২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবসর ভাবনায় রঙ্গনা হেরাথ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্রিকেট ছাড়ার কথা ভাবছেন শ্রীলঙ্কান বোলিং আক্রমণের পুরোধা রঙ্গনা হেরাথ। মুত্তিয়া মুরলিধরনের বিদায়ের পর টেস্টে যিনি একাই টানছিলেন দলটিকে। ২০১৬ সালে (মার্চ-এপ্রিল) ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি২০ বিশ্বকাপ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৮ বছরে পা দেয়া বাঁহাতি অফস্পিনার। বয়সের বিচারে ‘বুড়ো’দের কাতারে নাম লেখালেও, সে অর্থে ক্যারিয়ার দীর্ঘ নয়। তুমুল প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও শুরুর দিকে গ্রেট মুত্তিয়া মুরলিধরনের ছায়ায় ঢাকা পড়েছিলেন হেরাথ। ১৯৯৯-এ মুরলি থাকাকালে টেস্ট অভিষেক হলেও খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ২০১০ সালে মুরলি অবসরে যাওয়ার পর হয়ে উঠেছেন লঙ্কান টেস্ট স্কোয়াডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রঙিন পোশাকের ওয়ানডে-টি২০তে অভিষেক যথাক্রমে ২০০৪ ও ২০১১ সালে। বয়স হয়েছে, দলের বোঝা হওয়ার আগেই সরে যেতে চাইছেন হেরাথ।

‘আমরা যা বয়স তাতে ১০-১৫ বছর আগের মতো পারফর্ম করা সম্ভব নয়। এ সময়ে অনেকবার ইনজুরির সঙ্গে লড়তে হয়েছে। চল্লিশের কাছাকাছি গিয়ে আপনি ফিটনেসের নিশ্চয়তা দিতে পারেন না। এরই মধ্যে সীমিত ওভারের ম্যাচগুলো থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছি। চেষ্টা করছি বেশি বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার এবং দলের জন্য নিজের সেরাটা বিলিয়ে দেয়ার।’ বলেন হোরাথ। তার মানে সাদা পোশাকে আরও কিছুদিন চালিয়ে যাবেন? এমন প্রশ্নে জবাবে কুরুনেগালা থেকে উঠে আসা তুখোড় এই ঘূর্ণি তারকা বলেন, ‘আমি মনে মনে অনেকটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি, ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগামী টি২০ বিশ্বকাপ খেলে সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানাব। ক্যারিয়ারজুড়ে সবসময় দলকে শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করেছি। ২০১৬Ñ মেগা ইভেন্টের সময় আমার বয়স আরও বেড়ে যাবে। এরপর চাইলেও হয়ত শতভাগ দিতে পারব না। দলের বোঝা হয়ে ওঠার আগেই সরে যেতে চাই।’

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বছরের শুরুতে হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপে সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন হেরাথ। এরপর আর রঙিন পোশাকে মাঠে নামা হয়নি। টি২০ খেলেছেন তারও আগে। গত বছর (২০১৪), বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে। ওই ম্যাচ জিতে ট্রফি নিয়ে ফিরেছিলেন। একই ম্যাচের মধ্য দিয়ে টি২০ থেকে বিদায় নেন দুই গ্রেট ব্যাটসম্যান মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা। দেখতে দেখতে আরেকটি বিশ্বকাপ দ্বারে। মাঝে কোন টি২০ খেলা হয়নি। স্বভাবতই তাই প্রশ্ন থাকছে, ভারতে টি২০ বিশ্বকাপে সুযোগ পাবেন তো? সময়ই তার জবাব দেবে। ২০১১ সালে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করান হেরাথ। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘অপারেশনের প্রায় চার বছর হতে চলল। কিন্তু আমি এখনও হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করি। বোলিংয়ের সময় ব্যথাটা বেড়ে যায়! তাই টি২০ বিশ্বকাপের পর আর ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে চাই না।’

৬৩ টেস্ট, ৭১ ওয়ানডে ও ৯ টি২০তে স্পিনার হেরাথের শিকার ২৭৮, ৭৪ ও ১২ উইকেট। টেস্টে ইনিংসে সেরা ৯/১২৭। ৫ উইকেট ২২ বার। টি২০তেও একবার ৫ শিকারের নজির রয়েছে। মাহেলা-সাঙ্গার বিদায় হারে হারে টের পাচ্ছে লঙ্কানরা। ঘরের মাটিতে পাকিস্তান ও ভারতের কাছে হেরেছে টানা দুই টেস্ট সিরিজে। নির্ভরযোগ্য হেরাথও চলে গেলে দ্বীপদেশটির ক্রিকেটের যে কি অবস্থা হবে, সেটি ভেবে অনেকেই চিন্তিত।