২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জনশক্তি রফতানি বাড়াতে কারিগরি প্রশিক্ষণে অর্থ সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক

  • বর্তমানে দেশে ৩৮ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু আছে

ফিরোজ মান্না ॥ বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানি বাড়াতে কর্মীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়ার কর্মসূচী হাতে নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এই কর্মসূচীতে আর্থিক সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দেন দরবার করার পর এই খাতে অর্থ সহযোগিতা দেয়ার জন্য রাজি হয়েছে। সংস্থাটি জনশক্তি রফতানি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, জনশক্তি রফতানি বাড়াতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চেয়ে ২০১৩ সালে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থার ‘রেমিটেন্স গ্রুপের’ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। ওই বৈঠকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসে কর্মীদের কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া যায় তা যাচাই করে। এরপর বিশ্বব্যাংক অর্থ সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি সম্প্রতি বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। কারণ জনশক্তি আমদানিকারক দেশগুলো এখন দক্ষ কর্মী ছাড়া অদক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী নন। কৃষি ও নির্মাণ কর্মীর কদর দিন দিন কমে আসছে। তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের কদর বেড়েছে। আমরা বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৮টি প্রশিক্ষণ সেন্টার স্থান করেছি। আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার জন্য আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জনশক্তি রফতানি বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচটি টিম কাজ করছে। বিশ্বের যে সব দেশে জনশক্তি রফতানির বাজার রয়েছে- ওই সব দেশে টিমগুলো পর্যায়ক্রমে যাচ্ছেন। তারা ওই সব দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি দেশ ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছে। জনশক্তির বাজার আছে এমন আরও কয়েকটি দেশে টিমগুলো যাবেন। এছাড়া অভিবাসী কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কর্মীরা ১৬১টি দেশে কাজ করছেন। এখন যে সব কর্মী বিভিন্ন দেশে চাকরি নিয়ে যাচ্ছেন-তাদের অর্ধেকের বেশি প্রশিক্ষিত। এ কারণে বাংলাদেশী কর্মীদের কদর প্রায় সব দেশেই রয়েছে। যদি সব কর্মীই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতো তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও বেড়ে যেত। কর্মীদের দক্ষ করতে জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হবে। বর্তমানে ৩৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বেসরকারী পর্যায়েও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। প্রশিক্ষিত কর্মীদের বেতনও বেশি। বাংলাদেশের শ্রমের সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরবের সঙ্গে ইতোমধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে কাজ করবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠিত ৫টি টিম গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড, মেক্সিকো, ব্রাজিল, জ্যামাইকা, পানামা, আর্জেন্টিনা ও চিলি ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, বাহারাইন, লেবানন, জর্ডান, সিরিয়া, মালয়েশিয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, জাপান, মিসর, ব্রুনাই, মরিসাস, ইরাক, ইয়েমেন, সাইপ্রাস, সুইডেন, আলজারিয়া, চীন, আফগানিস্তান, কানাডা, সোয়াজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউ গিনি, তুর্কেমেনিস্তান, হংকং, সেনেগাল, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জর্জিয়া, সিসিলি, যুক্তরাষ্ট্র, কঙ্গো, তিউনেশিয়া, তাজাকিস্তান, ত্রিনিদাদ এ্যান্ড টোবাগো, যুক্তরাজ্য, সলোমন আইল্যান্ড, ঘানাসহ আরও কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। তারা দেশগুলো সফর করে মন্ত্রণালয়ে এর আগে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে এই দেশগুলোতেও আরও বেশি কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হবে। মন্ত্রণালয় ওই দেশগুলোতে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

এদিকে, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য বেশ কয়েকটি কর্মসূচী চলছে। একটি কর্মসূচীতে ৩৪ হাজার দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বল্প মেয়াদে প্রশিক্ষণ দিয়ে ৭২ লাখ তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মী তৈরি করা হবে। এই ৭২ লাখ কর্মী সহজেই বিদেশে চাকরি নিয়ে যেতে পারবেন।