরবরাহ করছে। অন্যদিকে ষাঁড় বা বলদ বিক্রি হচ্ছে পশুর হাটে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে দেশী গরুর চাহিদা পূরণ করছে এই মিনি ফার্মগুলো।

একবিংশ শতকের এই সময়টায় গ্রামে গিয়ে চোখ পড়ে একদার গোয়াল ঘরেরই উন্নত সংস্করণ মিনি ম্যানুয়াল ডেইরি ফার্ম। কৃষক নিজেই সেখানে চাষাবাদের পর বাড়তি সময় কাজ করছে। কৃষিতে যন্ত্র আসার পর কৃষক অনেকটা সময় হাতে পায়। ধনী কৃষক ডেইরি ফার্ম দিয়ে নিজেই তা পরিচর্যা করে। মাঠে নেপিয়ার ঘাসের চাষও হচ্ছে।

Ñসমুদ্র হক, বগুড়া থেকে