২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘হতে চাই দেশের প্রথম মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টার’

  • শেখ রাসেল দাবায় অটোরিক্সাচালক বাবার দাবাড়ু কন্যা খুশি আক্তারের কৃতিত্ব

রুমেল খান ॥ ‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান/ তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্টের সমান/ কণ্টক মুকুট শোভা-দিয়াছ তাপস/ অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস?/ উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি; বাণী ক্ষুরধার/ বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার’ ... বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেই কবে লিখে গিয়েছেন ‘দারিদ্র্য’কে নিয়ে এই অবিস্মরণীয় কবিতা, বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার ১৪ বছরের এক দারিদ্র্য পরিবারের বালিকা খুশি আক্তার দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার সুকঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। তার লড়াইয়ের অস্ত্র হচ্ছে একটি খেলা, যার নাম ‘শতরঞ্জ’। আরও সহজ করে বললে দাবা। অষ্টম শ্রেণীর এই মেধাবী ছাত্রী (স্কুলের নাম বিবি মরিয়ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) আর কোন খেলা জানে না। অন্য কোন খেলা সামান্যতম খেলার চেষ্টাও করেনি। সে শুধু জানে একটি খেলাই, সেটি দাবা! এই খেলাই তার ধ্যান-জ্ঞান ... সবকিছু।

শনিবার শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহযোগিতায় স্কুলে অধ্যয়নরত ছাত্রদের জন্য শেখ রাসেল দাবা প্রতিযোগিতার খেলা শনিবার বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের ক্রীড়া কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বালিকা বিভাগের খেলায় (১৫ মিনিটের র‌্যাপিড দাবা) অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় খুশি আক্তার। শিরোপার স্বাদ পাওয়ার পর কথা হয় খুশির সঙ্গে। ‘চ্যাম্পিয়ন হব, এই মনোভাব নিয়ে খেলেছি। খুব ভাল লাগছে। এজন্য ধন্যবাদ জানাই আমার কোচ রুমি স্যারকে।’ মাত্র বছরখানেক ধরে হলো খুশি দাবা খেলা আয়ত্ত করেছে। শুধু আয়ত্ত করাতেই সীমবাদ্ধ নয় সে, এই নিয়ে নিজের সাফল্যের ঝুড়িতে ভরেছে চার কৃতিত্ব। তিন চ্যাম্পিয়ন এবং একটি রানারআপ পদক! খুশিকে নিয়ে তার কোচ নাজমুল হাসান রুমি (নাহার চেস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও প্রশিক্ষক) বলেন, ‘আমার অধীনে এখন ২৫-৩০ স্কুলের ছেলেমেয়ে দাবা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। কিন্তু খুশি মাত্র এক বছরেই এত দ্রুত উন্নতি করছে, আমি সত্যিই বিস্মিত। আমার বিশ্বাস, আগামী বছরেই ও জাতীয় মহিলা দাবায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে এবং ভাল ফল করবে। ওর মধ্যে আগ্রহ ও শেখার চেষ্টা আছে, যা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। তাছাড়া ও অনেক পরিশ্রম করতে পারে ও চাপ নিয়ে খেলতে পারে।’ রুমির দাবা স্কুল থেকে খুশির বাসা খুব কাছেই, হাঁটা দূরত্বের। রোজ রাত ৮-১০টা এবং ছুটির দিনে সকাল ৯টা-সাড়ে ৩টা এবং বিকেল ৪টা-রাত ৮টা পর্যন্ত দাবা প্রশিক্ষণ নেয় সে। ২০১৪ সালে খুশি র‌্যাপিড রেটিং দাবা প্রতিযোগিতায় জাতীয় দাবাড়ু কিশোয়ারা সাজরিন ইভানাকে হারিয়ে দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এখন পর্যন্ত এটাই হচ্ছে দাবায় খুশির সবচেয়ে বড় জয়। ‘আগামীতে আমি খেলতে চাই রানী হামিদের সঙ্গে এবং হারাতে চাই তাকে।’ খুশির দৃঢ়প্রত্যয়ী কণ্ঠ। দাবা নিয়ে খুশির ভবিষ্যত পরিকল্পনাটাও অনেক বড়, ‘আমি হতে চাই বাংলাদেশের প্রথম মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টার!’ এবার শেখ রাসেল দাবায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া খুশির আগের সাফল্যগুলো হলো ২০১৪ সালে নাহার চেস একাডেমি ঈদ পুনর্মিলনী দাবায় চ্যাম্পিয়ন, ২০১৫ সালে ভাষা দিবস দাবায় চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১৪ সালে দাবা স্কুল জিনিয়াস দাবায় (নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত) রানারআপ হওয়া। দাবায় এত অল্প সময়ে এত সাফল্য পেলেও কোনবারই বিজয়ী হিসেবে প্রাইজমানি বা অর্থ পুরস্কার পায়নি বলে এ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে খুশি। খুশির কোচ রুমি নিজেও একজন আন্তর্জাতিক রেটেড দাবাড়ু। ১৮০৬+ রেটিংও আছে তার।