২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশী নাগরিকের নিরাপত্তা

অতিথিপরায়ণতার জন্য বাঙালীর সুনাম সুবিদিত। বিদেশী অতিথি হলে তো কথাই নেই। আতিথেয়তার ধরন বদলে যায়, বাড়ে আদর-আপ্যায়ন। সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের কর্ণধার পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তার সুনাম করে গেছেন। এমন একটি দেশে মাত্র ক’দিনের ব্যবধানে দু-দু’জন বিদেশী নাগরিকের অপমৃত্যুর ঘটনায় সরকারের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষও দুঃখিত। অর্থনীতির সব সূচক যখন ভাল অবস্থানে রয়েছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ; তখন একটা ইস্যু তৈরি করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম নষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে একটি মহল- তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অপপ্রচারণা চালানো হচ্ছে যাতে করে বিদেশী নাগরিকদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং বাংলাদেশ ভ্রমণে তারা বিরত থাকেন। ইতালি ও জাপানের দুই নাগরিক হত্যার বিষয়টিকে ‘গভীর চক্রান্ত’ উল্লেখ করে শুক্রবার তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত চলছে, কয়েকদিন পরই দেশবাসী দেখতে পারবে কারা এর সঙ্গে জড়িত।’

সচেতন নাগরিকরা জানেন- বাংলাদেশ ভ্রমণে বিশ্বের কোন দেশেরই রেড এ্যালার্ট নেই। কয়েকটি দেশ এখানে ভ্রমণ সতর্কবার্তা জারি করলেও তাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নেই বাংলাদেশ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ১৩টি দেশে তাদের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ওই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। আর অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের জন্য যে ধরনের ভ্রমণ সতর্কবার্তা দিয়েছে, একই ধরনের সতর্কবার্তা রয়েছে আরও ৫৭টি দেশের ওপর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরের ভ্রমণ তালিকাতেও বাংলাদেশের প্রতি রেড এ্যালার্ট নেই অর্থাৎ বাংলাদেশ বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটির সমাজব্যবস্থার দিকে তাকানো যাক। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল-কলেজে রক্তাক্ত অধ্যায়ের সর্বশেষ সংযোজন ওরেগন হত্যাকাণ্ড। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরা সংস্থা ‘ম্যাস শূটিং ট্রাকার’-এর তথ্যানুযায়ী ২০১২ সালের স্যান্ডি হুক হত্যাকাণ্ডের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ১৪২টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আর সব মিলিয়ে ২০১৫ সালেই নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। এ বছরের ২৭৪ দিনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২৯৪টি এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এসব হামলার মধ্যে ৪৫টি সংঘটিত হয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বাংলাদেশে কখনও কি এ জাতীয় একটি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে? দু’জন বিদেশী নাগরিকের অপমৃত্যু নিয়ে যারা পানি ঘোলা করতে চায়, আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোয় তুচ্ছ ঘটনায় গুলিবর্ষণ এবং সেসব দেশে বসবাসকারী বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য তারা কি মায়াকান্নায় লিপ্ত হয়!

বাংলাদেশ জঙ্গী রাষ্ট্র নয়। এ দেশের সমাজব্যবস্থায় গোত্র বা সম্প্রদায়গত এমন বিভেদ অনুপস্থিত, যা রক্তাক্ত অধ্যায়ের উদাহরণ সৃষ্টি করবে। তারপরও এই দেশটির ললাটে কারা এঁটে দিতে চায় জঙ্গী রাষ্ট্রের তকমা? বলাবাহুল্য, যারা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করে দেয়ার প্রয়াসী, যারা দেশটির অগ্রযাত্রায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে, যারা চায় না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কালিমামুক্ত হোক; যারা চায় না দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক, অর্থনীতির পালে লাগুক হাওয়া, গরিব মানুষ দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে সুখে-শান্তিতে কালাতিপাত করুক- সেই প্রতিক্রিয়াশীল, স্বাধীনতাবিরোধী, গণতন্ত্র নস্যাতকারী চক্রই আজ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টায় ব্যস্ত। এদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ কাজে তাদের সঙ্গে বাইরের কোন দেশ বা জঙ্গী সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তাও অনুসন্ধান করে দেখা দরকার।