১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মংলায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধুকে দিনে দুপুরে শ্লীলতাহানী, আটক-১

মংলায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধুকে দিনে দুপুরে শ্লীলতাহানী, আটক-১

নিজস্ব সংবাদদাতা, মংলা ॥ বিকাল ৫টার কিছু পর । স্ত্রীর বায়নাতে ঘুড়তে বেড়িয়েছেন স্বামী । পথিমধ্যে বাখাটেদের হামলা। এরপর যে ঘটনাটি ঘটেছে তা বাংলা সিনেমাকেও হার মানাবে। প্রকাশ্যে দিবালোকে স্বামীর সামনে স্ত্রী ও তার তিন বান্ধবীকে ঘিরে ধরে ৯ বখাটে যুবক । তারপর হৈ হুল্লা করে মেয়েদের শ্লীলতাহানী করতে থাকে ওই বখাটেরা। এ সময় আশেপাশে লোকজন উপস্থিত থাকলেও কেউ বাধা দিতে সাহস করে এগিয়ে আসেন নি। নিরুপায় হয়ে স্ত্রীর ইজ্জত বাঁচাতে স্বামী ছুটে আসলে তাকে বেধড়ক মারধর করে বখাটেরা। শুক্রবার মংলার কুমারখালী এলাকায় এ বর্বর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন মংলা শহরতলীর শেহালাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মো. মকবুল হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান (২৯)ও তার পুত্রবধু সাদিয়া মোস্তফা মৌ(২০)। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক জনকে আটক করেছে।

এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে মাহবুবুর রহমান ও তার স্ত্রী সাদিয়া মোস্তফা এবং তার তিন বান্ধবী মিলে বেড়াতে আসেন শহরতলীর কুমারখালী এলাকার পানি প্রজেক্টে। এ সময় ওই এলাকার কাউন্সিল হাবিবুর রহমানের বখাটে তিন পুত্র মো. তৌহিদুর রহমান(২০), মো. সোহাগ (২৭), তারেকসহ ৯-১০ জনের একটি গ্রুফ তাদের ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে বখাটেরা হৈ হুল্লা করতে করতে মেয়েদের ওড়না ও কামিজ ধরে টানা হেছরা শুরু করে ।এ সময় বাধা দিতে আসলে স্বামী মাহবুবকে এলোপাতাড়ি লাথি ঘুষি ও লাঠি পেটা শুরু করে বখাটেরা। এ ঘটনা দেখে স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে স্ত্রী সাদিয়া । পরে তাকেও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে তারা । এক পর্যায়ে এলাকাবাসী সম্মিলিত ভাবে ছুটে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী আহত স্বামী ও স্ত্রীকে উদ্ধার করে মংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

শনিবার সকালে আহত মাহবুব বলেন, বখাটেদের হামলায় আমি ও আমার স্ত্রী জ্ঞান হারাই। পরে জ্ঞান ফিরে আসলে বুঝতে পারি বখাটেরা শুধু আমাদের হামলা ও মারপিট করে ক্ষান্ত থাকে নি । আমার স্ত্রীর সোনার চেন ও আমাদের কাছে থাকা টাকা পয়সাও নিয়ে গেছে তারা। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে থানায় মামলার জন্য একটি আবেদ করেছেন বলেও জানান মাহবুব ।

এ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই ফিরোজ শনিবার দুপুরে এ প্রতিবেদককে জানান- অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সাথে জড়িত মংলা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পুত্র সোহাগকে (২৭) আটক করা হয়েছে । এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওই এএইআই।

এদিকে এ ঘটনাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা উল্ল্যেখ করে মংলা পৌর মেয়র জুলফিকার আলি এ প্রতিবেদককে বলেন- হাবিব কাউন্সিলরের ছেলেদের এ ঘটনার শোনার পর আমি হতবম্ব হয়ে যাই । ঘটনাটি স্থানীয় এমপিকেও জানানো হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য প্রশাসনকে নির্দেষ দিয়েছেন।