১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে আটক জেএমবি সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মাকসুদ আহমেদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবির সদস্যরা কিভাবে আবারও সংগঠিত হচ্ছে এমন তথ্য বেরিয়ে আসছে রিমান্ডে। চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে গত সোমবার রাতে গ্রেফতার হওয়াদের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। কর্ণফুলী থানার তিনটি মামলায় পৃথক ৫ দিন করে মোট ১৫ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে মহানগর ডিবি অফিসে। গ্রেফতারকৃত এ ৪ জঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। এর মধ্যে শুধু জেএমবিই নয়, জঙ্গীরা কিভাবে সংগঠিত হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনার তথ্যও উঠে আসছে।

গোয়েন্দা বিভাগে রিমান্ডে থাকা জেএমবির চার সদস্যদের উঠে এসেছে সদস্য সংগ্রহের আগে তারা টার্গেট করে নেয় কাকে কিভাবে কখন কোথায় ভালভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা যায়। এটা ছিল পুরাতন সদস্যদের টিমের প্রথম করণীয়। নির্ভুল পরিকল্পনা তৈরির মাধ্যমে টিমের যোগ্য লিডার তৈরি করা ও উপযুক্ত টিম তৈরির মধ্য দিয়ে কঠোরভাবে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলা। টিমের সদস্যদের মধ্যে কর্মবণ্টনসহ টিমের ব্যাকআপ নিয়েও আলোচনা হয় নিজেদের মাঝে। তবে নতুন সদস্য টার্গেট করার পর ধীরে ধীরে প্রতিনিয়ত ওই সদস্যের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের ধ্যান ধারণা ও চিন্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কয়েক দফা যোগাযোগের পর টার্গেটকৃত সদস্য বেশিরভাগ সময় অনায়াসে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে ওই সদস্যকে অর্থ সহায়তাও দেয়া হয়।

এদিকে, সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা নতুনদের আকর্ষণ বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ বিতরণের মধ্য দিয়ে সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ অক্ষুণœ রাখা হয়। কোনভাবেই তাড়াহুড়া না করে সময়কে মূল্য দিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করার মধ্য দিয়ে ক্রমশ জঙ্গী সংগঠনের সদস্যরা একত্রীভূত হচ্ছে। রিহার্সেলের মাধ্যমে জঙ্গীরা পূর্ববর্তী আলোচনার বিষয়টি স্মরণের মধ্য দিয়ে নিজেদের বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি যথাসময়ে যে কোন কার্য সম্পাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন দেশের বইয়ের ব্যবহার ও জীবনীমূলক বই নিজেদের মাঝে ফটোকপি আকারে বিতরণের মধ্য দিয়ে একই ধরনের ধ্যান ধারণা অর্জন করছে।

এ ব্যাপারে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের এডিসি বাবুল আকতার জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, জেএমবি সদস্যরা কিভাবে সংগঠনের সদস্য বাড়াচ্ছে এমনকি তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনার বিষয়টিও জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে শুধু চট্টগ্রামেই নয়, দেশব্যাপী বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে জেএমবির সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা সেসব বিষয়ে তথ্য আদায়ের চেষ্টা চলছে।

মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবারের ঘটনায় কর্ণফুলী থানাধীন খোয়াজ নগর এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় জেএমবির বিস্ফোরক বাহিনীর প্রধান জাবেদ গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহতের পর আদালতে চার জঙ্গীকে সোপর্দ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এ চার জঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদে আদালত কর্ণফুলী থানার প্রত্যেক মামলায় ৫ দিন করে তিনটি মামলায় ১৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের আসামিদের মধ্যে রয়েছে জেএমবির চট্টগ্রাম শাখার সেকেন্ড ইন কমান্ড বুলবুল আহমেদ প্রকাশ ফুয়াদ, সদস্য সুজন প্রকাশ বাবু ও শাহজাহান প্রকাশ কাজল। উল্লেখ্য, এর মধ্যে সুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে গত বুধবার। এ জবানবন্দীতে বায়েজিদ থানাধীন ল্যাংটা ফকির ও তার খাদেমকে ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে সুজন প্রকাশ বাবু।

জেএমবির এ চার সদস্য বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগে ১৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। রিমান্ডে তাদের পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি কিভাবে নিজেদের সংগঠিত করছিল সে বিষয়েও তথ্য দিয়েছে। শুধু তাই নয়, সংগঠনের সদস্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের কর্ম পরিকল্পনাসহ নিজেদের তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের বিষয়েও বিভিন্ন পথ প্রদর্শকের বইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও গ্রেনেড বিস্ফোরণে জাবেদ মারা গেলেও জাবেদের কর্মকৌশল ও বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কৌশল তারা আয়ত্ত করেছে। বিস্ফোরক বিভাগের প্রধান জাবেদের মাধ্যমেই গ্রেনেড তৈরি থেকে নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ পেয়েছে এসব জঙ্গী। নিজেরাই শুধু কর্ম পরিকল্পনা ও তাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়ে গবেষণার মধ্যে ব্যস্ত নয়, পাশাপাশি তারা তাদের সংগঠনের সদস্য কালেকশনেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। এসব কৌশলের মধ্যে রয়েছে সাহায্য-সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছোটখাট চা চক্রে অংশ নেয়া।