১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘শিবির কর্মীরা ছাত্রলীগ পরিচয়ে ঘুষ দিয়ে চাকরি নিচ্ছে’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ছাত্রলীগ পরিচয়ে শিবির কর্মীরা ঘুষের বিনিময়ে চাকরি ও আদালত থেকে জামিনের সুবিধা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি। দলটি অভিযোগ এনেছে- গুপ্তহত্যা, অপপ্রচার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে জামায়াত ও তার জঙ্গী মিত্ররা তাদের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের মুক্ত করতে চায়। ইসলামী ঐক্যজোট জামায়াত ও তাদের মিত্রদের তৎপরতার প্রতিবাদে মাসব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করেছে।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে বিআরটিসি ভবনে এক জরুরী বৈঠকে ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী কর্মসূচীর ঘোষণা দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- জোটের মহাসচিব মনিরুজ্জামান রাব্বানী, ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ জুলকার নাঈম, অতিরিক্ত মহাসচিব মাওলানা ফিরোজ আহমেদ, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আবু হানিফ, মাওলানা ইউসূফ সিদ্দিকী, ঢাকা মহনগরের আহ্বায়ক মাওলানা নূরে আলম, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেন, সোহেল আহমেদ পল্লব, এ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ নুজমুন সাকীব প্রমুখ।

মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, গুপ্তহত্যা, অপপ্রচার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে জামায়াত ও তার জঙ্গী মিত্ররা তাদের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের মুক্ত করতে চায়। এ জন্য তারা সব ধরনের অপকর্মের চেষ্টা চালাচ্ছে। দুই বিদেশী হত্যা নিয়ে ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান বলেন, দুই বিদেশী হত্যা নিয়ে আমাদের পশ্চিমা মিত্রদের কর্মকা- অনাকাক্সিক্ষত। এরকম ঘটনা তাদের দেশে অহরহ ঘটে। দুই বিদেশী হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা আইএস আইএস করেন তাদের মধ্যেই সমস্যা। দেশে কোন আইএস নাই। কিন্তু বিভিন্ন সরকারী অফিস আদালতে জামায়াত-শিবিরের লোকেরা চাকরি করে, তারাই সমস্যা তৈরি করছে। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি ঘুষ দুর্নীতিও বেড়েছে। আর এ সুবিধা নিচ্ছে ছাত্রশিবির। এরা ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে চাকরি নিয়ে নিচ্ছে। ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে আদালত থেকে জামিনও নিয়ে নিচ্ছে ঘুষ দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে আরও কঠোর হওয়ারও আহ্বান জানান মিছবাহুর রহমান। সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সমালোচনা করে ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুন্দরভাবে দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। আর ওনার ডানে-বামে বসে তারা বেসামাল কথাবার্তা বলছেন। যার জন্য মহাজোটের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলনের নামে বহু মানুষ মেরেছেন। এখন দেশ স্থিতিশীল। কোন কর্মসূচী খুঁজে পান না। আপনারা তো দেশের মানুষের জন্য কোন কথা বলেন না। বৈঠক শেষে জোটের জামায়াতে ইসলামী ও তার মিত্রদের গুপ্তহত্যা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মাসব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচী অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর ঢাকার জিগাতলায় মহানগরের কর্মী সমাবেশ, ১৯ অক্টোবর খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন, ২০ অক্টোবর রাজশাহী প্রতিনিধি সম্মেলন, ২২ অক্টোবর রংপুর প্রতিনিধি সম্মেলন, ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলন, ২৮ অক্টোবর সিলেট বিভাগের প্রতিনিধি সম্মেলন, ৩১ অক্টোবর বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন হবে। এছাড়া আছে ১৪ নবেম্বর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন ও ২১ নবেম্বর হবে জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন।