২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানবিকতার নাটক পদাতিকের ‘জনমাংক’

সাজু আহমেদ ॥ বিশ্ব স্রষ্টার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে খ্যাত মানুষ আসলে কে? সৃষ্টিকর্তার নিষেধ সত্ত্বেও বিশ্বময় হানাহানি, শ্রেণী, আর বর্ণ বৈষম্যের যাঁতাকলে পিষ্ট বৃহৎ জনগোষ্ঠী মানুষের সংজ্ঞা নির্ধারণই আজকের বিশ্বের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ।অর্থনৈতিক বৈষম্য আর ভেদাভেদ পেশীশক্তি প্রদর্শনের তাচ্ছিল্য প্রতিযোগিতা আর একটি নির্দিষ্ট তান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় পুরুষ কি একাই মানুষের ধ্বজাবাহী? নারী কি শুধুই পুরুষের প্রয়োজন মেটানোর হাতিয়ার? এই পুরুষশাসিত সমাজে প্রয়োজন মিটে গেলেই নারীর বেঁচে থাকাটাও কি হয়ে যায় না অপ্রয়োজনীয়? পেশীশক্তির দাপটে স্বার্থপরতার চাদরে ঢাকা পড়ে মানবিকতার শুভ্র আবেগ। নিজেদের ক্ষুদ্র শক্তিকেও মানুষ খ-িত করে ফেলে নারী-পুরুষের বিভাজনে। আর তখন প্রবল পরাক্রমশালী প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ ঠেকিয়ে বেঁচে থাকাই যেন অসম্ভব হয়ে পড়ে খ-িত শক্তির জন্য। এমনি প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে দেশের জনপ্রিয় নাট্য সংগঠন পদাতিক নাট্য সংসদের অন্যতম প্রযোজনা ‘জনমাংক’ নাটকে। নাট্যকাহিনীর চিত্রে দৃশ্যমান সমুদ্রবেষ্টিত এক জনপদের পুরুষ নামধারী তথাকথিত মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থপরতা আমাদেরকে আহত করে। মানবতার অপমান ক্ষুব্ধ করে। প্রকৃতির রুদ্র রোষে ভীত মানুষ নারী আর পুরুষে বিভক্ত হলে পেশীশক্তির দাপটে বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে পুরুষরাই। নারীদের ঠেলে ফেলা হয় ক্ষুব্ধ সাগরের বুকে। আপাতদৃষ্টিতে সবল পক্ষটি প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের জীবনের ছন্দপতন ঘটে। নারী ছাড়া পুরুষের জীবন কতখানি শুষ্ক আর নিরানন্দের হতে পারে, টের পায় পুরুষরা। নারী আর পুরুষের যৌথ অবস্থানই যে মানুষের জীবনের সার্থকতা এনে দেয়, প্রতিষ্ঠিত করে মানবতার জয়গান, সময়ের আবর্তনে বুঝে ওঠে পুরুষরা। অন্যের অধিকার হরণ করে বেঁচে থাকা নয়, বিসর্জনে প্রস্তুত মানুষ অবশেষে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় প্রবল প্রতিপক্ষ সাগর দেবতার। এভাবে একটি জনগোষ্ঠীর মানবিক হয়ে ওঠার প্রয়াস স্পষ্ট হয়ে ওঠে ‘জনমাংক’ নাট্যকাহিনীতে। সম্পূর্ণ মানবিক হয়ে ওঠা দৃশ্যকাব্য ‘জনমাংক’ নাটকটি অভিনয় আর উপস্থাপনার আঙ্গিকের কারণে প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে পদাতিক নাট্য সংসদের ৩২তম প্রযোজনা ‘জনমাংক’ নাটকের ১৭তম প্রদর্শনী হলো শুক্রবার সন্ধ্যায়। ঢাকার মঞ্চে আলোচিত ‘জনমাংক’ নাটকটি রচনা করেছেন নাসরীন মুস্তাফা। নির্দেশনা দিয়েছেন মীর মেহেবুব আলম নাহিদ। শুক্রবার নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন মসিউর রহমান, শাখাওয়াত হেসেন শিমুল, ওয়ালিদ, জিনিয়া, কামরুল, জনি, ইকরাম, শুভ, সুমন, নিশাত তামান্না চমক, শরিফ, ইমরান, সানজিদা, তুনাজ্জিনা, স্বরূপ প্রমুখ। নাটকের আলোক পরিকল্পনা ফয়েজ জহির, আবহ পরিকল্পনা তপন কুমার সরকার, কোরিওগ্রাফি ফাহমিদা আলম পাখি, আবহ পরিচালনা হামিদুর রহমান পাপ্পু, মঞ্চ, পোশাক ও দ্রব্য আলী আহমেদ মুকুল, পরিচালনা সহযোগী লিমন, ইমরান।