২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শাহজালালে ৪৫ কেজি সোনাসহ ৩ মালয়েশীয় নাগরিক আটক

শাহজালালে ৪৫ কেজি সোনাসহ ৩ মালয়েশীয় নাগরিক আটক

স্টাফ রিপোার্টার॥ এবার সোনার চালানসহ ধরা পড়েছে তিন মালয়েশীয় নাগরিক। শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৫ কেজিসহ তাদের আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস। আটকরা হলেন-হে ওই খং (৩৮), জোহারি বিন হারুন (৪১), মোঃ আজওয়ান বিন সালেহিন (২১)। শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় বিমানবন্দরে কাস্টমসের প্রিভেনটিভ দল অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করে। তাদের দুজনের কাছে ১২টি করে এবং একজনের কাছে ২১টি সোনার বার পাওয়া যায়। এগুলোর প্রত্যেকটির ওজন এক কেজি করে। এ ৪৫ কেজি সোনার বাজার মূল্য ২২ কোটি টাকা। ঢাকা কাস্টমস হাউস সূত্র জানায়, আগাম তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। মালয়েশিয়া থেকে তিনজন সোনার বড় চালান নিয়ে আসছে এমন তথ্যে শুক্রবার রাত থেকেই বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে কাস্টমস প্রিভেন্টিভ টিমের সদস্যরা সাদা পোশাকে অবস্থান নেয়। রাতে আসা প্রত্যেকটি ফ্লাইটের যাত্রীদেরই নজরদারি করা হয় । কিন্তু সোর্সের দেয়া তথ্যের সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় রাতে কাউকে সন্দেহজনক আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি।

এরপর শনিবার সকালে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের (এমএইচ ০১০২) ফ্লাইটের যাত্রীরা যখন বোর্ডিং ব্রিজ দিয়ে বের হয়ে আসতে থাকেন, তখন আবারও নজরদারি শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে তাদের দেখা মেলে। এ সময় গ্রীন চ্যানেলের কাছাকাছি আসতেই তাদের গতিরোধ করা হয়। একজন একজন করে শরীর চেক করতেই দেখা মেলে কাক্সিক্ষত বস্তুর।

এ সম্পর্কে ঢাকা কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার এস এম সোহেল রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, শার্টের নিচে হাফ জ্যাকেটের পকেটে লুকানো ছিল সোনারবারগুলো। প্রত্যেকের শরীরেই একই কায়দায় লুকানো ছিল এ ৪৫ কেজি সোনা। এ সময় তাদের পাসপোর্ট চেক করে দেখা যায় এরা একাধিকবার বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। ধারণা করা হয়, প্রত্যেকবার একই কায়দায় তারা সোনা পাচারের কাজ করেছেন।

ওই সোনার মালিক কে জানতে চাইলে এস এম সোহেল রহমান বলেন, তারা নিজেদের শুধু ক্যারিয়ার বলে দাবি করেন। তবে এরা পেশাদার বাহক। উত্তরায় তাদের র্পূবপরিচিত এক ব্যবসায়ীকে এ চালান পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এদিকে মালয়েশিয়ান নাগরিক আটক হবার সংবাদ পেয়ে বিমানবন্দরে ছুটে যান ঢাকার মালয়েশিয়ান দূতাবাসের একজন সেকেন্ড সেক্রেটারি। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন। খোঁজ খবর নেন তারা সত্যিই চোরাচালানি নাকি ভাল মানুষ। তবে তিনি তাদের পক্ষে কোন ধরনের সহানুভূতি বা তদ্বির করেননি।

জানা যায়, রাতে হে ওই খং, জোহারি বিন হারুন ও মোঃ আজওয়ান বিন সালেহিনকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে কাস্টমস।

বিমানবন্দর থানার পুিলশ জানিয়েছে, আজ রবিবার তাদের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

এদিকে কাস্টমসসহ অন্য গোয়েন্দারা রাতেই উত্তরায় ওই ব্যবসায়ীর ঠিকানায় হানা দেয়। তাকেই এ সোনার মালিক বলে ধারণা করছে গোয়েন্দারা।