১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে গড় লেনদেন কমেছে

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়লেও কমেছে সূচক। আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বেড়েছে ৮.২৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে চার কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭৪৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। গত সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সেই হিসাবে গত সপ্তাহে লেনদেন বাড়লেও গড় লেনদেন কমেছে ১৩.৩৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে চার কার্যদিবসে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে তা হয়েছে ৩৭৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসের মোট লেনদেনের ৯২.১৩ শতাংশ হয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে। এছাড়া ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩.০৯ শতাংশ, ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩.৭০ শতাংশ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ০.৮৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।

এদিকে আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেও ডিএসইর সূচকগুলোর পতন হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ৭৫.৬০ পয়েন্ট। আর এ পতনের ফলে ডিএসইর এ সূচকটি ফের ৪ হাজার ৮০০ পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে। চার হাজার ৮৫৬.৯৭ পয়েন্ট দিয়ে সপ্তাহের লেনদেনে শুরু হলেও সপ্তাহ শেষে তা ৪ হাজার ৭৮১.৩৬ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছ। এছাড়া ডিএসই৩০ সূচকের ৩৫.২৭ পয়েন্ট ও শরিয়াহ সূচকের ৩২.৪১ পয়েন্টের পতন হয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩২৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৯টির, কমেছে ২২১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির দর। এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণও কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ১৪৭ কোটি টাকায়। সপ্তাহ শেষে বাজার মূলধন কমার হার ২.৩১ শতাংশ।

এদিকে গত সপ্তাহে তিনটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ফার কেমিক্যাল ২৭ শতাংশ বোনাস, পেনিনসুলা চট্টগ্রাম ১০ শতাংশ নগদ ও কাসেম ড্রাইসেল ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

সপ্তাহজুড়ে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১০২ কোটি ৭৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকার। সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৫.৪২ শতাংশই লেনদেন হয়েছে এ কোম্পানির। আগের সপ্তাহের তুলনায় কোম্পানির লেনদেন বেড়েছে ৩.৪৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৬.২৬ শতাংশ লেনদেন কমে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে ফার কেমিক্যাল। ৫৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এ কোম্পানির, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩.১৫ শতাংশ। লেনদেনের তৃতীয় স্থানে থাকা সাইফ পাওয়ারটেকের সপ্তাহজুড়ে ৫৬ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে- গ্রামীণফোন, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, বিএসআরএম স্টিল মিলস, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, আমান ফিড।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো- গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, ব্র্যাক ব্যাংক, ডিবিএইচ মিউচুয়াল ফান্ড, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, লিগ্যাসি ফুটওয়ার, এমবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, ট্রাস্ট ব্যাংক ও এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো- ফার কেমিক্যাল, অলটেক্স ইন্ড্রাস্টিজ, এ্যাপেক্স ফুডস, বিচ হ্যাচারী, লিব্রা ইনফিউশন, আমান ফিড মিলস লিমিটেড, পেনিনসুলা চট্টগ্রাম, গ্রামীণফোন, সি এ্যান্ড এ টেক্সটাইল, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।