২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেছাতে পারে ফিফা সভাপতি নির্বাচন!

  • বদনাম থেকে বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ব্লাটার-প্লাতিনি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নানামুখী চাপে পড়ে অবশেষে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রায় দেড় যুগ পর সেপ ব্লাটারের শাসনমুক্ত হতে চলেছে। দুর্নীতির কারণে ফিফার এ সভাপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারী অপরাধের তদন্ত শুরুর পর থেকেই পদত্যাগের আহ্বান এসেছে বিভিন্ন দিক থেকে। অবশেষে ফিফার নৈতিক কমিটি ব্লাটারকে সবধরনের ফুটবল কর্মকা- থেকে ৩ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেছেন ব্লাটার। এছাড়া ব্লাটারের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ নেয়ার কারণে উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনির বিরুদ্ধেও একই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী ফিফা সভাপতি নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মাত্র চার মাস আছে। প্লাতিনিও আপিল করেছেন। তিনি যদি আপিলে জিতে যান সেক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আর এ কারণে এখন ফিফা চিন্তা করছে ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ফিফা সভাপতি নির্বাচনের তারিখ পেছানোর। সিদ্ধান্ত নিতে আগামী সপ্তাহে ফিফার নির্বাহী কমিটি সেজন্য একটি জরুরী সভায় বসবে।

ব্লাটার আগেই জানিয়েছেন পরবর্তী কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে চান তিনি। সভাপতি নির্বাচনও দেয়া হয়েছে সে সময়। নতুন সভাপতি দায়িত্ব নেয়ার পরই দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ততোদিন থাকতে পারলেন না। সরে যেতেই হলো। নৈতিক কমিটি তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বরখাস্ত করেছে ব্লাটারকে ফিফা থেকে। তবে এটিকে ‘অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আপিল করেছেন ব্লাটার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফিফার জনসংযোগ কর্মকর্তা ক্লস স্টয়েকার। আপিলে আবারও ফেব্রুয়ারিতে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তিনি। ব্লাটারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী ফিফা সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে ফেবারিট প্রার্থী প্লাতিনি। কিন্তু তিনিও এখন সংশয়ে পড়ে গেছেন। কারণ যে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত শুরু হয়েছে ব্লাটারের বিরুদ্ধে সেটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এ উয়েফা সভাপতিরও। সুইস এ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে বলা হয়েছে প্লাতিনিকে ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক ঘুষ প্রদান করেছেন ব্লাটার। যদিও এসব অস্বীকার করেছেন ব্লাটার এবং প্লাতিনি উভয়ে। ব্লাটারের আইনজীবীরা এমনকি বলেছেন এটা মিথ্যা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট তথ্য আছে তাদের কাছে।

ব্লাটার এখন অতীত হয়ে যাওয়ার পথে। তাই তাকে নিয়ে মাথা ঘামানোর আর কিছু নেই বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন ফেডারেশনের। তবে প্লাতিনি হয়ে যেতে পারেন ফুটবলের পরবর্তী বিশ্বনেতা। কারণ আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সভাপতি নির্বাচনের অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি। আর মাত্র চার মাস আছে নির্বাচনের। কিন্তু প্লাতিনি যেহেতু নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সময় প্রয়োজন হবে প্লাতিনির। তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণ হতে পারে। চলতি মাসের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রার্থিতার মনোনয়ন নেয়ার শেষ সময়। ইতোমধ্যেই মনোনয়ন নিয়েছেন প্লাতিনি। তার অবস্থানটাও বেশ দৃঢ়। ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে প্লাতিনিকেই মনে করছেন অনেকে। সে কারণে আপাতত নির্বাচন পেছানো ছাড়া উপায় নেই। কারণ আরেক শক্ত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী দক্ষিণ কোরিয়ার ধনকুবের চুং মং জুনকে ৬ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ব্লাটারকে বরখাস্তের পর ফিফার অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে এসেছেন ইসা হায়াতু।

এসব কারণে এবার ফিফা নির্বাহী কমিটি জরুরী একটি সভার আহ্বান করেছে আগামী সপ্তাহে। জরুরী এ মিটিংয়ের মূল এজেন্ডা থাকবে সভাপতি নির্বাচন পেছানো। ইতোমধ্যেই প্লাতিনির পক্ষে ইংল্যান্ডের ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন (এফএ) পদক্ষেপ নিয়েছে। উয়েফার আরও ৫৪ সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থা নেতারা মিলিত হচ্ছেন ফিফা নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য। সেখানেও নির্বাচন পেছানোর বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে। এফএ মুখপাত্র জানিয়েছেন প্লাতিনির সবচেয়ে কড়া সমর্থক হিসেবে আছে এফএ এবং তারা আরও কিছু সদস্য দেশকে নিজেদের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়েছে।