২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ

  • বিদেশী সরকার ও মার্কিন ব্যাংকারদের সতর্ক করল ওবামা প্রশাসন

ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ রয়েছে বলে ওবামা প্রশাসন অনানুষ্ঠানিকভাবে বিদেশী সরকার মার্কিন ব্যাংকারদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ইরান জুলাইয়ের পরমাণু চুক্তি পুরোপুরি পালন না করা পর্যন্ত সেদেশের তেল শিল্প ও অন্যান্য ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করতে তাড়াহুড়ো করার বিরুদ্ধেও পশ্চিমা কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তি ঐ চুক্তিতে জড়িত। খবর ইয়াহু নিউজের।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ইরানের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ রয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সম্প্রতি বিশ্ব জুড়ে দূতাবাসগুলোতে এক বার্তা পাঠিয়েছে। কূটনৈতিক ও সরকারী সূত্রে শুক্রবার একথা বলা হয়। বার্তায় জোর দিয়ে বলা হয় যে, তেহরান চুক্তিটির শর্তাবলী পালন করেছে বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু জ্বালানি সংস্থা (আইএইএ) সত্যায়িত না করা পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না।

লন্ডনভিত্তিক এক কূটনৈতিক সূত্রে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার ক্ষেত্রে আমেরিকানদের আগেই যাতে সরকারগুলো পদক্ষেপ না নেয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেই কথাই বলতে চায়।

ঠিক কখন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হতে পারে তা অনিশ্চিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান চুক্তি পালন করছে বলে দেখা গেলে দেশটির সঙ্গে কিছু আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন আগামী বছরের কোন সময়ে সম্ভব হতে পারে। মার্কিন আইনে রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল ইরানীয়ান অয়েল কোম্পানি বা এর অধীন সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করে এমন সব দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার ক্ষমতা প্রশাসনকে দেয়া হয়। যেসব কোম্পানি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে, তাদের জরিমানা, সম্পদ বাজেয়াফত হতে পারে বা তাদের মার্কিন ডলার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা যেতে পারে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ফরাসী ব্যাংক বিএনপি পরিবাসকে এক রেকর্ড অঙ্কের জরিমানা করে। ব্যাংকটি সুদান, কিউবা ও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছিল এমন অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে প্রায় ৯শ’ কোটি ডলার পরিশোধ করতে রাজি হয়।

যৌথ ব্যাপকভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা শীর্ষক ঐ চুক্তি নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাওয়ার বিনিময়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচীর ওপর কঠোর বাধানিষেধ আরোপ করে। ইরান পাশ্চাত্যের নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি বিশেষত তেল ও গ্যাস খাত চাঙ্গা করতে নিষেধাজ্ঞা অবসানের জন্য অপেক্ষা করছে।

জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও ভারতসহ বড় বড় অর্থনীতির দেশ থেকে উর্ধতন সরকারী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সুযোগ নিয়ে আলোচনা করতে গত তিন মাস ধরে তেহরান সফর করেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, রয়েল ডাচ শেল, ফ্রান্সের টোটাল ও ইতালির এনিসহ বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানি ইরানের তেল ও গ্যাসের বিশাল মজুদের উন্নয়নের বিষয়ে ইরানের জ্বালানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় মিলিত হয়। ওবামা প্রশাসনের এক সূত্রে সম্প্রতি ঐ বার্তা পাঠানোর খবর নিশ্চিত করা হয়। ঐ কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসন ঐ পরিকল্পনার শর্তাবলী নিয়ে বেসরকারী খাতের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট তৃতীয় পক্ষ ও সরকারগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

কর্মকর্তা তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হন। ঐ বার্তা পাঠানো ছাড়াও নিষেধাজ্ঞা যে এখনও বলবৎ আছে একথা পুনর্ব্যক্ত করতে মার্কিন কর্মকর্তারা সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে তেল শিল্পের এক্সিকিউটিভ ও ব্যাংকারদের সঙ্গে গোলটেবিল আলোচনায় মিলিত হন। লন্ডনভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ইরান লন্ডনে অনুষ্ঠেয় এক গুরুত্বপূর্ণ তেল সম্মেলন গত মাসে চতুর্থ বারের স্থগিত রাখে। এর আগে ঐ সম্মেলন ১৪ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার আগেই অনুষ্ঠিত হবে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ব্রিটিশ কূটনীতিকদের কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানান। সম্মেলনটি এখন ২০১৬-এর ফেব্রুয়ারিতে হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।