২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুরকার রবীন্দ্র জৈন আর নেই

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ ষাট, সত্তর এবং আশির দশকের ভারতীয় বাংলা ও হিন্দী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক রবীন্দ্র জৈন আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৯ অক্টোবর শুক্রবার মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। মুম্বাইয়ের বান্দ্রার লীলাবতী হাসপাতালে শুক্রবার বিকেল সোয়া চারটা দিকে মৃত্যুবরণ করেন জৈন। বেশ কয়েকদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভূগছিলেন তিনি। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার নাগপুরের এক হাসপাতালে প্রথম ভর্তি হন জৈন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেদিন কনসার্টে অংশ নিতে পারেননি তিনি। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে মুম্বাই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লীলাবতী হাসপাতালে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে বেঁচে ছিলেন জৈন। উপমহাদেশে কিংবদন্তী এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে বলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বলিউডের শিল্পী কলাকুশলীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সঙ্গীতজ্ঞের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। তারা বলেছেন এই উপমাহাদেশের সঙ্গীতাঙ্গণে বিশেষ করে ধ্রুপদি সঙ্গীতে তার যে অবদান তা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া রবীন্দ্র জৈন ছিলেন জন্ম থেকেই অন্ধ। তার বাবা ছিলেন একজন সংস্কৃত পি ত ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ষাটের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করতেন জৈন। এরপর সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে হিন্দি চলচ্চিত্রে সুর দিতে শুরু করেন। গুণী এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব রাজ কপুরের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৭১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘদিন ভারতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে মিশে ছিলেন রবীন্দ জৈন। প্রায় ৪৫ বছরের বলিউড যাত্রায় জৈন সৃষ্টি করেছেন ‘গীত গাতা চাল’, ‘রাম তেরি গঙ্গা ময়লি’, ‘ফাকিরা’, ‘আঁখিও কে ঝারখো সে’, ‘চোর মাচায়ে শোর’, ‘ভিভাহ’-এর মতো সুপারহিট চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গীত। এছাড়াও ‘রামায়ণ’ এবং ‘আলিফ লায়লা’র মতো জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালের সঙ্গীতায়োজন করেছেন তিনি। বেস্ট মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে তিনি ১৯৮৫ সালে ফিল্ম ফেয়ার এ্যাওয়ার্ড পান।