২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে কঠোর হচ্ছে সরকার

  • জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা আজ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র। এই কৌশলপত্র অনুযায়ী বাংলাদেশী নাগরিকের বৈধ ও অবৈধভাবে বিদেশে রাখা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং সেখানে গচ্ছিত অর্থের তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির ষোড়শতম সভা আহ্বান করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ প্রতিমন্ত্রী আঃ মান্নানের সভাপতিত্বে আজ রবিবার এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

এদিকে, প্রণীত এ কৌশলপত্রের ১১টি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত উদ্দেশ্যের বিপরীতে ১১টি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। কৌশলগুলোতে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে যেসব বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে -মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি নিয়মিত হালনাগাদকরণ, দুর্নীতিলব্ধ সম্পদের মানিলন্ডারিং প্রতিহত করা, সীমান্ত সুরক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়নের মাধ্যমে সোনা ও মাদক পাচার, অন্যান্য সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ তার অর্থায়ন প্রতিহত করা, অবৈধ অর্থ পাচার প্রতিরোধ করা, কর ফাঁকি প্রতিহত করা এবং বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং বাধাগ্রস্ত করা, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, নুতন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ করার জন্য বিএফআইইউ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে এনজিওর মতো রিপোর্টিং এজেন্সির পরিপালন ব্যবস্থা উন্নত করা, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নবিষয়ক তদন্ত বিচারকার্যের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এছাড়া বিভিন্ন কৌশলের বিপরীতে ১৩৮টি এ্যাকশন আইটেম রয়েছে কৌশলপত্রে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত প্রতিরোধবিষয়ক আন্তর্জাতিক মানদ- নির্ধারণকারী সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল এ্যাকশন টাস্কফোর্স এফএটিএফ বাংলাদেশকে সতর্ক বার্তা দেয়। তারপর থেকেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে, প্রস্তাবিত ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন-২০১৫’ আইনটি সম্প্রতি অধ্যাদেশ আকারে জারিকরণে অুনমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে চলতি বছরের গত ১৭ আগস্ট অর্থদ-ের পরিমাণ দ্বিগুণ ও একাধিক সংস্থার যৌথ তদন্তের সুযোগ রেখে মুদ্রা পাচার আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।

জানা গেছে, মানিলন্ডারিং আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। গত ২০১২ সালের মুদ্রা পাচার আইনে ৪ থেকে ১২ বছর কারাদ-ের বিধান রয়েছে। সংশোধিত আইনেও তা একই রাখা হয়েছে। তবে পরিবর্তন আনা হয়েছে অর্থদ-ে। বিদ্যমান আইনে পাচার হওয়া অর্থের কমপক্ষে দ্বিগুণ অথবা ১০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ জরিমানার কথা বলা আছে।