১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্যুত কেন্দ্রের সেঞ্চুরি

আশুগঞ্জে তিনটি কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্রের ক্ষেত্রে সেঞ্চুরি পূর্ণ করল অর্থাৎ দেশে বিদ্যুত কেন্দ্রের সংখ্যা এখন এক শ’। শততম উৎপাদন কেন্দ্রই বলে দেয় সরকারের উন্নয়নযাত্রা রয়েছে অব্যাহত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কেন্দ্র উদ্বোধনকালে যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে মানুষের জন্য অপরিহার্য ু বিদ্যুতের ঘাটতি যে অচিরেই পূরণের পথে যাচ্ছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গীকারের ‘রূপকল্প ২০২১’-এর অন্যতম ঘোষণা সবার জন্য বিদ্যুত সুবিধা নিশ্চিত করার সেই পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল সরকার।

বিদ্যুত নিয়ে কম আলোচনা-সমালোচনা হয়নি। বিএনপি জামায়াত জোট সরকার বিদ্যুত খাতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সদিচ্ছা দেখানো তো দূরে থাক বরং এক্ষেত্রে দুর্নীতির চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছে। ‘খাম্বা দুর্নীতি’ আজও সাধারণের মুখে ফেরে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৭৩টি বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করে। আগে যেখানে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ বিদ্যুত সুবিধার বাইরে ছিল এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশের ওপরে, যা সরকারের অব্যাহত উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল। শতভাগ মানুষকে বিদ্যুত সুবিধার আওতায় আনা সময়ের ব্যাপার। রূপকল্প-২০২১-এ শতভাগ মানুষকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা সাফল্যের পথে। কেননা, স্থাপনকালীন উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয়েছিল সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াট। তবে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। অবশ্য গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজার মেগাওয়াটের অধিক। ফলে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকে। যে যা-ই বলুক, এ ঘাটতি রাতারাতি পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের যে পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে তা দ্রুত সম্ভব। যে হারে উৎপাদন হচ্ছে ২০২১ সালে ২০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন পার করা সম্ভব।

এ কথা অনস্বীকার্য যে, বিদ্যুত সুবিধা শতভাগ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা বিরাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও দেখা দিতে পারে। বর্তমান বিদ্যুত উৎপাদনের সিংহভাগই প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর। প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এখন থেকেই জরুরী। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর জোর দেয়া যেতে পারে। যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে, রফতানির ক্ষেত্রে দেশজ চাহিদা পূরণের দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কয়লানির্ভর বিদ্যুতের বিষয়টি এখনই ভাবা দরকার। দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভায় রয়েছে প্রচুর বর্জ্য। এসব বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তরিত করে ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুত উৎপাদন করা যেতে পারে। অন্যদিকে আশার আলো জাগিয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুত। রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্রের অগ্রগতি লক্ষণীয়। এসবকে ছাপিয়ে সবচেয়ে আশার অফুরন্ত দিগন্ত উন্মোচন করেছে সৌরবিদ্যুত। সরকার এসব বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিলে বিদ্যুত সঙ্কটের মতো বিড়ম্বনায় পড়বে না দেশ এবং যেসব পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার করেছেন তা পূরণ হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।