১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পঞ্চ রজনীর বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব শুরু ২৭ নবেম্বর

পঞ্চ রজনীর বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব শুরু ২৭ নবেম্বর
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সঙ্গীতানুরাগীদের জন্য সুসংবাদ। আবার রাজধানীতে ভেসে বেড়াবে উচ্চমার্গীয় সঙ্গীতের সৌরভ। আগামী ২৭ নবেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব বাংলাদেশ। চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চ রজনীর উৎসবে গানপ্রেমীরা সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত শুনতে পাবেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি ও প্রথিতযশা শিল্পীদের অনবদ্য সব পরিবেশনা। কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীতের সুর মূর্ছনায় ভাসাবেন ওস্তাদ, প-িত ও বিদুষীরা। তাদের সঙ্গে থাকবে এদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীদের পরিবেশনা। শিল্পী ও দর্শকের অংশগ্রহণের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উচাঙ্গ সঙ্গীতাসরে পরিণত হওয়া বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ও স্কয়ার নিবেদিত এবারের আসরটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে। গত বছরের উৎসবে এই মঞ্চ থেকেই না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন সঙ্গীতপ্রেমী এই চিত্রকর। অন্যবারের মতো এবারও ঢাকার আর্মি স্টেডিওয়ামে অনুষ্ঠিত হবে পাঁচ দিনের উৎসব।

শাস্ত্রীয় এই সঙ্গীত উৎসব উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনটি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের চার কৃতী শিশুশিল্পীর তালবাদ্য পরিবেশনায়। চার শিশুশিল্পী ফাহমিদা নাজনীন, মোহাম্মদ ভুবন, সুপান্থ মজুমদার ও পঞ্চম স্যানালের সঙ্গে লহরা বাজান তাদের শিক্ষক নীলেশ রণদেব। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনার পাশাপাশি উৎসবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। এতে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মুনায়েম, রবির প্রধান নির্বাহী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ ও স্কয়ার টয়লেট্রিজের বিপণন প্রধান মালিক মোহাম্মদ সাঈদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৭ নবেম্বর শুরু হওয়া পাঁচ দিনের উৎসব শেষ হবে পয়লা ডিসেম্বর। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়ে সুর-তাল লয়ের মূর্ছনা বইবে ভোর ৫টা পর্যন্ত। এবারের আয়োজনে কিছুটা ভিন্নতা যোগ করেছে নতুন লোগো। আয়োজনের সুবিধার্থে শ্রোতা-দর্শকদের জন্য হ্রাস পেয়েছে অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে নিবন্ধনের সুবিধা। এছাড়া উৎসবের তৃতীয় দিন থেকে রাত ১টায় বন্ধ হয়ে যাবে প্রবেশদ্বার। এবার শুধু অনলাইনে নিবন্ধন করেই উপভোগ করতে হবে এই সঙ্গীতাসর। নবেম্বর মাসের শুরু থেকে সীমিত সময়ের জন্য চলবে অনলাইন নিবন্ধন। আর যাদের ইন্টারনেট সুযোগ নেই তারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ধানম-ির বেঙ্গল শিল্পালয়ম, হযরত শাহাজালাল বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বেঙ্গল সেন্টার, বনানীর লখনৌ, উত্তরার কুশল সেন্টার ও কাওরানবাজারের ডেইলি স্টার-বেঙ্গল আর্টস প্রিসিঙ্কটে নিবন্ধন করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তাদের কথা ॥ বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব দেশের তরুণদের মাঝে দারুণ আলোড়ন ছড়িয়েছেÑএমন কথা বললেন অনেকেই। বক্তারা বলেন, প্রথম উৎসবটি ছিল তিন দিনের। পরবর্তীতে শ্রোতার চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে এটি পরিণত হয় পাঁচ দিনের উৎসবে। পৃথিবীর কোথাও পাঁচ রাত ধরে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের এমন উৎসব হয় না। দেশের মানুষ এখন অপেক্ষা করে থাকে এই উৎসবটির জন্য। সুরের স্রোতে ভেসে সারারাত জেগে কাটিয়ে দেয় হাজার হাজার শ্রোতা।

