২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আখতারুল ইসলাম

কিটু আনিকার প্রিয় বন্ধু! খুব প্রিয়, অবশ্যই আরেকটা প্রিয় বন্ধুও ওর আছে, সেটা পুতুল, তার এই প্রিয় বন্ধুদের ঘিরে সারাদিন খেলা আর কথা, কিটু কলা খায় না, আম খায় না, পেয়ারা খায় না, আপেল, আঙুর খায় না, এমনকি শাক-সবজিও খায় না। অথচ আনিকার এইসব প্রিয় খাবার। আর কিটুটা শুধু মাছ খায়, মাছের কাঁটা খায়। দুধও খায় কিটু, প্রতিদিন আনিকা টেনশনে থাকে কিটুর খাবারের জন্য! মাছ ও দুধ খুব দামী খাবার, বাবা-মার বকুনি শুনতে হয়, এই কিটুর জন্য। পুতুল সোনার জন্য কোন বকুনি শুনতে হয় না। পুতুল কিছুই খায় না। মনে হয় পুতুলটাকে তার মা ছোট বেলায় এক সঙ্গে সব খাইয়ে দিয়েছে। ওরা কোন ক্ষুধা তৃষ্ণা নেই। তার পুতুল কথা বলে, হাঁটে আনিকা পিছুপিছু ঘুরে, গান গায় আনিকা মন খারাপ হলে গান শোনায়। আনিকা এই পুতুলকে শাড়ি পরায়, গয়না পরায় থ্রি-পিস পরায়, বৌর মতো করে সাজায়, এই পুতুলকে সাজানোর জন্য রীতিমতো ছোটখাটো একটা বিউটি পার্লার করে ফেলে। কত কি যে সাজানোর বস্তু!

আনিকা যখন পুতুলকে সাজায়, বৌ বানায়। কিটু খুব রাগ করে, মুখটা কালো করে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে যেই না ডাকে এই কিটু। কিটু রাগ করেছিস! কিটু বুঝতে পারে, মিঞাও! মিঞাও!! করে আনিকার কোলে ওঠে আদর খোঁজে। যেই না আনিকা কিটুকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। নিমিষেই কিটুর দুঃখ, কষ্ট, রাগ উধাও হয়ে যায়। কিন্তু কিটুকে আদর করলে, পুতুলটা রাগ করে না, যেন খুশি হয়, আনিকা ভোর হতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত ওরা রাতে ঘুমালেও ওদের সঙ্গে ঘুমায়। আনিকার বাবা ওর পুতুলের নাম দেয় লিভিং ডল অর্থাৎ জীবিত পুতুল। যে তার মেয়ের সঙ্গে সব করে বন্ধুর মতো। কথা বলা, গান শোনানো, এক সঙ্গে থাকা, ঘুমানো তাই লিভিংডল।

একদিন রাতে অদ্ভুত এক কা- ঘটল! আনিকা ঘুমে বিভোর একপাশে লিভিং ডল, অন্য পাশে কিটু। ওরাও ঘুমাচ্ছে। হঠাৎ কুটুর কুটুর কুট! শব্দে আনিকার ঘুম ভেঙে যায়। দেখে তার পুতুল কিং টুং টাং শব্দ যেন কান্না করছে। ঘরের ভেতর হালকা আলো জ্বলছে আর নিভছে। জানালাও খোলা। আনিকা ভাবে ঘরে চোর-টোর ঢোকেনি তো! চোখ খুলে দেখতে পায়, তার লিভিং ডল তার পাশে নেই। কিটু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, টেবিলের নিচে কে যেন বসে আছে! ভয়ে আনিকার শরীর শিউরে ওঠে! হাত পা কাঁপছে! গায়ের লোমগুলো খাঁড়া হয়ে গেছে। মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না, টেবিলের নিচে হয়ত ঘাপটি মেরে কেউ বসে আছে। পুতুলের সঙ্গে ঝাপটা ঝাপটি করছে। পুতুল শব্দ করছে, কিং টিং টাং। হঠাৎ বাম হাত গিয়ে পড়ে কিটুর পায়ে! কিটু মিঞাও করে ওঠে বসে, দেখে আনিকা স্তব্ধ হয়ে বসে আছে। আনিকা কিটু বলতেই কিটু দেখে টেবিলের নিচে ইঁদুর! মিঞাও করে লাফ দিয়ে ধরতেই ইঁদুরটি দ্রুত জানালা দিয়ে চলে যায়, আনিকার মনে হলো ইঁদুরটি পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে গেল। আনিকা, লাইটের সুইচ অন করে, দেখে লিভিং ডল টেবিলের নিচে। কিটু মুখ দিয়ে কামড়ে লিভিংকে আনিকার কাছে নিয়ে আসে, দেখে পরানো জামা ছেড়া, হাতে কামড়ের দাগ। আদর করতে করতে পুতুলও কিং টুং টাং শব্দ করছে। রাগে আনিকা বলে তুমি আমাকে ডাকনি কেন? আনিকা কান্না শুরু করে, কিটু লেজ নেড়ে এদিক ওদিক করছে। কান্নার শব্দ শুনে, আনিকা বাবা ঘুম থেকে ওঠে মেয়ের কাছে আসে।

: কিরে মা, কি হয়েছে?

: বাবা দেখ না, পাজি ইঁদুর কি করেছে আমার পুতুল সোনার!

আনিকার মা বললো, রাতে ইঁদুর আসবে কোথা থেকে। হঠাৎ চোখ পড়ে! জানালাটা খোলা! আনিকার বাবা আনিকার মাকে উদ্দেশ করে বলল! কি আজ জানালা লাগাওনি। আনিকার মা বলল, আমার খেয়াল ছিল না। তাদের এক তলা বাসা, পাশে একটা নালা, নালাতে ইঁদুরের খুব উৎপাত। যখন থেকে কিটু আছে, তখন থেকে ইঁদুর দেখা যায়নি। আজ হঠাৎ ...

আনিকা বলল, দেখ বাবা কিটু না থাকলে, ইঁদুরটা আমাদের লিভিং ডলকে মেরেই ফেলত!

সত্যিই তো! আনিকার বাবা বলল, হ্যাঁ! মা, তোমার কিটু অনেক ভাল।

কিটু লেজ নেড়ে আনিকা কোলে আদর খোঁজে। আনিকা হাত বোলাতে বোলাতে বলল, লক্ষ্মী সোনা কিটু! তুমি না থাকলে আমার লিভিং ডলের কি যে হতো। আনিকার মা জানালা বন্ধ করে দেয়।

: এখন শুয়ে পড় মা।

: না বাবা আমার ভয় করছে! তুমিও আমাদের সঙ্গে থাক।

: আচ্ছা! ঠিক আছে।

: বাবা ...

: আবার কি হলো!

: বাবা কাল লিভিংডলকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।

আচ্ছা নেব! শুবে চল। আনিকা, কিটু, লিভিং ডল ও বাবাসহ এক সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে।

অলঙ্করণ: সোহেল আশরাফ