গল্প-গানে রবীন্দ্রনাথ ॥ কণ্ঠ ও যন্ত্রশিল্পীরা বসে আছেন মঞ্চের সামনের সারিতে। আর পেছনে ভিডিও প্রজেক্টরে দৃশ্যমান হলো রবীন্দ্রনাথের যৌবনকালের ছবি। এর পর শিলাইদহের কুঠিবাড়ী, পশ্চিমবাংলার শান্তিনিকেতনের ছবি। তারপর অসীম জলরাশির মাঝে জেগে উঠল শেষ বিকেলের রক্তিম সূর্য। বেজে উঠল মোহনবাঁশি, বেহালা আর যত যন্ত্রসুরের ঐকতান। সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীরা সংস্কৃত ভাষায় গেয়ে উঠলেন ঠাকুরের ‘আনন্দালোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’ গানটি। এরপর একটু না থেমেই বাংলায় শিল্পীরা পরিবেশন করেন একই গান। গান শেষে আবার যন্ত্রসুরের ঐকতান।

সঙ্গীত সংগঠন উত্তরায়ণের ‘গল্পে-গানে রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক আয়োজনের শুরুটা ছিল এমনই মনোমুগ্ধকর। মঞ্চসজ্জা, পোশাক পরিকল্পনায়ও ব্যতিক্রমী আয়োজন ছিল এটি। শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগে ভিড় জমিয়েছিলেন রবীন্দ্রপ্রেমী দর্শক-শ্রোতৃকুল। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ও উত্তরায়ণের পরিচালক লিলি ইসলামের গবেষণা, গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানটির শিল্পনির্দেশনা দেন নাসিরুল হক খোকন।

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার হীরালাল সেন স্মরণ ॥ উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকার ও বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা হীরালাল সেন। ভারতের প্রথম রাজনৈতিক চলচ্চিত্র তিনিই নির্মাণ করেছিলেন। এই কৃতী মানুষের সম্মানে ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ শনিবার বিকেলে ‘হীরালাল সেন স্মারক’ বক্তৃতার আয়োজন করে । ‘চলচ্চিত্রে প্রতিবাদ এবং নির্মাণশৈলীর নতুনত্ব : বাংলাদেশের রাজনৈতিক চলচ্চিত্র’ শীর্ষক বক্তৃতা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাদির জুনাইদ।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, চলচ্চিত্র সংসদকর্মী মাহবুব জামিল ও সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মুনিরা মোরশেদ মুন্নী । স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মামুন।

স্মারক বক্তৃতায় ড. নাদির জুনাইদ বলেন, বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্র তৈরি হবে, কিন্তু সব চলচ্চিত্রেই বিনোদনধর্মী উপাদান থাকতে হবে, এমন ধারণা অগ্রহণযোগ্য। বিনোদননির্ভর বাণিজ্যিক ছবিতে সমাজের জটিল সমস্যাগুলো থেকে দর্শকের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়া হয়। তবে সমাজে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান গ্রহণে মানুষকে আগ্রহী করে তোলা সমাজের স্বার্থেই জরুরী।

তিনি আরও বলেন, ষাটের দশকে পশ্চিমবাংলার তিন গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক আর মৃণাল একের পর এক আকর্ষণীয় নির্মাণশৈলীর ছবি তৈরি করেছেন। সেই সঙ্গে নিজেদের ছবিতে দিয়েছেন রাজনৈতিক বক্তব্য। দেশভাগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভও প্রকাশ পায় সেই সময়ের ছবিগুলোয়। তবে ষাটে পাকিস্তানী বৈষম্য আর শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালীর প্রতিবাদের ফলে যে রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল সেই পরিস্থিতি তুলে ধরার কোন চেষ্টাই দেখা যায়নি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তৈরি বাংলা চলচ্চিত্রে। এমনকি রূপকের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচনা প্রদানেও তারা সচেষ্ট হননি।

অন্য বক্তারা বলেন, হীরালাল সেন উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকার হলেও এ গুণী মানুষটিকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।

২০১৭ সালে হীরালাল সেনের শততম প্রয়াণবার্ষিকী। প্রয়াণবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে সকলের প্রতি সহায়তার আহ্বান জানান ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের কর্তাব্যক্তিরা।

বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ॥ দেশের ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব প্রয়াত বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য। শনিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে তার জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। জন্মদিন উদ্্যাপনের এ আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পালন করা হয় ১ মিনিটের নীরবতা। এর পর তার প্রতিকৃতির সামনে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। পাঠ করা হয় দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের রচিত কবিতা থেকে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রানা দাশ গুপ্ত। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কাজল দেবনাথ। অধ্যাপক অজয় রায়ের সভাপতিত্বে দেবেশ ভট্টাচার্যকে নিবেদিত আলোচনায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম।

নির্বাচিত সংবাদ